Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছাব্বিশের নির্বাচনে হাতছাড়া দুবরাজপুর আসনটি পুনরুদ্ধারে মাঠে নামল তৃণমূল

ছাব্বিশের নির্বাচনে হাতছাড়া দুবরাজপুর আসনটি পুনরুদ্ধারে মাঠে নামল তৃণমূল
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: একুশের নির্বাচনে জেলার ১০টি আসনে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস জয় পেলেও দুবরাজপুর হাতছাড়া হয়েছিল। একমাত্র দুবরাজপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল পরাস্ত হয়। প্রায় ২৮০০ ভোটের ব্যবধানে ওই আসনে বিজেপি জয়লাভ করে। এবার নজরে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনে দুবরাজপুরের আসনটি পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ঘাসফুল শিবির। শাসক শিবিরের দাবি, একুশের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তীকালে পঞ্চায়েত ও লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির তুলনায় প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা অনেকটাই বাড়িয়েছে। ছাব্বিশের নির্বাচনেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, জয় আরও সুনিশ্চিত করতে গোটা জেলার পাশাপাশি ওই বিধানসভা এলাকায় দলের ভিত আরও মজবুত করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে নেতৃত্ব কাজ শুরু করেছে। একদম বুথস্তর থেকে দলকে চাঙ্গা করে তোলার পাশাপাশি রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে ঘাসফুল শিবির। অন্যদিকে গেরুয়া শিবির শাসকগোষ্ঠীর কোন্দলকে হাতিয়ার করে আসন ধরে রাখতে চাইছে। বিজেপি নেতৃত্বদের দাবি, আগামী নির্বাচনে আসন সংখ্যা বেড়ে এক থেকে আট হবে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব ১১-০ করার ডাক দিয়ে পথে নামছে।   

Advertisement

২০১১ সালে রাজ্যে পালা বদলের সময় দুবরাজপুর আসনে তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করেছিল বিজেপি। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে পরাস্ত করে প্রায় ১৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে শাসক শিবির জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল। একুশের নির্বাচনে দুবরাজপুরের আসনটি শাসক শিবির ধরে রাখতে পারেনি। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীকে হারিয়ে প্রায় ২৮০০ ভোটের ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থী অনুপ সাহা জয় নিশ্চিত করেছিলেন। জেলার একমাত্র আসন হাতছাড়া হওয়ায় শাসক শিবির কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে পড়েছিল। তবে ছাব্বিশের নির্বাচনে পুনরায় ওই আসন নিজেদের দখলে আনতে মরিয়া চেষ্টা শুরু করেছে। জেলা নেতৃত্বের দাবি, একুশের নির্বাচনের পর থেকে ভোটের ব্যবধান ক্রমশ বাড়ছে। বিজেপির মাথার উপর থেকে সাধারণ মানুষ হাত সরিয়ে নিয়েছে। মানুষ তৃণমূলের উপর আস্থা রাখছে। কারণ, সাধারণ মানুষ উন্নয়ন চায়। সাধারণ মানুষ শান্তি চায়। শাসক নেতৃত্বদের কথায়, শুধুমাত্র নির্বাচনে জয় পাওয়া লক্ষ্য নয়। এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নই মূল লক্ষ্য। সেইলক্ষ্যে গোটা জেলার পাশাপাশি দুবরাজপুরেও উন্নয়নের কাজ সমানতালে চলছে। বিধানসভা এলাকার প্রতিটি মানুষ সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে দলের কর্মীরা প্রকল্পের তালিকা হাতে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছেন। 
হারানো আসন পুনরুদ্ধারের বিষয়ে আশাবাদী জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, বিগত দিনে অঙ্কের বিচারে লোকসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির থেকে দল এগিয়ে রয়েছে। আগামী নির্বাচনে জেলার অন্যান্য বিধানসভার পাশাপাশি দুবরাজপুরেও দল জয় পাবে। মানুষ উন্নয়নের সঙ্গে রয়েছেন। অবশ্য ভিন্ন দাবি করে জেলা বিজেপির সহ সভাপতি দীপক দাস বলেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ভালো ফল হবে। দুবরাজপুর সহ কমপক্ষে আটটি আসনে জয় নিশ্চিত রয়েছে। সেই লক্ষ্যে দলগতভাবে কাজ চলছে। সাধারণ মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের উপর আস্থা হারিয়েছে। ব্যালট বাক্সে তার প্রমাণ মিলবে। তাঁর আরও সংযোজন, তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বিজেপিকে বাড়তি মুনাফা দেবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ