নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের আঘাতে আহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আজ পুঞ্চে যাচ্ছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। যা স্বাগত জানিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তবে নিহত এবং আহতের পরিবারের পাশে থাকার এই উদ্যোগে সর্বাগ্রে তৃণমূলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল শ্রীনগর, পুঞ্চে, রাজৌরি যাওয়ায় তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। বলেছেন, তৃণমূল সবার আগে এসেছে। এখন রাহুল আসছেন। ভালো কথা। বিপর্যয়ের এই সময়ে আমাদের রাজ্যের বাসিন্দাদের পাশে আছেন ওঁরা।
শুক্রবার তৃণমূল প্রতিনিধি দল যায় রাজৌরি। পাকিস্তানের গোলাবর্ষণের জেরে নিহত সরকারি আধিকারিক ডাঃ রাজকুমার থাপার বাড়িতে গিয়ে নীরবতা পালন করে প্রতিনিধিদল। পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে স্লোগান তোলেন, ডাঃ থাপার অমর রহে। পরে আহতদের দেখতে তাঁরা রাজৌরির গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজে (জিএসসি) যান। সেখানে কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে আহতের ব্যাপারে খোঁজখবর নেন। সাক্ষাৎ করেন আহতদের সঙ্গেও। ভয়াবহ সেইসব দৃশ্য দেখে সন্ত্রাসবাদের মদত দেওয়া পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তৃণমূল প্রতিনিধিদল। ডেরেক বলেন, এভাবে নিরীহ মানুষের উপর পাকিস্তানের হামলা মোটেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দেখে গেলাম। দলনেত্রীকে এ ব্যাপারে রিপোর্ট দেব। মানসবাবু বলেন, নিরীহ মানুষগুলো স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। মুখে কথা সরছে না। ভয়াবহ এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ওদের পাশে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বার্তা দিতেই আমাদের সফর। এদিকে, বিদেশ সফরে গিয়ে এক সাক্ষাৎকারে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর যেভাবে অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়ে আমতা আমতা করেছেন, তা নিয়ে সমালোচনা করেছেন রাহুল গান্ধী। সাক্ষাৎকারে জয়শঙ্করকে প্রশ্ন করা হয়েছে, পহেলগাঁওয়ের হামলাকারী জঙ্গিরা কি ধরা পড়েছে? আমেরিকা কি সংঘর্ষবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছে? জবাব দিতে গিয়ে আমতা আমতা করেন জয়শঙ্কর। ওই সাক্ষাতকার-ভিডিওর অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন রাহুল। প্রশ্ন করেছেন, এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের কড়া নিন্দা করে একটি দেশও কেন আমাদের দেশ ভারতের পাশে দাঁড়াল না? আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কে বলেছিল ভারত-পাকিস্তানের মধ্যস্থতা করতে?
তবে এরই মধ্যে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে অপারেশন সিন্দুরের পর ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে জার্মানি। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে জার্মানির বিদেশমন্ত্রী জোহান ওয়াদেফুল বলেছেন, গত ২২ এপ্রিল ভারতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় আমরা সকলেই হতভম্ব। সাধারণ মানুষের উপর এই জঘন্য জঙ্গি হামলার আমরা তীব্র নিন্দা করছি। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পূর্ণ অধিকার ভারতের রয়েছে। ভারত-পাক আলোচনা যে দ্বিপাক্ষিক, এদিন সেকথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন জার্মান বিদেশমন্ত্রী। তাঁর কথায়, এ নিয়ে কোনও ধন্দ থাকা উচিত নয়।



