নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বিজেপি যখন রামের নামে জয়ধ্বনি দিয়ে রামনবমীর শোভাযাত্রা বের করবে তখন তৃণমূল শুধু রাম নয়, সীতাকেও তুলে ধরবে তাদের শোভাযাত্রায়। সেই লক্ষ্যেই ‘জয় সিয়ারাম’ লেখা পতাকা বিলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভাজুড়ে যা নিয়ে চলছে জোর প্রস্তুতি। তৃণমূল জেলা সভাপতির উপস্থিতিতে লাউদোহায় বিধায়ক কার্যালয়ে বুধবার এনিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। উপস্থিত ছিল আশিটি কমিটি। যারা রাস্তা নেমে জয় সিয়ারামের শোভাযাত্রা আয়োজন করবে। সবমিলিয়ে রামনবমী নিয়ে রীতিমতো সরগরম শিল্পাঞ্চল।
তৃণমূল জেলা সভাপতি তথা পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, রামসীতার পুজো কি বাংলায় নতুন হচ্ছে? আমরা বাঙালিরা দীর্ঘদিন ধরে সেই পুজো করে এসেছি। আমার প্রশ্ন, বিজেপি রামচন্দ্রকে নিয়ে মাতামাতি করলেও কেন সীতামা বঞ্চিত। বাংলার মাটি মাতৃশক্তির মাটি, কোনও নারী বঞ্চনা হবে না। আমরা ‘জয় সিয়ারাম’ লেখা পতাকা নিয়ে পদযাত্রা করব। বুধবার বৈঠক হয়ে গিয়েছে। শুক্রবার থেকে পাণ্ডবেশ্বরজুড়ে পাঁচ হাজার পতাকা বিলি করব। রামনবমীর শোভাযাত্রা নিয়ে আসানসোল-দুর্গাপুরে বহু আয়োজক ব্যানার টাঙিয়েছেন। বিভিন্ন দোকানে বিক্রির জন্য রামনবমীর পতাকা টাঙানো হয়েছে। বিজেপির দাবি, এবার অনেক বেশি সংখ্যায় র্যালি বের হবে। পুলিস নতুন শোভাযাত্রার অনুমতি না দিলেও শোভাযাত্রা হবে। পাণ্ডবেশ্বরে রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বেড়েছে। দীর্ঘদিন সুর না চড়ালেও পাণ্ডবেশ্বরে বিজেপির জনসভায় এসে মঙ্গলবার সুর চড়িয়েছেন পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি। তিনি দাবি করেছেন, পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়কের বাড়ির সামনে বিজেপি সভা করবে। পাল্টা নরেনবাবু বলেছেন, বাড়িতে এলে জল মিষ্টির আয়োজন থাকবে। জিতেন্দ্র বলেন, রামের নামে কুকথা বলার জন্য আগে রামমন্দিরে গিয়ে ক্ষমা চাক। এদিকে, প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিসও। বিভিন্ন থানা এলাকা ধরে একাধিক কমিটির সঙ্গে বৈঠক করছে পুলিস। এদিন সন্ধ্যায় হীরাপুর থানা এলাকায় এসে বৈঠক করেন ডেপুটি পুলিস কমিশনার সন্দীপ কাররা। তিনি বলেন, কোনও রকম বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত নয়।