নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: একজন-দু’জন নয়, রানাঘাট শহরে রয়েছে পাঁচশোর বেশি ‘ভূতুড়ে’ ভোটার! শাসকদলের অভ্যন্তরীণ তদন্তে এই বিপুল সংখ্যক অস্তিত্বহীন ভোটারের কথা জানা গিয়েছে। যার মধ্যে বেশিরভাগই মৃত। কোথাও একাধিকবার আবেদন সত্ত্বেও মৃতের নাম সরানো হয়নি, আবার কোথাও পরিবারের গড়িমসিতে তিন-চারবছর আগে ইহলোক ত্যাগ করা ভোটারের নাম জ্বলজ্বল করছে। মঙ্গলবার নিজের ওয়ার্ডে ‘ভূতুড়ে’ ভোটারের খোঁজে তালিকা হাতে বেরিয়ে এমনই দাবি করেন রানাঘাটের পুরপ্রধান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূলের ভূতুড়ে ভোটার খোঁজার অভিযানকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। চড়া সুরেই রাজনৈতিক আক্রমণ করেছেন বিজেপির নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র সোমনাথ কর। তিনি বলেন, যদি শুধুমাত্র একটি শহরে পাঁচশোর বেশি ভূতুড়ে ভোটার থাকে, তাহলে পুরো জেলায় এরকম কত নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে-সেটা ভাবা দরকার। এতদিন এসমস্ত নাম কাজে লাগিয়ে তৃণমূল ভোটে জিতে এসেছে। আমাদের নেতারা বারবার সেই অভিযোগ তুলে এসেছেন। আজ তৃণমূলের তদন্তেই আমাদের অভিযোগ স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হল।
ভোটার তালিকা নিয়ে কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কর্মসূচিতে বেশ কিছু আশঙ্কা ব্যক্ত করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলনেত্রীর নির্দেশমতো প্রতিটি এলাকায় ভূতুড়ে ভোটার চিহ্নিত করতে ঝাঁপিয়েছে তৃণমূল। নদীয়া জেলার বিভিন্ন ব্লকের পাশাপাশি রানাঘাট শহরেও তৃণমূল এই কাজ শুরু করেছে। ওয়ার্ডভিত্তিক ভোটার তালিকা নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাওয়া হচ্ছে। তাতেই যেন কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে আসছে প্রতিদিন। দেখা যাচ্ছে, আয়তনের নিরিখে অত্যন্ত ছোট শহর রানাঘাটেই নাকি প্রায় ৫০০’র বেশি ভূতুড়ে ভোটার রয়েছে। শহরের ২০টি ওয়ার্ডে ছড়িয়ে থাকায় এসমস্ত ভোটারের বেশিরভাগই মৃত। অনেকক্ষেত্রে মৃতের পরিবার একাধিকবার নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ভোটার কার্ড জমাও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নাম বাদ দেওয়া হয়নি।
রানাঘাটের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তমাল কুণ্ডু বলেন, ২০২১ সালে আমার মা প্রয়াত হয়েছেন। এরপর ভোটার তালিকা থেকে মায়ের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদনও করেছি। নিয়মমতো ফর্ম ফিলআপ করে ভোটার কার্ড জমা দিয়েছি। কিন্তু প্রায় চারবছর পরও মায়ের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায়নি। কেন এরকম হচ্ছে, তা বুঝতে পারছি না।
আবার অনেকক্ষেত্রে শাসকদলের নেতারা দেখতে পেয়েছেন, মৃতের পরিবারের গড়িমসির কারণেই চারবছর আগে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম এখনও ভোটার তালিকায় রয়েছে।
মঙ্গলবার নিজের ওয়ার্ডে এরকম অস্তিত্বহীন ভোটারদের খুঁজতে বেরিয়েছিলেন রানাঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেক মৃত ব্যক্তি, অস্তিত্বহীন ভোটারের নাম তালিকায় পেয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অনেকক্ষেত্রে মৃতের পরিবারের তরফে একাধিকবার নাম প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হলেও নির্বাচন কমিশনের তরফে সদর্থক ভূমিকা নেওয়া হয়নি। কেন হয়নি সেটাই রহস্য! আমরা এই তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে তাদের দ্বারস্থ হব। অস্তিত্বহীন ভোটারদের নাম সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আবেদন করব।