Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রেমিকের হাত ধরে পালানো নাবালিকা উদ্ধার তৃণমূল ব্লক সভাপতির উদ্যোগে

প্রেমিকের হাত ধরে পালানো নাবালিকা উদ্ধার তৃণমূল ব্লক সভাপতির উদ্যোগে
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মোবাইল ইন্টারনেটের যুগে নয়া ট্রেন্ড ফটোশ্যুট। বাড়ি থেকে পালিয়ে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ফটোশ্যুট করতে গিয়ে ধরা পড়ল এক নাবালিকা। এরপর মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি ও পিংলা ব্লক তৃণমূলের সভাপতি শেখ সবেরাতির উদ্যোগে সেই নাবালিকাকে বাড়ির লোকের হাতে তুলে দেওয়া হল। নাবালিকাকে ফিরে পেয়ে খুশি পরিবারের লোকজনও। ঘটনাটি পিংলা থানা এলাকার। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, ব্লকজুড়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। কিন্তু এরপরও নাবালিকাদের পালিয়ে যাওয়া কিংবা নাবালিকা বিয়েতে রাশ টানা যাচ্ছে না। জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি বলেন, জেলাজুড়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। কিন্তু তাতেও সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। ছোট ছেলেমেয়েরা আবেগের বশে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালে বাইকে চেপে কাজের জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন পিংলা ব্লক তৃণমূলের সভাপতি শেখ সবেরাতি। তিনি জেলা পরিষদের সদস্য পদেও রয়েছেন। সবেরাতিবাবু পিংলা থানা এলাকার এগারো মাইল থেকে ধনেশ্বরপুর যাওয়ার পথে লক্ষ্য করেন, এক যুগল রাস্তার ধারে ফটোশ্যুট করছে। তাঁদের হাতে ফুল রয়েছে। এক যুবক তাঁদের ফটো তুলে দিচ্ছে। ব্যাপারটিতে বিশেষ আমল দেননি ব্লক সভাপতি। তবে কাজ শেষে বেশকিছু সময় পর ফেরার পথে তিনি দেখেন তখনও ফটোশ্যুট চলছেই। তাঁদের দেখে তিনি বাইক থামিয়ে দেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। সন্দেহ হওয়ায় তাদের স্থানীয় একটি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ করে ব্লক সভাপতি জানতে পারেন, নাবালিকার বাড়ি নারায়ণগড় থানা এলাকায়। তার প্রেমিকের বাড়ি মেদিনীপুরে। তারা দু›জন এদিন সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। বাড়ির সদস্যরা কেউই এই বিষয়ে জানত না। তাদের এক বন্ধু ফটোগ্রাফারের কাজ করে। তাকে ফটোশুটের জন্য ডাকা হয়েছিল। এরপর পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। ঘটনাটি জানার পর নাবালিকার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে আসে পিংলা থানার পুলিস। একইসঙ্গে জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। এরপর সভাধিপতির নির্দেশে নাবালিকাকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাজুড়ে নাবালিকা বিয়ে ও পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এক বছরে জেলায় নাবালিকা বিয়ের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি বলেন, ছোটছোট ছেলেমেয়েদের দেখে সন্দেহ হয়। ওদের জিজ্ঞাসা করার পর বিষয়টি জানতে পারি। দ্রুত পদক্ষেপ করেছি। সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। তবেই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে। পিংলার বাসিন্দা রঞ্জিত খাড়া বলেন, জন প্রতিনিধিদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি। এই ব্লকেও নাবালিকা বিয়ের ঘটনা ঘটেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ