Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬

রেল নিয়ে রাজ্যের বঞ্চনার প্রতিবাদ, সরব তৃণমূল

সোমবার রেল নিয়ে সংসদের দু’কক্ষেই কেন্দ্রকে তুলোধোনা করল তৃণমূল

রেল নিয়ে রাজ্যের বঞ্চনার প্রতিবাদ, সরব তৃণমূল
  • ১৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সোমবার রেল নিয়ে সংসদের দু’কক্ষেই কেন্দ্রকে তুলোধোনা করল তৃণমূল। লোকসভায় বাংলার প্রতি রেলের বঞ্চনা নিয়ে কেন্দ্রকে চেপে ধরেছে রাজ্যের শাসক দল। অন্যদিকে রাজ্যসভায় রেলমন্ত্রকের উপর আলোচনায় একাধিক ইস্যুতে ‘পয়েন্ট-অব-অর্ডার’ তুলতে চেয়েও না পেরে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে তৃণমূল। 

Advertisement

তৃণমূলের অভিযোগ, রাজ্যসভায় জবাবি ভাষণে বারবার ‘রেল-বাজেট’ শব্দের উল্লেখ করে গিয়েছেন বৈষ্ণব। রেল বাজেট নিয়ে কোনও আলোচনাই ছিল না। এই বিষয় সহ আরও কয়েকটি এজেন্ডায় এদিন রেলমন্ত্রীর জবাবি ভাষণ শেষ হতেই ‘পয়েন্ট-অব-অর্ডার’ চান তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন। সভাপতির আসনে তখন ছিলেন বিজেপি এমপি ঘনশ্যাম তিওয়ারি। অন্য ‘বিজনেস’ ডেকে ফেলেছেন, এই যুক্তিতে তিনি ডেরেককে ‘পয়েন্ট-অব-অর্ডার’ তুলতে দেননি। এতেই তুমুল বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে তৃণমূল। ওয়েলে নেমে চেয়ারের কাছে চলে আসেন ডেরেক। ছুটে আসে মার্শালও। চরম নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। তৃণমূলের সমর্থনে দাঁড়িয়ে পড়েন কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী দলও। যদিও অনুমোদন মেলেনি। রাজ্যসভা থেকে ওয়াক-আউট করে তৃণমূল। পরে তৃণমূল এমপিরা বলেন, সাংসদ যখন খুশি ‘পয়েন্ট-অব-অর্ডার’ তুলতে পারেন। চেয়ার তা শুনতে বাধ্য। গ্রহণ করা হবে কি না, তা চেয়ারের এক্তিয়ারভুক্ত। এই তুলকালাম পরিস্থিতির সময় রাজ্যসভায় রেলমন্ত্রী ছিলেন 
না। জবাবি ভাষণ শেষ হওয়ার কিছুপরেই তিনি বেরিয়ে যান। 
তবে এদিনের জবাবি ভাষণে রেলমন্ত্রী তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। মন্ত্রীর অভিযোগ, রেলপ্রকল্পে বাংলায় শুধুমাত্র ২১ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ হয়েছে। দেশপ্রাণ-নন্দীগ্রাম রেল লাইনের কাজ এগনো যাচ্ছে না। ১৯৭২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কলকাতা মেট্রোর মাত্র ২৮ কিলোমিটার কাজ হয়েছে। মোদি সরকারের ১০ বছরে হয়েছে ৩৮ কিলোমিটার। নিউ বারাকপুর-বারাসত, বরানগর-বারাকপুর, মোমিনপুর-বিবাদি বাদ প্রকল্প একই কারণে আটকে। মোমিনপুর-বিবাদি বাগ প্রকল্পে খিদিরপুর স্টেশন ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের আওতায়। এরপরেও জমি দিতে পারছে না রাজ্য। আরও একটু সহযোগিতা করে দিন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেলমন্ত্রিত্বে প্রতিদিন গড়ে একটি করে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটত বলেও অভিযোগ তাঁর। 
অন্যদিকে এদিন লোকসভায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, পর্বতের মূষিক প্রসব করছে রেল। যা প্রচার করা হয়েছে, তার প্রায় কিছুই হয়নি। শতাব্দী রায় বলেন, সাধারণ যাত্রীদের কাছে বন্দে ভারত, বুলেট ট্রেন উচ্চবিত্তদের জন্য। বিরিয়ানির সমান। তাই বিরিয়ানিতে জোর না দিয়ে সাধারণ ভাত-ডালের কথা ভাবুন। লোকাল ট্রেন বাড়ান। টিকিট বাতিল থেকে রেল ৬১১৩ কোটি ৮০ লক্ষ এবং ওয়েটিং লিস্টের টিকিট থেকে ১২২৯ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা আয় হয়েছে বলেই সংসদে তাঁর দাবি।

সম্পর্কিত সংবাদ