সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: খড়্গপুরে রেলের বাংলো বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। রেলের দেওয়া তথ্য সামনে এনে এই অভিযোগ তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সহ সভাপতি দেবাশিস চৌধুরী। শনিবার তিনি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে এই অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে তিনি তথ্য জানার অধিকার আইনে রেলের কাছ থেকে পাওয়া একটি চিঠি সামনে এনেছেন। দেবাশিসবাবু বলেন, ৬৭৭নম্বর বাংলোটি এই মুহূর্তে কারও নামে বরাদ্দ নেই। রেল জানিয়েছে, ২০১৯সালে প্যাসেঞ্জার সার্ভিস কমিটির তৎকালীন সদস্য তুষারকান্তি ঘোষের নামে বাংলোটি বরাদ্দ করা হয়েছিল। ২০২০সালের ৩১মার্চ পর্যন্ত তাঁর নামে বরাদ্দ ছিল। এখন কাউকেই ওই বাংলোটি বরাদ্দ করা হয়নি। তাহলে দিলীপবাবু সেখানে গিয়ে থাকেন কোন অধিকারে? রেলের সম্পত্তি সরকারের সম্পত্তি। সেটা বিজেপির হয় কী করে?
২০১৬সালের বিধানসভা ভোটে খড়্গপুর থেকে কংগ্রেস প্রার্থী প্রয়াত জ্ঞানসিং সোহন পালকে হারিয়ে বিধায়ক হন দিলীপবাবু। পরে মেদিনীপুর থেকে সাংসদও হন। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপবাবু খড়্গপুরে রেলের বাংলোয় থাকেন। খড়্গপুরে এলে এখানেই ওঠেন। গতবছর লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। এখন তিনি জনপ্রতিনিধি নন, শুধুই বিজেপির নেতা। তা সত্ত্বেও খড়্গপুরে এলে সেই রেল বাংলোতেই ওঠেন। অভিযোগ, সেখান থেকে তিনি রাজনৈতিক কার্যকলাপ করেন। শনিবারও দিলীপবাবু সেই বাংলোতেই উঠেছেন।
দেবাশিসবাবু বলেন, রেলের তথ্য থেকে পরিষ্কার, দিলীপবাবু এই বাংলো অবৈধভাবে দখল করে আছেন। সেখান থেকে রাজনৈতিক কার্যকলাপ করছেন। এটা তিনি করতে পারেন না। তাঁর বাংলো ছেড়ে দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, রেল যাতে তাদের বাংলো দখল নেয় সেব্যাপারে আমরা দাবি জানাব। এব্যাপারে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও।
এনিয়ে দিলীপবাবুকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি রেলের জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিস থাকা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকী, বুলডোজার চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। দিলীপবাবুর ফোনে বলেন, ‘কারও বাপের জায়গায় আছি নাকি? রেলের অ্যাডভাইসারি কমিটির সদস্যের নামে বরাদ্দ আছে। চারবার বরাদ্দ করানো হয়েছে। পাঁচবার করাব। রেলের জায়গায় ওদেরও পার্টি অফিসগুলো আছে। রেলকে দিয়ে ভাঙাব, বুলডোজার চালাব।’
এদিন সকালে খড়্গপুর শহরে চা চক্রে যোগ দেন দিলীপবাবু। সেখানে চাকরি বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোর্ট রায় দিয়েছে। রামের ইচ্ছায় এই সরকার এক বছরের মধ্যে চলে যাবে। রাম ছাড়া ভারতবর্ষে কিছু চলবে না।