নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনে ভোটের মার্জিন বাড়ানোই লক্ষ্য ঘাসফুল শিবিরের। অতীতের সমস্ত রেকর্ড এই উপ নির্বাচনে ভেঙে দিতে চাইছে তারা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কালীগঞ্জ কেন্দ্র থেকেই রাজ্যজুড়ে জয়ের হাওয়া তুলতে মরিয়া তৃণমূল। রাজনৈতিক মহলের দাবি, কালীগঞ্জ ব্লক তৃণমূল সংগঠনের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রেকর্ড মার্জিনে জয়। এটাই তাদের ‘অ্যাসিড টেস্ট’। এদিকে ‘দূরত্ব’ ঘুচিয়ে সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে চলার বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা প্রয়াত বিধায়ক কন্যা আলিফা আহমেদ। সঙ্ঘবদ্ধ সংগঠনের বলে বলিয়ান হয়েই ময়দানে নেমেছে ঘাসফুল শিবির। বুধবার সন্ধ্যায় পলাশীর মীরাবাজার এলাকা থেকে ভোট প্রচারে নেমে পড়েন আলিফা। তিনি বলেন, কালীগঞ্জ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস একটা পরিবারের মতো। আমরা সবাই একসঙ্গে রয়েছি। সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে হাতে হাত ধরে ভোট করা হবে। ভোট প্রচার কীভাবে হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাবার অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করাই আমার লক্ষ্য।
সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কালীগঞ্জ বিধানসভা বিগত কয়েক বছর ধরে তৃণমূলের ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৩৭ হাজার ভোট, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৪৬ হাজার ভোট, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৩৩ হাজার ভোটে বিরোধী শিবিরের থেকে এগিয়ে থেকেছে ঘাসফুল শিবির। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মারা যান কালীগঞ্জের বিধায়ক নাসিরউদ্দিন আহমেদ। উপ নির্বাচনে তৃণমূল তাঁর কন্যা আলিফা আহমেদকে টিকিট দিয়েছে। তাঁকে জেতাতে অতীতের সমস্ত জয়ের মার্জিনকে ছাপিয়ে গিয়ে নতুন রেকর্ড করতে তৎপর কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের সভাপতি মহুয়া মৈত্রের নেতৃত্বাধীন ব্লক সংগঠন।
উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই প্রয়াত ও বিধায়ক নাসিরউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে ব্লক সংগঠনের দূরত্ব তৈরি হয়। ‘তরমুজ’ নেতাদের কারণে ভোটের ফলাফলেও তার অল্প বিস্তর প্রভাব পড়েছিল বলে মনে করে রাজনৈতিক মহল। স্বাভাবিকভাবেই বিগত কয়েকমাস ব্লক সংগঠনের সঙ্গেও মান-অভিমানের পর্ব চলছিল প্রয়াত বিধায়কের পরিবারের। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি দেখা যায় কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র। পুরনো দূরত্ব ভুলে বিধায়ক কন্যাকেও প্রার্থী হিসেবে গ্রহণ করে ভোট ময়দানে ঝাঁপাতে দেখা যায় ব্লক নেতাদের। আলিফা আহমেদ কালীগঞ্জ বিধানসভায় প্রবেশ করতেই সংগঠনের সদস্যরা সাদরে আহ্বান জানান।
ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় তাঁকে। তারপর হাটগাছা গ্রাম পঞ্চায়েতের দলীয় কার্যালয়ে আসেন তিনি। সেখানে ব্লকের বাকি সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে আলাপচারিতা সারেন। সেখানেও সংগঠনের সদস্য ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে প্রার্থীকে নিয়ে উচ্ছ্বাস চোখে পড়ে। বুধবার পলাশী সংগঠনের সদস্যরা প্রার্থীর সঙ্গে বসে ভোট প্রচারের রূপরেখা তৈরি করেন। বিকেলের দিকে মীরাবাজার এলাকায় প্রচারে নামেন আলিফা আহমেদ।
কালীগঞ্জে ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা প্রার্থীকে রেকর্ড মার্জিনে জয়ী করতে বদ্ধপরিকর। ময়দানে নেমে পড়েছি। সকলে মিলে একসঙ্গে ভোট করা হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র