Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তালিকা থেকে বাদ ৪৩ হাজার ‘ভূতুড়ে’ ভোটার, ভোটার তালিকায় নাম তুলতে মরিয়া অনুপ্রবেশকারীরা

তালিকা থেকে বাদ ৪৩ হাজার ‘ভূতুড়ে’ ভোটার, ভোটার তালিকায় নাম তুলতে মরিয়া অনুপ্রবেশকারীরা
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নবান্নের নির্দেশে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ভোটার তালিকা পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে। তালিকায় থাকা সন্দেহভাজন ভোটারদের ক্ষেত্রে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, বাস্তবে তাদের অস্তিত্ব আছে কিনা। একেবারে গ্রাউন্ড জিরোয় গিয়ে প্রশাসনের আধিকারিকরা তদন্ত করছেন। যদিও সম্প্রতি নদীয়া জেলার ভোটার তালিকা থেকে বহু ‘ভূতুড়ে’ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে প্রায় ৪৩ হাজার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ‘ভুয়ো’ ভোটারদের নাম কাটার ব্যাপারে কড়া মনোভাব দেখিয়েছিল। ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন করা নিয়েও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।‌ কারণ ভুয়ো নথি ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে তৎপর হয়েছে অনুপ্রবেশকারীরা। 
Advertisement
নদীয়ার জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ বলেন, ‘আমরা খুব সতর্কতার সঙ্গে ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন করছি। পাশাপাশি সংশোধনের ব্যাপারেও বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। সমস্ত নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত কালীরহাট পূর্বপাড়া থেকে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত ব্যক্তির‌ নাম হরিচরণ দাস।‌ বাংলাদেশের মানুষ হয়েও বাংলার ভোটার তালিকায় নাম তুলেছিল হরিচরণ। কলকাতা পাসপোর্ট অফিস প্রথম বিষয়টি নজরে আনে। তারা নদীয়া জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানায়। প্রশাসনের তরফ থেকে কোতোয়ালি থানায় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ধৃতের কাছ থেকে বাংলাদেশের পাসপোর্টের প্রথম পাতার জেরক্স কপি, ভিসার প্রথম পাতার জেরক্স কপি পাওয়া গিয়েছে। 
পুলিস জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছে, ধৃত ব্যক্তি ১৯৮৫ সাল নাগাদ নদীয়া এসেছিলেন। তখন কোনওভাবে নিজের বাবার নামে নদীয়া জেলায় জমি কিনেছিলেন। তারপর তিনি বাংলাদেশে চলে যান। তারপর ২০২০ সাল নাগাদ ফের ভারতে আসেন। ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও ভারতেই থেকে যান তিনি। তারপর পঞ্চায়েত থেকে বাসিন্দা হিসেবে শংসাপত্র বানিয়ে নেন। সেই শংসাপত্র দেখিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলেন। ওই কাজে ১৯৮৫ সালে কেনা জমির দলিলকে ভারতীয়ের নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
তবে মনে করা হচ্ছে, শুধু হরিচরণ না, জেলাজুড়েই এমন বহু মানুষ রয়েছেন‌, যাঁরা ভুয়ো নথি ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। কারণ অতীতে এমন বহু অনুপ্রবেশকারীকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছিল,‌ যাদের থেকে স্কুলের ভুয়ো শংসাপত্র, জাল দলিল, ভুয়ো আধার কার্ড বাজেয়াপ্ত হয়ছে।
জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকেই নদীয়া জেলায় সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।‌ তাতে ৬১ হাজার ৮৪১টি নতুন নাম যুক্ত হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ৪২ হাজার ৭০৬টি নাম। মূলত কোনও ব্যক্তি অন্যত্র চলে গেলে, মারা গেলে বা দীর্ঘদিন ধরে সেই ব্যক্তির হদিশ না পাওয়া গেলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়। নদীয়া জেলা নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক বলেন, আমরা পুনরায় যাচাই করাচ্ছি বিএলও’কে দিয়ে।‌ বিএলও’র রেজিস্ট্রারের সঙ্গে সবটা আর একবার মিলিয়ে দেখতে বলা হচ্ছে। ফিল্ডে গিয়েই এই কাজ করা হচ্ছে।’
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ