নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আবাস যোজনায় বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা তুলে বিপাকে পড়েছেন নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা। সরকারি প্রকল্পে বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার পর অনেকের নাম আবাস তালিকায় নেই। শনিবার লোকজন দল বেঁধে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের আমদাবাদ-১ পঞ্চায়েতের টাকাপুরায় বিজেপি নেতা শতদ্রু প্রামাণিকের বাড়িতে চড়াও হয়। শতদ্রুবাবু টাকাপুরা বাজার ১৬০নম্বর বুথের বিজেপির সহ সভাপতি। তাঁর স্ত্রী শিউলি প্রামাণিক বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যা। শনিবার সৌম্য প্রামাণিক, মিঠু ভুঁইয়া, অমরেশ দাস, স্বস্তিক দাস, সুমিত মণ্ডল সহ আরও অনেকে ওই বিজেপি নেতার বাড়িতে হাজির হন। তাঁদের প্রত্যেকের দাবি, আবাসের বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে ফোটো তোলার সময় মাথাপিছু ৪০০-৫০০টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন তালিকা প্রকাশ হতে দেখা যাচ্ছে, সেখানে নাম নেই।
Advertisement
আমদাবাদ-১ অঞ্চল তৃণমূলের একসময় সহ সভাপতি ছিলেন প্রভাস ভুঁইয়া। প্রভাসবাবুর সঙ্গে শতদ্রুও তৃণমূল করতেন। ২০১৮সালে আবাসের সার্ভের সময় টাকাপুরা এলাকায় মোট ২৯৬জনের কাছ থেকে টাকা তোলা হয় বলে অভিযোগ। ২৭নভেম্বর রাজ্য সরকারের নির্দেশে প্রতি ব্লক ও গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে আবাসের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তাতে টাকাপুরা এলাকায় টাকা দিয়েও অনেকের নাম বাদ পড়েছে। আর এতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ২০২০সালের পর প্রভাস, শতদ্রুরা ‘দাদার অনুগামী’ হিসেবে বিজেপিতে যোগ দেন। শতদ্রু এখন বিজেপির বুথ সহ সভাপতি। যদিও প্রভাস বিজেপি থেকে ফের তৃণমূলে ফিরে এসেছেন।
আবাস তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পর টাকা ফেরতের জোরালো দাবি তুলেছেন বঞ্চিতরা। সেই টাকার দাবিতে তাঁরা শতদ্রুবাবুর বাড়িতে হাজির হন। যদিও ওই বিজেপি নেতার দাবি, যাবতীয় টাকা প্রভাস ভুঁইয়ার কাছে জমা করা হয়েছে। সবটাই প্রভাসবাবু বলতে পারবেন। শনিবার সন্ধ্যায় আবাসের তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া ওই ব্যক্তিদের নিয়ে শতদ্রুবাবু প্রভাস ভুঁইয়ার কাছে পৌঁছে যান। সেখানে দু’পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়। প্রভাস ভুঁইয়ার দাবি, টাকা নেওয়ার সঙ্গে তিনি বিন্দুমাত্র যুক্ত নন। সুতরাং এই ঘটনার দায় তাঁর নয়। ওই ঘটনায় দু’পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েছে।
বিজেপি নেতা শতদ্রু প্রামাণিক বলেন, প্রভাসবাবু তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সহ সভাপতি ছিলেন। তাঁর স্ত্রী অনিমা ভুঁইয়া গত টার্মে পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে আমরা এলাকায় পার্টি করতাম। প্রভাসবাবু সহ আমরা আবাস যোজনায় উপভোক্তার বাড়ির ছবি তোলার সময় মাথাপিছু ৪০০-৫০০টাকা তুলেছি। এভাবে মোট ২৯৬জনের থেকে টাকা তোলা হয়েছিল। এছাড়াও নিশিকান্ত দাস, বিষ্ণুপদ মণ্ডলের মতো আবাস যোজনায় টাকা পাওয়া উপভোক্তাদের থেকে মাথাপিছু আট থেকে দশ হাজার টাকা তোলা হয়েছিল। সব টাকা প্রভাসবাবুর কাছে ছিল। এখন অনেকের নাম আবাস তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাঁরা আমার বাড়িতে হাজির হয়েছেন। কিন্তু, আমি টাকা তুলে প্রভাস ভুঁইয়াকে দিয়েছি।আবাস তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পর টাকা ফেরতের জোরালো দাবি তুলেছেন বঞ্চিতরা। সেই টাকার দাবিতে তাঁরা শতদ্রুবাবুর বাড়িতে হাজির হন। যদিও ওই বিজেপি নেতার দাবি, যাবতীয় টাকা প্রভাস ভুঁইয়ার কাছে জমা করা হয়েছে। সবটাই প্রভাসবাবু বলতে পারবেন। শনিবার সন্ধ্যায় আবাসের তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া ওই ব্যক্তিদের নিয়ে শতদ্রুবাবু প্রভাস ভুঁইয়ার কাছে পৌঁছে যান। সেখানে দু’পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়। প্রভাস ভুঁইয়ার দাবি, টাকা নেওয়ার সঙ্গে তিনি বিন্দুমাত্র যুক্ত নন। সুতরাং এই ঘটনার দায় তাঁর নয়। ওই ঘটনায় দু’পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েছে।
এনিয়ে বিজেপি থেকে তৃণমূলে ফেরা প্রভাস ভুঁইয়া বলেন, আবাস যোজনায় টাকা তোলার সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র যোগ নেই। আমার নাম ভাঙিয়ে কেউ টাকা তুললে তার দায় তাঁকে নিতে হবে।
তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত আমদাবাদ-১ পঞ্চায়েতের প্রধান সুতপা রানা মান্না বলেন, টাকাপুরায় আবাসের নাম করে টাকা তোলার বিষয়ে কিছু জানা নেই। এনিয়ে কারও অভিযোগ থাকলে পঞ্চায়েতে জানাতে পারেন। বিষয়টি ব্লক প্রশাসনের নজরে আনা হবে।



