Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তালডাংরায় উৎসবে ফুটন্ত ঘিয়ে হাত ডুবিয়ে পিঠে ভাজা দেখতে ব্যাপক ভিড়

তালডাংরায় উৎসবে ফুটন্ত ঘিয়ে হাত ডুবিয়ে পিঠে ভাজা দেখতে ব্যাপক ভিড়
  • ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: মাটির পাত্রে টগবগ করে ফুটছে ঘি। তাতে ভাজা হচ্ছে পিঠে। চালের পিঠে বাদামি হতেই খুন্তির পরিবর্তে ফুটন্ত ঘিয়ে হাত ডুবিয়ে‌ই এক এক করে তা তুলে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু হাতে ফোস্কা পড়ছে না। শুনতে অবাক লাগলেও তালডাংরার হাউসিবাদ গ্রামে পরম্পরা মেনে প্রতি বছর ফুটন্ত ঘি থেকে হাতে পিঠে তোলেন বাসিন্দারা। সরস্বতী পুজোর পরদিন গ্রামে ‘সাতবহয়া মেটাং মিশোর’ উৎসব উপলক্ষ্যে হাত ডুবিয়ে পিঠে ভাজা হয়। এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মঙ্গলবার বিকেলে গ্রামে অভিনব ওই পিঠে উৎসবকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার বাসিন্দা মেতে ওঠেন। 
Advertisement
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বহু বছর ধরে অসুরগড় নামে একটি উঁচু টিলার কোলে অবস্থিত হাউসিবাদ গ্রামে ওই লোক উৎসব হয়ে আসছে। যার বাংলা অর্থ ‘সাত ভাইয়ের এক বোন’। সরস্বতী পুজোর পরের দিন উৎসব শুরু হয়। দু’দিন ধরে চলে। উৎসবকে কেন্দ্র করে মেলা বসে। মোরগ লড়াইয়ের পাশাপাশি আসিবাসীদের নাচ-গান সহ পশু বলি হয়। বিশেষ করে গরম ঘিয়ে ভাজা পিঠে হাত ডুবিয়ে তুলে আনা দেখতে মেলা প্রাঙ্গণে প্রচুর ভিড় জমে। এদিন দুপুরে মেলা প্রাঙ্গণে পুজোর বেদির সামনে পায়রা ও ছাগল বলি হয়। তারপর সাত-আটজন ব্রতী ফুটন্ত ঘিয়ে একে একে পাকানো পিঠে ছাড়েন। বেশ কয়েক মিনিট পরে গরম পাত্র থেকে ব্রতীরা খালি হাতে ওই পিঠেগুলি এক এক করে তুলে পাশে রাখা শালপাতার উপর রাখেন। 
উৎসবের উদ্যোক্তারা বলেন, কথিত রয়েছে প্রায় সাড়ে তিনশো বছর আগে এলাকায় গভীর অরণ্য ছিল। এক আদিবাসী পরিবারে সাত ভাই ও এক বোন ছিল। ওই সাত ভাই একদিন শিকারে গিয়েছিল। কিন্তু বহুদিন পরও তাঁরা বাড়ি না ফেরায় তাঁদের এক মাত্র বোন ভাইদের ফেরার আশায় তপস্যায় বসেন। সেই তপস্যার ফলে পথ হারিয়ে ফেলা ভাইয়েরা ফিরে আসেন। সেই ঘটনার কথা শুনে ভাইয়েরা তাঁদের বোনকে দেবীজ্ঞানে পুজো করতে শুরু করেন। গরম ঘিয়ে পিঠে বানিয়ে তা হাতে করে ভেজে বোনকে খাওয়ান। লোকমুখে সেকথা প্রচার হয়। সেই থেকে এলাকার বিভিন্ন গ্রামে উৎসবের সময় গরম ঘিয়ে খালি হাত ডুবিয়ে পিঠে ভাজার রীতি আজও চলে আসছে। ঠাকুরের মাহাত্ম্যের জন্যই ফুটন্ত ঘিয়ে ডোবানো সত্ত্বেও হাতে ফোস্কা পড়ে না বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস। ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সৌম্য সেনগুপ্ত বলেন, গরম ঘিয়ের পাত্রে হাত ডোবানো হয় সেকেন্ডেরও ভগ্নাংশ সময়। ওইটুকু সময়ের মধ্যে তাপের প্রভাব হাতের চামড়ায় খুব বেশি পড়ে না। তাছাড়া শীতকালে এই উৎসব হওয়ায় ঠান্ডায় বাড়তি সুবিধা হয়।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ