নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: একসময় বঙ্গ ভোটের অঙ্গ ছিল দেওয়াল লিখন। মজাদার ছড়া থেকে কমিক চরিত্রের কার্টুন, সব কিছুই দেওয়ালে প্রতিফলিত হতো। তবে সেসব এখন অতীত। দেওয়ালে প্রতীক এঁকে সময় ‘নষ্ট’ না করে সরাসরি ভোটারদের বাড়িতে তা পৌঁছে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। বাড়িতে ঘাসফুল আঁকা প্রতীক পৌঁছে দেওয়ার ফলে তালাডাংরা আসনে জয়ের ব্যবধান অনেকটা বেড়েছে বলে ঘাসফুল শিবিরের দাবি। অবশ্য কীভাবে বাড়ি বাড়ি দলের প্রতীক চিহ্ন পৌঁছে দেওয়া হল, তা তৃণমূল নেতারা খোলসা করেননি। তবে বিরোধীদের দাবি, সিঁদুর কৌটো ও দেশলাইয়ের বাক্সে ঘাসফুল প্রতীক ছেপে বাড়ি বাড়ি বিলি করেছে। এদিকে, ঘাসফুল শিবির যখন বাড়ি বাড়ি প্রতীক পৌঁছে বাজিমাতের কথা বলছে, তখন বাম শিবিরে অর্থের অভাবে ঝান্ডা কিনতে না পারার হতাশা ফুটে উঠেছে। তালডাংরা উপ নির্বাচনে সিপিএম প্রার্থী দেবকান্তি মোহান্তি ঝান্ডা টাঙাতে না পারার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। প্রতিটি গ্রামে লালঝান্ডা লাগানো গেলে ভোটারদের মনে দাগ কাটা যেত বলেও সিপিএম প্রার্থী মনে করছেন। এব্যাপারে তিনি আক্ষেপও করেছেন। সবমিলিয়ে দুই শিবিরে দু’রকম চিত্র গণনার পরদিন লক্ষ্য করা গিয়েছে।
Advertisement
বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, আমরা উপ নির্বাচনে দেওয়াল লিখনের থেকেও বাড়ি বাড়ি দলের প্রতীক পৌঁছে দেওয়ার উপর বেশি জোর দিয়েছিলাম। কীভাবে তা করা হয়েছিল, তা সংবাদমাধ্যমের কাছে বলা যাবে না। তবে ভোট প্রচারে বের হয়ে দলের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি প্রতীক পৌঁছে দিতেই পারেন। তাতে নির্বাচনের আদর্শ আচরণ বিধি লঙ্ঘিত হয় না। এটাও একটা প্রচারের অভিনব কৌশল। যা আমরা রপ্ত করেছি। তিনি আরও বলেন, দেওয়াল লিখন এক জায়গাতেই প্রতিফলিত হয়। সেদিকে না যাওয়া এলাকার ভোটাররা তা দেখতে পান না। কিন্তু বাড়িতে ঘাসফুলের প্রতীক থাকলে দু’বেলা নজরে পড়বে। এরফলে মনস্তত্ত্বের উপর একটা প্রভাব পড়ে। যা ইভিএমে প্রতিফলিত হয়। তাছাড়া মানুষ রাজ্য সরকারের উন্নয়ন দেখে ভোট দিয়েছে। বিরোধীরা অযথা অপপ্রচার করছে।
দেবকান্তিবাবু বলেন, তৃণমূল বাড়ি বাড়ি ঘাসফুল আঁকা সিঁদুর কৌটো ও দেশলাই বাক্স বিলি করেছে। কৌটো ও বাক্সের মধ্যে ‘অন্য কিছুও’ থাকতে পারে। আসলে ওরা টাকা ছড়িয়ে, লোককে মাংস-ভাত খাইয়ে ভোট আদায় করেছে। এদিকে, টাকার অভাবে আমরা প্রচার পর্বেই পিছিয়ে পড়ি। সাধারণত চাঁদা আদায় করে আমাদের ভোটের খরচ তুলতে হয়। সময় কম থাকায় আমরা চাঁদা সংগ্রহ করতে পারিনি। তারফলে ঝান্ডা কেনা যায়নি। তৃণমূল ও বিজেপি গোটা বিধানসভা এলাকা ঝান্ডায় মুড়ে দিয়েছিল। কিন্তু আমরা গুটিকয় ঝান্ডা লাগাতে পেরেছিলাম। তারফলে মানুষের মনে সেভাবে দাগ কাটা যায়নি। তবে বামেদের ভোট ফের বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। ফলে দলের নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে। আগামী দিনে এই বিষয়টা পুঁজি করে আমরা এগিয়ে যাব।
দেবকান্তিবাবু বলেন, তৃণমূল বাড়ি বাড়ি ঘাসফুল আঁকা সিঁদুর কৌটো ও দেশলাই বাক্স বিলি করেছে। কৌটো ও বাক্সের মধ্যে ‘অন্য কিছুও’ থাকতে পারে। আসলে ওরা টাকা ছড়িয়ে, লোককে মাংস-ভাত খাইয়ে ভোট আদায় করেছে। এদিকে, টাকার অভাবে আমরা প্রচার পর্বেই পিছিয়ে পড়ি। সাধারণত চাঁদা আদায় করে আমাদের ভোটের খরচ তুলতে হয়। সময় কম থাকায় আমরা চাঁদা সংগ্রহ করতে পারিনি। তারফলে ঝান্ডা কেনা যায়নি। তৃণমূল ও বিজেপি গোটা বিধানসভা এলাকা ঝান্ডায় মুড়ে দিয়েছিল। কিন্তু আমরা গুটিকয় ঝান্ডা লাগাতে পেরেছিলাম। তারফলে মানুষের মনে সেভাবে দাগ কাটা যায়নি। তবে বামেদের ভোট ফের বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। ফলে দলের নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে। আগামী দিনে এই বিষয়টা পুঁজি করে আমরা এগিয়ে যাব।



