Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

টাকার পতনে উদ্বিগ্ন: নির্মলা, স্বীকারোক্তির পরও সমালোচনা শুনতে নারাজ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী

টাকার পতনে উদ্বিগ্ন: নির্মলা, স্বীকারোক্তির পরও সমালোচনা শুনতে নারাজ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নয়াদিল্লি: ‘টাকার দাম এখন প্রধানমন্ত্রীর বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে’— মনমোহন জমানায় হামেশাই এমন কটাক্ষ করতেন নরেন্দ্র মোদি। সেই কটাক্ষই এখন ‘ব্যুমেরাং’! কারণ, মোদি জমানায় ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছে টাকা। বিগত কয়েক মাসে ডলারের নিরিখে পতনের নিত্যনতুন রেকর্ড গড়ছে ভারতীয় মুদ্রার দর। এমনকী গত শুক্রবার কেন্দ্রীয় বাজেটের ২৪ ঘণ্টা আগেও তার অন্যথা হয়নি। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে যে, এর শেষ কোথায়? রবিবার এনিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন নির্মলা সীতারামন। স্বীকার করতে বাধ্য হলেন, গোটা পরিস্থিতিতে তিনিও উদ্বিগ্ন। তবে এব্যাপারে কোনও সমালোচনা শুনতে নারাজ মোদি সরকারের অর্থমন্ত্রী। তাঁর সাফাই, ডলারের তুলনায় দাম কমছে ঠিকই। কিন্তু টাকা দুর্বল হচ্ছে না। বরং অন্য সব মুদ্রার নিরিখে দর স্থিতিশীল। নির্মলার পেশ করা বাজেট প্রস্তাব নিয়েও সমালোচনা কম হচ্ছে না। বিরোধীদের কটাক্ষ, এটা ‘বিহারের ভোটমুখী’ বাজেট। যদিও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর জবাব, জনগণের ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই বাজেটে। এপ্রসঙ্গে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের বিখ্যাত উক্তিও শোনা গিয়েছে তাঁর গলায়।
Advertisement
এদিন সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্মলা আরও জানান, আসলে ডলার শক্তিশালী হচ্ছে। যে কারণে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে টাকার দরে। তাঁর সাফ যুক্তি, ‘আমাদের দেশের অর্থনীতি শক্ত ভিতের উপরে দাঁড়িয়ে। ভিত নড়বড়ে থাকলে সমস্ত দেশের মুদ্রার নিরিখেই টাকার দর পড়ত। তা কিন্তু হচ্ছে না। বরং অন্য অনেক দেশের মুদ্রার তুলনায় টাকা যথেষ্ট স্থিতিশীল।’ এখানেই থেমে থাকেননি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন সমালোচকদের। বলেছেন, ‘সমালোচনা হতেই পারে। কিন্তু তার আগে একটু পড়াশোনা করা উচিত।’ ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ‘অফেন্স ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স’— টাকার পতন নিয়ে লাগাতার সমালোচনার মুখে এই কৌশল নেওয়া ছাড়া কোনও উপায় নেই মোদি সরকারের।
অথচ কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার আগে অন্য সুর শোনা গিয়েছিল বিজেপির মুখে। মনমোহন সিং জমানায় টাকার পতন নিয়ে নিয়মিত আক্রমণ শানাতেন নরেন্দ্র মোদি। ২০১৪ সালে ১ ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৫৮ টাকার ঘরে। নরেন্দ্র মোদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে ডলারের দাম ৪০ টাকায় নামিয়ে আনবেন। সরকার বদল হয়েছে। মোদি এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু টাকার মূল্য বাড়েনি। উল্টে ডলারের তুলনায় তা আরও তলিয়ে যাচ্ছে। শনিবার তা ছিল ৮৫ টাকা ৭৮ পয়সা। টাকার পতন রুখতে গত কয়েক মাসে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নিজেদের ভাঁড়ার থেকে ডলার খরচ করলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এই প্রসঙ্গে সীতারামন বলেন, ‘গত কয়েকমাসে ডলারের নিরিখে ৩ শতাংশ পড়েছে টাকার দাম। ফলে আমদানি খরচ বাড়ছে। এই সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কও। আমরা সবাই পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছি।’
টাকার পতনে সবথেকে বড় ধাক্কা খেয়েছে উৎপাদন ক্ষেত্র। কারণ, কাঁচামালের একটা বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। পাশাপাশি, অশোধিত তেল আমদানিতেও আগের থেকে বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে তেল কোম্পানিগুলিকে। ফলে কমছে সরকারের বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডার। টাকার দামে ধস রুখতে আগামী দিনে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও কেন্দ্রের ভূমিকা কতটা কার্যকরী হয়, সেটাই এখন দেখার! 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ