Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টাকার নেশায় একাধিক যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ধৃত মহুয়ার  

টাকার নেশায় একাধিক যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ধৃত মহুয়ার  
  • ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: টাকার নেশায় কার্যত উন্মাদ হয়ে গিয়েছিল মহুয়া। টাকার জন্য সে একাধিক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সে ‘শিকার’ জালে তুলত। কিছুদিন কথা বলার পরই টাকা চাইত। তারজন্য সে সব কিছু করতে রাজি ছিল। ভাতারে তার পরিচিত এক ব্যবসায়ী পুলিসকে জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগে সে কয়েক হাজার টাকা চায়। কিন্তু তার এই বিষয়টি জানা ছিল। তাই টাকা দিইনি। কিন্তু সে আমার পরিচিত অনেকের কাছেই টাকা হাতিয়েছে। মহুয়ার পরিচিতরা বলছেন, মহুয়া বিয়ের আগ থেকেই বেপরোয়া। বিয়ের পর সে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েও অশান্তি করে। তার স্বামী চাকরি পাওয়ার পর তাকে বর্ধমানের মিঠাপুকুরে সরকারি আবাসনে নিয়ে আসে। স্বামী সরকারি চাকরি করলেও তার খরচ মেটাতে পারত না। প্রায়ই সোনার গয়নার আবদার করত। মাঝে সে নিজেই ভাতারের নর্জ্জায় একটি হোটেল লিজ নেয়। সে ক্ষেত্রেও তার মেশো তাকে আর্থিক সহযোগিতা করেছিল। কিন্তু সেই ব্যবসা সে বেশিদিন চালাতে পারেনি। কিছুদিনের মধ্যেই ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। যদিও ধৃত পুলিসকে জেরায় জানিয়েছে, তার দুই ছেলে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে। তারজন্য মোটা টাকা খরচ হয়। মেশো পড়াশোনার খরচ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি তা দিতে অস্বীকার করেন। সেই কারণেই রাগের বশে সে মাসি এবং মেশোকে খুন করেছে। যদিও পুলিস জানতে পেরেছে, মহুয়ার দুই ছেলের পড়াশোনার খরচ দিতে মেশোর কোনও আপত্তি ছিল না। কিন্তু তারপরও সে টাকা নিত। কোনও কোনও মাসে সে ৩০ হাজারের বেশি টাকা নিয়ে গিয়েছে। সেই টাকা কোন খাতে খরচ হতো তার হিসাব সে দিত না। মাসের প্রথমেই সে মেশোর বাড়িতে হাজির হতো। কোনও কোনও মাসে সে দু’বার যেত। টাকা না পেলেই সে মাসিকে হেনস্তা করত। তার এই আচরণের জন্য অন্য আত্মীয়দের সঙ্গে মহুয়ার সম্পর্ক ছিল না। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, মহুয়ার কোনও ক্রাইম রেকর্ড নেই। কিন্তু তারপরও সে মেশো এবং মাসিকে খুন করার পর পেশাদার খুনিদের মতো আচরণ করছে। কোনও কিছুই সে সহজে স্বীকার করতে চাইছে না। দফায় দফায় জেরা করার পর সে মুখ খুলছে। তার বড় ছেলের আচরণও একই রকম। যদিও ছোট ছেলে ভেঙে পড়েছে। মায়ের জন্যই দুই ছেলেকে খেসারত দিতে হল। গত শনিবার সে দুই ছেলেকে নিয়েই ভাতারের রবীন্দ্রপল্লিতে মাসি এবং মেশোকে খুন করে মহুয়া। অপারেশন শেষে তারা বর্ধমানে নিজের বাড়িতে ফিরে আসে। তাদের আত্মীয়রা বলছেন, মহুয়ার স্বামীর আয়েই স্বচ্ছলভাবে সংসার চলে যেতে পারত। কিন্তু তার বেলেল্লাপনার জন্যই সব কিছু তছনছ হয়ে গিয়েছে। সব নেশাতেই মহুয়া আসক্ত হয়ে পড়েছিল। তার খেসারত তাকে দিতে হল।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ