Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টাকা তোলার সময় সাহায্য করার অছিলায় এটিএম বদল

টাকা তোলার সময় সাহায্য করার অছিলায় এটিএম বদল
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আর ফোন করে এটিএম কার্ডের নম্বর, পিন জানা নয়, তথ্য হাতাতে এবার জামতাড়া গ্যাং ঘাপটি মেরে থাকছে এটিএমেই। টাকা তুলতে এটিএম কাউন্টারে কোনও বয়স্ক বা অপটু লোক ঢুকলেই ‘শিকার’কে চিহ্নিত করছে জামতাড়া গ্যাং। নানা অছিলায় শিকারকে টাকা তুলতে সাহায্য করার নাম করে গ্রাহকের আসল এটিএম কার্ড হাতিয়ে নিচ্ছে। কথার জালে ফাঁসিয়ে কেপমারি করে হাতে গুঁজে দিচ্ছে নকল এটিএম কার্ড। টাকা তোলায় সাহায্য করার নামে তারা জেনে নিচ্ছে এটিএমের পিন। যার ফলে গ্রাহকের এটিএম থেকে যত খুশি টাকা তুলে বহু মানুষকে পথে বসাচ্ছে এই চক্র। শিল্পাঞ্চলের একাধিক থানায় এই ঘটনা ঘটলেও রানিগঞ্জ থানার পুলিস তদন্তে নেমে প্রাথমিক সাফল্য পেয়েছে। কালীপুজোর রাতে এই ধরনের প্রতারণার তদন্তে নেমে রবিবার রাতে জামুড়িয়া ও আসানসোল থেকে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে তারা। তদন্তে নেমে তাদের সঙ্গে জামতাড়া গ্যাংয়ের সক্রিয় যোগ পাওয়া গিয়েছে। 
Advertisement
ডিসি(সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস বলেন, বিভিন্ন থানা এলাকায় এটিএম থেকে কেপমারির ঘটনা ঘটছিল। আসল এটিএম ও পিন নম্বর জেনে প্রতারকরা সাধারণ মানুষের হাতে নকল এটিএম কার্ড ধরিয়ে দিচ্ছিল। রানিগঞ্জ থানার পুলিস তদন্তে নেমে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। জামতাড়া থেকেই পুরো চক্রটি নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে। কোনও অপরিচিত মানুষ টাকা তুলতে সাহায্য করতে এলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। 
এতদিন ধরে ফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করে এটিএম নম্বর ও পিন জেনে নিত জামতাড়া গ্যাং। অনেকে সচেতন হওয়ায় ফোনের মাধ্যমে কারসাজি সম্ভব হচ্ছে না। সেকারণে তারা সশরীরে কেপমারিতে নেমে পড়েছে। তাও একেবারে এটিএম মেশিনের সামনে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিককালে আসানসোল উত্তর, আসানসোল দক্ষিণ থানা এলাকার একাধিক অভিনব প্রতারণার ঘটনা সামনে আসছিল। বিশেষ করে বয়স্করা থানায় এসে অভিযোগ করছিলেন, অপরিচিত লোকজন টাকা তোলার সাহায্য করার নাম করে আসল এটিএম নিয়ে নকল এটিএম হাতে ধরিয়েছে। অ্যাকাউন্ট থেকে টাকাও তুলে নেওয়া হয়েছে। কালীপুজোর রাতে রানিগঞ্জ স্টেশনের অদূরে একটি এটিএম থেকে একই ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন এটিএম থেকে এক ব্যক্তির ৫০হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়। ১৬ হাজার টাকায় অনলাইন কেনাকাটা করা হয়। গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেন পুলিস কমিশনারেটের অফিসাররা। তখনই তাঁরা নিশ্চিত হন, পুরো গ্যাং঩টি নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে জামতাড়া থেকে। শিল্পাঞ্চলে একাধিক বাসিন্দা তাদের গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য। পুলিস অভিযান চালিয়ে, আসানসোল দক্ষিণ থানা এলাকার জুনেদ আলি ওরফে আমন ও জামুড়িয়া থানার শ্রীপুর এলাকার আরমানুল হককে গ্রেপ্তার করে। উৎসবের মরশুমে মানুষ যখন বাড়তি টাকা তুলে খরচ করতে ব্যস্ত। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বহু মানুষের অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করেছে প্রতারকরা।
সম্পর্কিত সংবাদ