নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: টাকা-পয়সা নিয়ে অশান্তির জেরেই কি দুই সন্তান সহ লক্ষ্মী মার্ডিকে খুন হতে হল? মহম্মদবাজারের ম্যানেজার পাড়ায় খুনের ঘটনায় এই প্রশ্নই এবার প্রকাশ্যে এল। খোদ ধৃতই সেই প্রশ্ন উস্কে দিল। শনিবার সকালে আদালতের বাইরে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে ধৃত নয়ন বিত্তারের দাবি, জোর করে মেয়েটি তার টাকা-পয়সা কেড়ে নিত। তার আরও দাবি, প্রায় ১০ মাস ধরে তাদের মধ্যে পরিচয় ছিল। তবে প্রেমের কোনও সম্পর্ক ছিল না। জোর করে তার থেকে টাকা কেড়ে নেওয়া হতো। মনে করা হচ্ছে, ধৃতের এহেন দাবিতে পুলিসি তদন্তে নয়া মোড় আসতে চলেছে। এদিকে খুনের সঠিক কারণ জানতে পুলিসও তদন্তে গতি বাড়াচ্ছে। এদিন নয়ন বিত্তার ও সুনীল মির্ধাকে আদালতে তোলা হলে পুলিসের তরফে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। সরকারি আইনজীবী শংকরকুমার চক্রবর্তী বলেন, তদন্তের স্বার্থে বিচারক ন’দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ম্যানেজার পাড়ায় খুনের ঘটনায় আট সদস্যের স্পেশাল টিম তদন্ত জারি রেখেছে। ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিস নয়ন ও সুনীলকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের মধ্যে নয়ন খুনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে খবর মিলেছে। অন্যদিকে, সুনীলের বিরুদ্ধে নয়নকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দু’জনের বিরুদ্ধে ন্যায় সংহিতার ১০৩ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ন’দিনের রিমান্ড পর্বে পুলিস ঘাতক হাতিয়ার উদ্ধার সহ খুনের আসল কারণ জানার চেষ্টায় রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। যদিও ধৃত নয়নের বক্তব্য সামনে আসায় সেই তত্ত্ব ধোপে টিকছে না। নয়নের স্পষ্ট বক্তব্য, আমার ছেলে-মেয়ে আছে। ওসব দরকার নেই। স্বাভাবিকভাবেই পরকীয়া তত্ত্ব এই খুনের ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে প্রমাণ হচ্ছে না। এক্ষেত্রে পুলিস সবদিক খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। তবে কি নয়নের দাবিই সত্যি? তাদের মধ্যে কি আদৌ প্রেমের সম্পর্ক ছিল না? নাকি সবটাই নয়নের মনগড়া কথা? পুলিসি তদন্তেই অবশ্য সবকিছু স্পষ্ট হবে। খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তারির পাশাপাশি পুলিস সন্দেহের ভিত্তিতে আরও দু’জনকে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত ১০টা নাগাদ দুই সন্তান সহ লক্ষ্মী মার্ডি খুন হয়েছেন। পুলিস জানতে পেরেছে, সেই রাতেই ধৃত নয়নের সঙ্গে মৃতার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তাহলে কি টাকা-পয়সা নিয়েই সেসময় কথা কাটাকাটি হয়েছিল? ধৃতের বক্তব্য সামনে আসায় সেই আশঙ্কাই প্রবল হচ্ছে। এদিকে খুনের ঘটনায় তদন্ত গোটাতে আগামীতে ফরেন্সিক দলও আসতে চলেছে। সেক্ষেত্রে পুলিসের তরফে মৃতার বাড়ি সিল করে রাখা হয়েছে। পুলিস সুপার আমনদীপ বলেন, ঘটনায় তদন্ত চলছে।



