Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টাকা ফেরাতে তলব নন্দীগ্রামের ১৫ জনকে

টাকা ফেরাতে তলব নন্দীগ্রামের ১৫ জনকে
  • ২০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পাকাবাড়ি থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরির জন্য টাকা পেয়েছেন। নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে এরকম ১৫জন আবাস উপভোক্তার কাছ থেকে ন’লক্ষ টাকা ফেরত নিতে আজ, সোমবার বিডিও অফিসে ডাকা হয়েছে। তাঁদের উপস্থিতিতে বিডিও অফিসে ট্রেজারি ফর্ম পূরণ করা হবে। তারপর ওইসব উপভোক্তাদের সরকারি গাড়িতে চাপিয়ে হলদিয়ায় ট্রেজারি অফিসে নিয়ে যাবে ব্লক প্রশাসন। সেখানে ট্রেজারি ফর্ম জমা করে মাথাপিছু ৬০হাজার টাকা ফেরত নেওয়া হবে। ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেভাগে ওই ১৫জন উপভোক্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁদের রেয়াপাড়ায় বিডিও অফিস থেকে হলদিয়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারি গাড়িও থাকবে। সম্ভবত রাজ্যে প্রথম নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে বাংলার বাড়ি তৈরির টাকা ফেরানো হচ্ছে।
Advertisement
নন্দীগ্রাম-২ বিডিও সুপ্রতিম আচার্য বলেন, সোমবার ১১টায় আমরা ১৫জনকে ডেকে পাঠিয়েছি। আমাদের কর্মীরাই ট্রেজারি ফর্মপূরণ করে দেবেন। ওই ১৫জন তাতে সই করার পর তাঁদের গাড়িতে করে হলদিয়ায় ট্রেজারি অফিসে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে নগদ টাকা ফেরত নেওয়া হবে।
বিরুলিয়া পঞ্চায়েতের হানুভুঁইয়া গ্রামের পুষ্প ভুঁইয়া, শম্ভুচরণ জানা, বিরুলিয়া গ্রামের হরিপদ দলপতি, ঘোলপুকুরিয়ার গোবর্ধন মণ্ডল পাকাবাড়ি থাকা সত্ত্বেও সরকারি কর্মীদের কাঁচাবাড়ি দেখিয়ে আবাস তালিকায় নাম তুলেছেন বলে অভিযোগ। তাঁদের প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে বাড়ি তৈরির জন্য ৬০হাজার টাকা করে ঢুকেছে। একইভাবে খোদামবাড়ি-১ পঞ্চায়েতের ভেটুরিয়া গ্রামের শেখ আসেদ, রিজিয়া বিবি, খোদামবাড়ি-২ পঞ্চায়েতের গোপালপুর গ্রামের অশোক মাইতি, গৌতম মণ্ডল ও শান্তনু দাস পাকাবাড়ির মালিক হয়েও সরকারি কর্মীদের ভুল তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ। কেউ কেউ ‘সরকারি মুখ্যমন্ত্রী’ টোল-ফ্রি নম্বরে ফোন করেছিলেন। সরকারি কর্মীদের ধোঁকা দিয়ে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে মাথাপিছু ৬০হাজার টাকা পেয়েছেন। তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার পর বিডিও অফিসে এনিয়ে অভিযোগ জমা পড়ে। ব্লক প্রশাসন প্রত্যেকের বাড়িতে গিয়ে ভিজিট করার পর তাঁদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই ১৫জনকে নোটিস পাঠিয়ে টাকা ফেরত দিতে বলা হয়।
আবাস উপভোক্তাদের ফেরত নেওয়া টাকা কোন অ্যাকাউন্টে ঢুকবে তানিয়ে প্রশাসনের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য ছিল না। গত শুক্রবার এনিয়ে প্রত্যেক বিডিও অফিসে অ্যাকাউন্ট নম্বর পাঠানো হয়েছে। টিআর ফর্ম পূরণ করে নগদ টাকা নিয়ে ট্রেজারি অফিসে গিয়ে ওই অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়বে। একসঙ্গে ১৫জন এলে টাকার অঙ্ক প্রায় ন’লক্ষ হবে। সেক্ষেত্রে রেয়াপাড়া থেকে হলদিয়াগামী সরকারি গাড়ির সামনে পুলিসের ভ্যান রাখার কথাও ভাবছে ব্লক প্রশাসন। বেশি টাকা নিয়ে ট্রেজারি আসা যাওয়ার সময় এভাবে পুলিসের এসকর্ট গাড়ি থাকে। সোমবার একসঙ্গে ১৫জন এলে সেক্ষেত্রে এসকর্ট গাড়ি থাকবে।
ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চিহ্নিত ১৫জনের মধ্যে কয়েকজন টাকা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আবার কয়েকজন বাহানা খুঁজছেন। অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ার দু’-তিনদিনের মধ্যেই অধিকাংশ টাকা তুলে নিয়েছেন। যদিও তাঁদের সকলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা আছে। সেখানে কোনওরকম লেনদেন করা যাবে না। প্রশাসনের নির্দেশমতো টাকা ফিরিয়ে দিলে অ্যাকাউন্টে নিয়ন্ত্রণ উঠে যাবে। কিন্তু, সেটা না করলে ওই এফআইআর করা হবে বলে বিডিও জানিয়েছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ