সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: ‘ছেলে, দিদিকে ইসিএলে। মেয়েকে এনআইটিতে। ভাইঝিকে দিলি ই-আধারে। ভাগ্নেকেও তাই রে! কর্মীরা সব না খেয়ে মরে, তোর বিকার নাই রে।’ এর পরের স্তবকে লেখা—‘কয়লা বালির টাকা পেলেই খুশি লোখু। ছি ছি ছি রে লোখু ছি!’
Advertisement
লক্ষ্মীবারের ভোর। দুর্গাপুরের গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীরা নিজেদের স্মার্টফোন খুলতেই ভেসে উঠছে এই কটাক্ষের ছড়া। দলের সোশ্যাল মিডিয়ার একাধিক প্ল্যাটফর্মে ভাসতেই রয়েছে। যাকে বলে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল। সেই সঙ্গে ভাইরাল হয়েছে টাকার বিনিময়ে মণ্ডল সভাপতি ঠিক করার মতো অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভয়েস রেকর্ডও। দু’টি ক্ষেত্রেই অবশ্য সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’।
কিন্তু প্রশ্ন হল, এমন শ্লেষ মিশ্রিত ছড়া কাকে নিশানা করে? ওইসব প্ল্যাটফর্মে বিজেপির নেতা-কর্মীরা যে যাঁর মতো জবাব দিয়েছেন। কেউ বলেছেন, নিশানা খুব স্পষ্ট, দুর্গাপুরের দলের এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি। তিনি আবার রাজ্যস্তরের নেতাও। তাঁর স্বজনপোষনমূলক কার্যকলাপকেই মূলত আক্রমণ করা হয়েছে। স্বভাবতই ওই নেতার অনুগামীরা এহেন পোস্ট দেখে গর্জে উঠেছেন। প্রতিবাদ সূচক মন্তব্য পোস্ট করছেন। আবার ওই নেতার বিরোধী শিবির ওই পোস্টে লাইক, লাভ চিহ্ন দিয়ে সমর্থন জানাচ্ছেন। কেউ কেউ অতি উৎসাহে দলের গ্রুপের বাইরেও ছড়াটি শেয়ার করেছেন। সবমিলিয়ে, ‘ছি ছি ছি রে লোখু ছি!’ ছড়া এবং ভয়েস রেকর্ড এদিন হয়ে ওঠে দুর্গাপুরের ‘টক অব টাউন।
কাঁকসা ব্লকের আমলাজোড়া গ্রাম পঞ্চায়েত। সেখানকার বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য পরমেশ্বর বাউরি। তাঁর সঙ্গে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ দত্তর কথোপকথন ভাইরাল হয়েছে ওই ভয়ের রেকর্ডে। সেখানে পরমেশ্বরবাবুকে অভিযোগের সুরে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভার কনভেনর ফোন করে বুথ সভাপতি নির্বাচন করছেন। কোন মিটিং হচ্ছে না’ বিষয়টি নিয়ে পরমেশ্বরবাবু ফোনে ধরা হলে তিনি বলেন, ‘মণ্ডল সভাপতি নির্বাচন হচ্ছে টাকার বিনিময়ে। ফোন করেই বুথ সভাপতি নির্বাচন করা হচ্ছে। আমাকে ফোন করে বলা হচ্ছে, তুমি ওখানে সংগঠন কর। তা হলে তোমাকেই বুথ সভাপতি করা হল। আমার দাবি, এটা দলের রীতি নয়। এলাকায় এসে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি দলীয় নেতৃত্বকে বিষয়টি জানিয়েছি।’ পাশাপাশি তিনি স্বীকারও করে নেন, ‘ওই কথোপকথনের রেকর্ড আমিই আমাদের দলের গ্রুপে দিয়েছি। বিজেপি গ্রুপে যে ছড়াটি ভাইরাল হয়েছে, তাকেও আমি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি।’
দু’টি ঘটনাতেই বেশ বিড়ম্বনায় জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে জেলা সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ দত্ত বলেন, ‘কবিতা ভাইরাল করা ও অন্যান্য বিষয়গুলি দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি দেখছে। নতুন যাঁরা বিজেপিতে এসেছে তাঁদের হয়তো মানিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে। অনেকেরই হয়তো মণ্ডল সভাপতি হওয়ার ইচ্ছে ছিল। না হতে পারার কারণেই এভাবে বহিঃপ্রকাশ। দলের সংগঠনে পরিবর্তন হলে প্রথমে এমনটাই হয়ে থাকে।’
তা বলে সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে একজন দলীয় জনপ্রতিনিধিকে এভাবে নজিরবিহীন আক্রমণ? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবহেলার পুঞ্জীভুত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে ওই ছড়া ও পরমেশ্বরবাবুর ভয়েস রেকর্ডের মধ্যে। ছড়াটির তৃতীয় স্তবকও আরও বিস্ফোরক। নিশানায় সেই ‘লোখু’। সেখানে লেখা, ‘তোর চটি যাঁরা চাটবে, তারাই পাবে পদ। না চাটলে তোর চটি তাঁদের হবে বিপদ। তুই একটা তোলামূলের সেটিংবাজ। তুই আরএসএস না, ভালো ধান্দাবাজ। বাড়ি গাড়ি সোনা গয়না করলি এইট পাশ লোখু। ছি ছি ছি রে লোখু ছি…।’
রাখঢাক না করে বিতর্কিত ছড়াটিকে দলীয় সমর্থকদের একটি গ্রুপে শেয়ার করেছেন কাঁকসা ব্লকের গোপালপুর পঞ্চায়েতের বাঁশকোপার বিজেপি বুথ সভাপতি দিলীপ রায়। তিনি বলেন, ‘আমি ওই নেতার অনৈতিক কাজের চরম বিরোধী। তাই ছড়াটিকে সমর্থন করে সেটি ফরওয়ার্ড করেছি।’
কিন্তু ছড়াটি কে লিখে পোস্ট করলেন, তিনি অবশ্য অন্তরালে!
কিন্তু প্রশ্ন হল, এমন শ্লেষ মিশ্রিত ছড়া কাকে নিশানা করে? ওইসব প্ল্যাটফর্মে বিজেপির নেতা-কর্মীরা যে যাঁর মতো জবাব দিয়েছেন। কেউ বলেছেন, নিশানা খুব স্পষ্ট, দুর্গাপুরের দলের এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি। তিনি আবার রাজ্যস্তরের নেতাও। তাঁর স্বজনপোষনমূলক কার্যকলাপকেই মূলত আক্রমণ করা হয়েছে। স্বভাবতই ওই নেতার অনুগামীরা এহেন পোস্ট দেখে গর্জে উঠেছেন। প্রতিবাদ সূচক মন্তব্য পোস্ট করছেন। আবার ওই নেতার বিরোধী শিবির ওই পোস্টে লাইক, লাভ চিহ্ন দিয়ে সমর্থন জানাচ্ছেন। কেউ কেউ অতি উৎসাহে দলের গ্রুপের বাইরেও ছড়াটি শেয়ার করেছেন। সবমিলিয়ে, ‘ছি ছি ছি রে লোখু ছি!’ ছড়া এবং ভয়েস রেকর্ড এদিন হয়ে ওঠে দুর্গাপুরের ‘টক অব টাউন।
কাঁকসা ব্লকের আমলাজোড়া গ্রাম পঞ্চায়েত। সেখানকার বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য পরমেশ্বর বাউরি। তাঁর সঙ্গে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ দত্তর কথোপকথন ভাইরাল হয়েছে ওই ভয়ের রেকর্ডে। সেখানে পরমেশ্বরবাবুকে অভিযোগের সুরে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভার কনভেনর ফোন করে বুথ সভাপতি নির্বাচন করছেন। কোন মিটিং হচ্ছে না’ বিষয়টি নিয়ে পরমেশ্বরবাবু ফোনে ধরা হলে তিনি বলেন, ‘মণ্ডল সভাপতি নির্বাচন হচ্ছে টাকার বিনিময়ে। ফোন করেই বুথ সভাপতি নির্বাচন করা হচ্ছে। আমাকে ফোন করে বলা হচ্ছে, তুমি ওখানে সংগঠন কর। তা হলে তোমাকেই বুথ সভাপতি করা হল। আমার দাবি, এটা দলের রীতি নয়। এলাকায় এসে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি দলীয় নেতৃত্বকে বিষয়টি জানিয়েছি।’ পাশাপাশি তিনি স্বীকারও করে নেন, ‘ওই কথোপকথনের রেকর্ড আমিই আমাদের দলের গ্রুপে দিয়েছি। বিজেপি গ্রুপে যে ছড়াটি ভাইরাল হয়েছে, তাকেও আমি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি।’
দু’টি ঘটনাতেই বেশ বিড়ম্বনায় জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে জেলা সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ দত্ত বলেন, ‘কবিতা ভাইরাল করা ও অন্যান্য বিষয়গুলি দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি দেখছে। নতুন যাঁরা বিজেপিতে এসেছে তাঁদের হয়তো মানিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে। অনেকেরই হয়তো মণ্ডল সভাপতি হওয়ার ইচ্ছে ছিল। না হতে পারার কারণেই এভাবে বহিঃপ্রকাশ। দলের সংগঠনে পরিবর্তন হলে প্রথমে এমনটাই হয়ে থাকে।’
তা বলে সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে একজন দলীয় জনপ্রতিনিধিকে এভাবে নজিরবিহীন আক্রমণ? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবহেলার পুঞ্জীভুত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে ওই ছড়া ও পরমেশ্বরবাবুর ভয়েস রেকর্ডের মধ্যে। ছড়াটির তৃতীয় স্তবকও আরও বিস্ফোরক। নিশানায় সেই ‘লোখু’। সেখানে লেখা, ‘তোর চটি যাঁরা চাটবে, তারাই পাবে পদ। না চাটলে তোর চটি তাঁদের হবে বিপদ। তুই একটা তোলামূলের সেটিংবাজ। তুই আরএসএস না, ভালো ধান্দাবাজ। বাড়ি গাড়ি সোনা গয়না করলি এইট পাশ লোখু। ছি ছি ছি রে লোখু ছি…।’
রাখঢাক না করে বিতর্কিত ছড়াটিকে দলীয় সমর্থকদের একটি গ্রুপে শেয়ার করেছেন কাঁকসা ব্লকের গোপালপুর পঞ্চায়েতের বাঁশকোপার বিজেপি বুথ সভাপতি দিলীপ রায়। তিনি বলেন, ‘আমি ওই নেতার অনৈতিক কাজের চরম বিরোধী। তাই ছড়াটিকে সমর্থন করে সেটি ফরওয়ার্ড করেছি।’
কিন্তু ছড়াটি কে লিখে পোস্ট করলেন, তিনি অবশ্য অন্তরালে!



