Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টাকা না দিলে রেজাল্ট নয়, ফরমান স্কুলের, প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ পড়ুয়াদের

টাকা না দিলে রেজাল্ট নয়, ফরমান স্কুলের, প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ পড়ুয়াদের
  • ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, তেহট্ট: পরীক্ষার রেজাল্ট দিতে চারশো টাকা নিচ্ছে স্কুল। না দিলে রেজাল্ট দেওয়া হচ্ছে না। এই অভিযোগে তেহট্ট থানার মোবারকপুর কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা হরিপুরে কৃষ্ণনগর–করিমপুর রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। মঙ্গলবার দুপুরে প্রায় আধঘণ্টা রাস্তা বন্ধ থাকে। পুলিস গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের বুঝিয়ে অবরোধ তোলে। পাশাপাশি পুলিস স্কুলকে রেজাল্ট দিয়ে দিতে বলে। অবশেষে সমস্যার সমাধান হয়। 
Advertisement
স্কুল সুত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলের পাশে একটি জমি আছে। যেটা স্কুল কিনে নিলে খেলার মাঠটা বড় হবে। সেই মতো অভিভাবকদের সঙ্গে স্কুলের শিক্ষক ও পরিচালন সমিতির বেশ কয়েকবার মিটিং হয়। মিটিংয়ে ঠিক হয় যে, স্কুলের শিক্ষকরা যেমন টাকা দেবেন তেমনি এলাকার মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়া হবে। আবার ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হবে। কিন্তু টাকা না দিলে রেজাল্ট আটকে দেওয়া হবে, সেরকম কথা হয়নি। এদিন ছিল রেজাল্টের দিন। পঞ্চম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষার রেজাল্ট বের হচ্ছিল। ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, চারশো টাকা না দিলে রেজাল্ট দেওয়া হবে না, এই কথা স্কুল থেকে বলা হয়। অনেক ছাত্রছাত্রীরই সেই টাকা দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তাদের রেজাল্ট আটকে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর ছাত্রছাত্রীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁরা স্কুলে বিক্ষোভ দেখায়। সেই সঙ্গে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে। এক অভিভাবিকা ইশা মাঝি বলেন, আজ রেজাল্ট ছিল। চারশো টাকা না দিলে রেজাল্ট দেওয়া হবে না বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়। স্কুল একটা জমি কিনেছে, সেই জন্য এই টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জানায়। এর আগেও এলাকার মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলা হয়েছে জমির জন্য। তারপরেও আবার কীসের টাকা নেওয়া হবে। আমাদের অবস্থা খারাপ, আমরা অত টাকা দিতে পারব না। অষ্টম শ্রেণির ছাত্র রোহিত বিশ্বাস বলে, এদিন রেজাল্ট নিতে এসে জানতে পারি যে চারশো টাকা না দিলে মার্কশিট দেওয়া হবে না। আমরা রেজাল্ট চাই। তাই সবাই মিলে বিক্ষোভ দেখাই। 
স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিনয়কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, একটা সমস্যা হয়েছিল। সেই সমস্যা মিটে গিয়েছে। আর যে টাকাটার কথা বলা হচ্ছে সেটা স্কুলের পরিচালন সমিতি, অভিভাবকদের তিনটে মিটিং হওয়ার পর ঠিক হয়েছে স্কুলের পাশে একটা জমি কেনার জন্য। আমরা প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে ফলাফল জানিয়ে মার্কশিট দিয়ে দিয়েছি। 
সম্পর্কিত সংবাদ