সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: টাকা মিটিয়ে দেওয়ার পরেও বন্ধকে রাখা ফোন ফেরত দেয়নি বন্ধু। বরং বন্ধুর পরিবার অপমান ও মারধর করে। তা সহ্য না করতে পেরে শনিবার সাঁতুড়ি থানার লেদিয়াম গ্রামের এক যুবক আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম তাপস দাস(৩৩)। মৃতের পরিবারের দাবি, তাপসকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছে ওই যুবক। তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে রবিবার মৃতের পরিবার সহ আত্মীয়-স্বজনেরা সাঁতুড়ি থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস এদিনেই অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের নাম রাজু বাউরি। বাড়ি লেদিয়াম গ্রামে। তাকে এদিন রঘুনাথপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। কয়েকদিন আগে টাকার অভাবে তাপস তাঁর গ্রামেরই বন্ধু রাজুকে ফোন বন্ধকে রাখতে দিয়েছিলেন। কথা ছিল, যেদিন টাকা মেটানো হবে, সেই দিনই ফোন ফেরত দেওয়া হবে। সেই মতো তাপস শুক্রবার টাকা নিয়ে বন্ধকে রাখা ফোন আনতে রাজুর বাড়ি গিয়েছিলেন। অভিযোগ, তাপসকে ফোন না দিয়ে তাঁকে নানাভাবে অপমানিত করা হয়। সেই নিয়ে তাপস প্রতিবাদ জানালে কথা কাটাকাটি হয়। রাজু ও তার পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মারধর করে বলে অভিযোগ। তাপস অপমানিত হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। বিষয়টি নিয়ে বাড়ির কাউকে কিছু জানাননি। শনিবার পরিবারের সদস্যরা বাড়ির কাছে একটি জঙ্গলে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিস ঘটনাস্থলে যায়। তাঁকে উদ্ধার করে মুরাডি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। বিষয়টি জানার পরেই মৃতের পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। রাজুকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। মৃতের ভাইপো রাহুল দাস রাজুর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। রাজুর জন্য তাপসকে আত্মঘাতী হতে হয়েছে বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে।



