সংবাদদাতা, ঘাটাল: প্রশাসনের ‘সহযোগিতা নেই’ তাই দুরন্ত গতিতে ছুটতে থাকা দাসপুর-১ ব্লকের একমাত্র কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প যে কোনও সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই এনিয়ে চিন্তায় রয়েছেন ওই ব্লকের সরবেড়িয়া-১ গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা। রামসাগর কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের কর্মীরা জানালেন, প্রকল্পটি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশ ভালো সাড়া পাওয়া গিয়েছে। তাই প্রত্যেক দিন প্রচুর পরিমাণে কঠিন বর্জ্য সংগৃহীত হচ্ছে। কিন্তু রাখার জায়গা নেই বলে তাঁরা অসহায় বোধ করছেন। সরকার নতুন ভবনের জন্য টাকাও বরাদ্দ করেছে। কিন্তু ব্লক প্রশাসনের উদাসীনতায় কোনও কাজ এগচ্ছে না বলে তাঁদের অভিযোগ। বিডিও দীপঙ্কর বিশ্বাস বলেন, ‘টাকা এসে পড়ে রয়েছে কাজ শুরু হচ্ছে না, এমনটি হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি দেখভাল করেন অন্য এক আধিকারিক। আমি খোঁজ নিয়ে মন্তব্য করব।’ ২০২৩ সালে ওই ব্লকের ১০টি গ্রামপঞ্চায়েতের মধ্যে বাসুদেবপুর এবং সরবেড়িয়া-১ গ্রামপঞ্চায়েত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিকাঠামো তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় টাকা পায়। দু’টি গ্রামপঞ্চায়েত প্রাথমিক পরিকাঠামো তৈরি করলেও শুধুমাত্র সরবেড়িয়া-১ গ্রামপঞ্চায়েত গত বছর ৬ নভেম্বর উদ্বোধনের দিন থেকে পুরো দমে কাজ শুরু করে দেয়। প্রকল্পটির পরিচালনার দায়িত্ব পায় অলিনা স্বসহায়ক গ্রুপ। ওই গ্রুপের দলনেত্রী পুতুল চক্রবর্তী জানান, সেই দিন থেকে গ্রামপঞ্চায়েতের ১৭টি গ্রাম থেকে নিয়মিত আবর্জনা সংগ্রহ করার কাজ চলছে। ফলে গ্রামপঞ্চায়েতের প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবারের আবর্জনা ফেলা নিয়ে দুশ্চিন্তা মাথা থেকে নেমে যায়। কিন্তু বর্তমানে বর্জ্য রাখার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না।
Advertisement
বাড়ির বর্জ্য ছাড়াও গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার উৎসব-অনুষ্ঠানগুলি থেকেও আবর্জনা তুলে নিয়ে আসা হচ্ছে। এখানে সেগুলি পৃথকীকরণ করে জৈব সার তৈরির কাজ শুরু করে এলাকার চাষিদের বিক্রি করাও হচ্ছে। ওই প্রকল্পটি তৈরি করার পর মানুষ যেমন বর্জ্য নিষ্কাশন নিয়ে সচেতন হয়েছেন, সেই সঙ্গে এলাকার মানুষদের উৎসাহও বাড়ছে। ওই প্রকল্পের ব্যবস্থাপক শ্যামল সাবুদ বলেন, ‘বর্তমানে প্রত্যেক দিন এতো পরিমাণ বর্জ্য আসছে, আমরা তা রাখার জায়গা পাচ্ছি না। অথচ বাড়ি ও শেড তৈরি করার জন্য আমাদের দাবি মতো জেলা থেকে জুলাই মাসে ১৫ লক্ষ টাকা এসে পড়ে রয়েছে। কিন্তু বিডিও সেই টাকা দিয়ে নতুন শেড ও বাড়ি তৈরি করার উদ্যোগ নিচ্ছেন না। ফলে আমরা এবার আবর্জনা রাখব কোথায়, তা নিয়েই সমস্যায় পড়েছি।’ ওই গ্রামপঞ্চায়েত প্রধান মৌমিতা পাড়েয়া মুণ্ডা জানান, বর্জ্য রাখা নিয়ে প্রচুর সমস্যা হচ্ছে। স্তূপাকার বর্জ্য থেকে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিষয়টি ব্লক প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে। শ্যামলবাবু বলেন, ‘ওই টাকা দিয়ে নতুন বাড়ি ও শেড করার জন্য বার বার ব্লক অফিসে জানানো হয়েছে। কিন্তু ব্লক প্রশাসন কোনও রকম সহযোগিতা করছে না। ফলে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা উদ্বেগে রয়েছি। কারণ যেভাবে সাড়া পাওয়া গিয়েছে, অবিলম্বে বর্জ্য রাখার জায়গা ও বর্জ্য পৃথকীকরণের জায়গা তৈরি না করতে পারলে নতুন করে বর্জ্য আনা যাবে না। তখনই সমস্যা তৈরি হবে।’ স্বসহায়ক গ্রুপ ছাড়াও অনারারিয়াম ভিত্তিতে যে পাঁচজন কাজ করেন, তাঁরাও বিগত সাত মাস পারিশ্রমিক পাননি বলে জানা গিয়েছে।



