সুকান্ত মাহাত, পুরুলিয়া: পুরুলিয়া ১ ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে রমরমিয়ে চলছে দালালরাজ। রীতিমতো ‘ফিক্সড রেট’-এ জমির মিউটেশন, কনভারশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজে টাকা নিচ্ছে আধিকারিকদের একাংশ। টাকা দিতে না পারলে অফিসে ঘুরে ঘুরে জুতোর সুখতলা খোয়ানো ছাড়া উপায় নেই মানুষের। কোনও কোনও আধিকারিক আবার প্রোমোটারদের চাপে ওই অফিস থেকেই দেওয়া সরকারি নথিকে ‘অবৈধ’ বলে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। ফলে নিত্যদিন ভোগান্তি শিকার হচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা।
Advertisement
শহর লাগোয়া পুরুলিয়া ১ নম্বর ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের কাজকর্ম নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পুরুলিয়া শহরও এই ব্লকের অধীনে থাকায় শহর এবং শহর লাগোয়া জমিকে কেন্দ্র করে দালাল এবং প্রোমোটারদের রমরমা চলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রোমোটারদের কথাতেই চলেন দপ্তরের আধিকারিকদের একাংশ। কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে জমির পরিমাণ বদলে দিয়ে, কখনও আবার রেকর্ডে নাম পরিবর্তন করে দিয়ে হয়রান করা হয় বাসিন্দাদের। টাকা না দিলে একের পর এক কাগজের অজুহাতে কাজ আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, মিউটেশন, কনভারশন থেকে শুরু করে পৈত্রিক জমি রেকর্ড করাতেও টাকা না দিলে কাজ হয় না বলে অভিযোগ। বাসিন্দাদের বক্তব্য, আধিকারিকদের একাংশ অফিসের বাইরে বেশ কয়েকজন এজেন্ট রেখে দিয়েছেন। জেরক্সের দোকানেও রয়েছে এজেন্ট। ওই এজেন্টদের টাকা দিলে অফিসে কোনও সমস্যাই হয় না। দালালদের টাকা না দিয়ে কেউ নিজে কাজ করাতে গেলেই তাদের হয়রানির একশেষ হতে হয়।
পুরুলিয়া ১ নম্বর ব্লকের চাগদা এলাকার বাসিন্দা চাষি উত্তম মাহাত বলেন, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া একটি জমির রেকর্ড সংশোধন করাতে সত্যিই চটি ছিঁড়ে যাওয়ার অবস্থা হয়েছে। আরএস খতিয়ান অনুযায়ী এলআর খতিয়ানে রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করেছিলাম। দীর্ঘদিন সে বিষয়ে কোনও শুনানি হচ্ছিল না।
মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ জানানোর পর শুনানি শুরু হয়। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরেও এখনও সংশোধন করাতে পারলাম না। উত্তমবাবু আরও বলেন, অফিস থেকে সরকারি নিয়মে আরএস খতিয়ান বের করা হয়েছে। সেই খতিয়ান অনুযায়ী সংশোধন করার আবেদন করা হলেও টালবাহানা করছেন আধিকারিকরা। বিষয়টি নিয়ে জেলার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিককেও অভিযোগ জানিয়েছি। তাতেও লাভ হয়নি। প্রোমোটারদের কথাতেই চলছে অফিস।
এমনকী শুনানির সময়ও প্রোমোটাররা উপস্থিত থাকছে। শেষ পর্যন্ত ওই জমি রেকর্ড সংশোধন করাতে পারব কি না বুঝতে পারছি না। বিজেপির স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি সত্যগোপাল মুখোপাধ্যায় বলেন, পুরুলিয়া ১ বিএলআরও অফিসে এজেন্ট ছাড়া কোনও কাজ হয় না। ওখানে শুনানি হলেও এজেন্টরা হাজির থাকে।
এজেন্ট ছাড়া শুনানি হয় না। তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট টাকা দিলে তবেই কাজ হয়। তা না হলে বারবার ফিরে যেতে হয়। কাজ হয় না। আধিকারিকরাও ওদের সঙ্গে জড়িত। পুরুলিয়া ১ ব্লকের বিএলআরও রুদ্ররূপ ভট্টাচার্য বলেন, এরকম অভিযোগ ঠিক নয়। মুহুরিদেরও অফিস ঢুকতে দেওয়া হয় না। এজেন্ট নিয়ে শুনানির বা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও মিথ্যা। এই অফিসের নথি অবৈধ, তা কে কী কারণে বলেছে তা খতিয়ে দেখতে হবে।
পুরুলিয়া ১ নম্বর ব্লকের চাগদা এলাকার বাসিন্দা চাষি উত্তম মাহাত বলেন, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া একটি জমির রেকর্ড সংশোধন করাতে সত্যিই চটি ছিঁড়ে যাওয়ার অবস্থা হয়েছে। আরএস খতিয়ান অনুযায়ী এলআর খতিয়ানে রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করেছিলাম। দীর্ঘদিন সে বিষয়ে কোনও শুনানি হচ্ছিল না।
মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ জানানোর পর শুনানি শুরু হয়। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরেও এখনও সংশোধন করাতে পারলাম না। উত্তমবাবু আরও বলেন, অফিস থেকে সরকারি নিয়মে আরএস খতিয়ান বের করা হয়েছে। সেই খতিয়ান অনুযায়ী সংশোধন করার আবেদন করা হলেও টালবাহানা করছেন আধিকারিকরা। বিষয়টি নিয়ে জেলার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিককেও অভিযোগ জানিয়েছি। তাতেও লাভ হয়নি। প্রোমোটারদের কথাতেই চলছে অফিস।
এমনকী শুনানির সময়ও প্রোমোটাররা উপস্থিত থাকছে। শেষ পর্যন্ত ওই জমি রেকর্ড সংশোধন করাতে পারব কি না বুঝতে পারছি না। বিজেপির স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি সত্যগোপাল মুখোপাধ্যায় বলেন, পুরুলিয়া ১ বিএলআরও অফিসে এজেন্ট ছাড়া কোনও কাজ হয় না। ওখানে শুনানি হলেও এজেন্টরা হাজির থাকে।
এজেন্ট ছাড়া শুনানি হয় না। তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট টাকা দিলে তবেই কাজ হয়। তা না হলে বারবার ফিরে যেতে হয়। কাজ হয় না। আধিকারিকরাও ওদের সঙ্গে জড়িত। পুরুলিয়া ১ ব্লকের বিএলআরও রুদ্ররূপ ভট্টাচার্য বলেন, এরকম অভিযোগ ঠিক নয়। মুহুরিদেরও অফিস ঢুকতে দেওয়া হয় না। এজেন্ট নিয়ে শুনানির বা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও মিথ্যা। এই অফিসের নথি অবৈধ, তা কে কী কারণে বলেছে তা খতিয়ে দেখতে হবে।



