নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কিছু মাস আগে জানা গিয়েছে, অ্যাডভেঞ্চার্স অফ টিনটিনের সিক্যুয়েল নাকি আসবে বড়ো পর্দায়। তবে কবে আসবে সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। ১০ জানুয়ারি ছিল টিনটিনের জন্মদিন। জন্মসপ্তাহে কিছু একটা শুভ খবর দিতে হয়। কিন্তু এই চির তরুণ রিপোর্টারকে নিয়ে সেরকম চাঞ্চল্যকর কিছু খবর শোনা যাচ্ছে না। সিনেমা তৈরির কথাটিই ভেসে এসেছে শুধু।
টিনটিনকে ভালোবাসেনি এমন লোক পাওয়া দুষ্কর। অনেকেই জানতে চান, ছোট্টোখাট্টো রিপোর্টারটি কী খান যে, কিছুতেই শরীরে মেদ জমে না। মোটামুটি যা গবেষণা হয়েছে টিনটিনকে ঘিরে তা থেকে পাওয়া যায়, টিনটিন খায় খুব অল্প। স্যান্ডউইচ বা রুটি। স্যুপ এবং কফি। একটি স্যান্ডউইচ খেয়ে দিনভর কাটিয়ে দিতে পারে। লক লমঁ হুইস্কিতে চুমুক দিয়ে রোস্ট বা স্টেক চিবোতে চিবোতে স্বল্পাহারী টিনটিনকে দেখে কি ক্যাপ্টেন হ্যাডক হাসেন? হাড় কামড়াতে কামড়াতে ফিকফিক করে কি স্নোয়িও? যাই হোক, আস্ত চেহারার ভিলেনগুলিকে দমাদ্দম পিটিয়ে দেওয়া টিনটিনের ফিটনেসের রহস্য তাহলে মনে হয় স্বল্পাহারেই লুকিয়ে? এতসব প্রশ্নের উত্তর লেখক হার্জ দিয়ে যাননি। শুধু জানা যায়, নিজের ভূপর্যটক ভাইয়ের আদলে তিনি এঁকেছিলেন টিনটিনকে। সে ভাইও কি স্বল্পাহারী ছিলেন?
টিনটিন ভক্তরা এ প্রশ্নও করেন, এ যুগে থাকলেও টিনটিন কি এরকম ডেয়ারডেভিল, নীতিনিষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে বুক চিতিয়ে অভিযানে যেতেন? টিনটিন বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, কয়েকটি গভীর মানবিক বিষয়ে উদ্বিগ্ন হতো এই রিপোর্টার। যেমন সত্য বনাম ভুয়ো খবর। রিপোর্টার হিসেবে টিনটিন প্রথমেই প্রশ্ন তুলত, ‘সত্য আসলে কোনটা?’ সোশ্যাল মিডিয়ার গুজব, মিথ্যা ভিডিও, বিকৃত ছবি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ, নিরন্তর বিচলিত করত তাকে। যন্ত্রনির্ভর দুনিয়ায় দাঁড়িয়েও বিশ্বাসে অটুট থেকে নিশ্চয় বলত, বিবেক আর যুক্তিবোধই মানুষের আসল সম্পদ। টিনটিন যুদ্ধ দেখেছে। তা উদ্বিগ্ন করেছে তাকে। কিন্তু বর্তমানে ঘটতে থাকা অন্য দেশের উপর হামলা এবং প্রকৃতি ধ্বংস, মরুভূমি, পাহাড়, সমুদ্র দূষণ তাঁকে আতঙ্কিত করত বেশি। মোবাইলের স্ক্রিনে আটকে থাকা শিশুদের দেখেও নিশ্চয় থমকে যেত চিরকিশোর টিনটিন।
টিনটিন কোনও রাষ্ট্রনেতা নয়। কোনও বিপ্লবী নয়। কোনও শিল্পী নয়। লেখক-কবি-সাহিত্যিক নয়। এমনকি কোনও বাস্তব মানুষও নয়। তবু তার জন্মদিনে তাকে মনে করতে হয়। কারণ বিশ্বের বহু দেশের মতো বাঙালি শিশু-কিশোরের কল্পনা আর মানবিক বোধ তৈরি করে চলেছে টিনটিন। বাঙালিকে সে হাতে ধরে পৃথিবী চেনায়। আফ্রিকাকে যেমন চিনিয়েছিল আরণ্যক। বেনারস, রাজস্থান যেমন চিনিয়েছিল ফেলুদা। আফ্রিকা যেমন চিনিয়েছিল ঋজুদা। তেমনই বাঙালির চোখ খুলে দিয়েছে এবং দিচ্ছে টিনটিন।
টিনটিন সিনেমা হয়ে তাড়াতাড়ি এস। শিশু-কিশোররা তোমাকে না দেখলে বড়ো হবে না বলে বায়না ধরেছে। আর তোমার জন্য বড়োরা নিজেদের কৈশোর-শৈশবে ফিরে যেতে পারছে না। বিলেটেডে হ্যাপি বার্থ ডে টিনটিন। স্যান্ডউইচ আর কফি খেয়ে সুস্থ থেকো। ভালো থেকো।