সংবাদদাতা, কাটোয়া: পূর্ব বর্ধমানে যেন থামতেই চাইছে না পুষ্পারাজ। আউশগ্রামে রাতারাতি কেটে নেওয়া হয়েছে বহু গাছ। কাটোয়াতে এর আগেও গাছ কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছিল। এবার এক্কেবারে পুষ্পা স্টাইলে সদ্য কাটা বহু গাছ পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। মঙ্গলবার দুপুরে ‘অন ডিউটি’ লেখা লরিতে ভর্তি করে গাছের গুঁড়ি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কাটোয়ার মণ্ডলহাটে আটকানো হয় কাঠ ভর্তি লরিটি। ঘটনায় শোরগোল শুরু হয়েছে।
কাটোয়া বনদপ্তরের রেঞ্জার শিবপ্রসাদ সিনহা বলেন, আমরা একটি গাছের গুঁড়ি ভর্তি লরি আটকেছি। গাড়ির চালক পলাতক। খোঁজ নিচ্ছি কোথা থেকে এত পরিমাণে গাছের গুঁড়ি কাটা হয়েছে। আদৌ বনদপ্তরের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, কোথা থেকে লরিটি আসছিল এসব নিয়ে খোঁজ নিচ্ছি। নিয়ম না মানলে জরিমানা করা হবে।
কাটোয়া-কালনা পুরানো এসটিকেকে রোডে কাটোয়ার মণ্ডলহাট গ্রামের কাছেই এদিন লরিটি আটকানো হয়। লরির ডালায় ত্রিপল ঢাকা দিয়েই পলাশ, সোনাঝুরি সহ প্রচুর গাছের বড় বড় গুঁড়ি পাচার করা হচ্ছিল। লরির সামনে ‘অন ডিউটি’ বোর্ড দেওয়া ছিল। বনদপ্তরের কর্মীরা গাড়িটিকে আটকাতেই লাফ দিয়ে পালায় চালক। ২০২৪ সালে কাটোয়া ও কালনা মহকুমায় নিয়ম না মেনে কাঠ পাচার করতে গিয়ে বহু লোক ধরা পড়েছে। সব মিলিয়ে বনদপ্তর প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। কাটোয়া, আউশগ্রাম জুড়ে কাটা হচ্ছে প্রচুর গাছ। তা রাতারাতি পাচার হয়ে যাচ্ছে বহু শ’ মিলে। বনদপ্তরের দাবি, কারও ব্যক্তিগত বাগানে গাছ কাটতে হলেও তার অনুমতি নেওয়ার দরকার। এর আগে কেতুগ্রামেও বহু গাছ কাটা হয়েছিল৷ কেতুগ্রাম-১ ব্লকের পাণ্ডুগ্রাম পঞ্চায়েতের মালুন গ্রামে মালদিঘী এলাকায় একবছর ধরে পঞ্চায়েত থেকে বনসৃজন করা হয়েছিল। ওই এলাকায় দুশো মিটার আয়তনে তিন হাজারটি গাছ লাগানো হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, দিনের পর দিন সেই গাছ কেটে নিয়ে পালাচ্ছিল এক ব্যক্তি। এ নিয়ে ওই পঞ্চায়েতের প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তির নামে কেতুগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাকে পুলিস গ্রেপ্তারও করেছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০০টি সরকারি গাছ কেটে চুরি করা হয়েছিল। তারপরেও ‘পুষ্পারাজ’ থামছে না।