নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফেব্রুয়ারিতে তিনবছর পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল। প্রজননের জন্যও প্রাপ্তবয়স্ক হত তৃপ্তি। কিন্তু, মাত্র ২ বছর ১০ মাস বয়সেই অকালমৃত্যু হল তার। বিশেষ প্যারাসাইট বা পরজীবীতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল আলিপুর চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ রয়্যাল বেঙ্গল টাইগ্রেসের। ওড়িশার নন্দন কানন থেকে আনা ডোরা-কাটা তৃপ্তির মৃত্যুতে শোকাহত পশুশালা কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার রাত থেকেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে তৃপ্তির। বুধবার মৃত্যু হয় ওই রয়্যাল বেঙ্গলের। আলিপুর পশু চিকিৎসালয়ে চলছিল তার শুশ্রূষা। অস্বাভাবিক মৃত্যুতে তৃপ্তির ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পরীক্ষার জন্য তার ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। আলিপুর চিড়িয়াখানায় এনিয়ে গত তিনমাসে তিন তিনটি বাঘিনির মৃত্যু হল! গত সেপ্টেম্বরে পরপর দুই বাঘিনি মারা যায় বয়সজনিত কারণে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ওড়িশার নন্দনকানন থেকে তৃপ্তিকে আনা হয়। তখন তার বয়স ছিল ১ বছর ৭ মাস। চনমনে খুদে বাঘিনিকে আনার একটাই লক্ষ্য ছিল রাজ্য বনদপ্তর ও চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের—বাঘের প্রজনন। আলিপুর পশুশালায় বাঘের সংখ্যা পর্যাপ্ত থাকলেও বাঘিনিদের বয়স হয়ে গিয়েছিল। প্রজননের জন্য উপযুক্ত ছিল না তারা। এজন্যই তৃপ্তির আগমন। কলকাতার আবহাওয়ায় মানানসই করে তোলা হয়। আলিপুর পশুশালার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতবছর শীত মরশুমেও দর্শকদের মন জুগিয়েছে তৃপ্তি। কিন্তু, চলতি বছরের অক্টোবর থেকেই বিশেষ প্রজাতির ক্ষতিকর পরজীবীতে আক্রান্ত হয় কালো-হলুদ ডোরাকাটা। গত সোমবার থেকে অচেতন হয়ে যায় তৃপ্তি। পশু চিকিৎসালয়ের আইসিইউতে পাঠানো হয় তাকে। দুই সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তৈরি হয়। চিকিৎসকদের রাতভর চেষ্টাতেও শেষরক্ষা হয়নি। অকালে প্রাণ যায় বাঘিনির। গত সেপ্টেম্বরে দুই বাঘিনি—পায়েল ও রূপার মৃত্যু হয়। আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, দু’জনেরই মৃত্যু হয়েছে বয়সজনিত কারণে। পরপর তিন বাঘিনির মৃত্যুতে পশুশালায় বাঘের প্রজনন নিয়ে চিন্তায় কর্তৃপক্ষ। এই মূহূর্তে আলিপুরে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা কমে ৩ হল। তার মধ্যে একটিমাত্র বাঘিনি! ফলে চিড়িয়াখানায় বাঘের প্রজননের ভবিষ্যৎ কী? তা নিয়ে আলোচনায় বসছেন কর্তৃপক্ষ। তৃপ্তির শরীরে প্যারাসাইটের আক্রমণের কারণ নিয়েও আলোচনা হবে। অন্যকোনও রয়্যাল বেঙ্গলের শরীরে এই পরজীবীর হানা দেয়নি তো? এমন একাধিক প্রশ্ন নিয়ে চিন্তিত পশুশালার কর্তারা।