কালীপুজোর আগেই অসম থেকে বক্সার জঙ্গলে ফিরছে বাঘিনি, প্রস্তুতি বনদপ্তরের
  • ১ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: সমস্ত জল্পনার অবসান। কালীপুজোর আগেই অসম থেকে বাঘিনি বক্সার জঙ্গলেই ফিরছে। বর্তমানে বাঘিনিটি অসমের রায়মোনা টাইগার রিজার্ভের নর্দান রেঞ্জের জঙ্গল থেকে সাত কিমি দূরে নারায়ণপুর বনবস্তির কাছে অবস্থান করছে। সেটিকে বক্সার জঙ্গলে ঘরওয়াপসি করাতে রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ শনিবার নিজেই রায়মোনা টাইগার রিজার্ভে যান। সেখানে সেন্ট্রাল রেঞ্জ অফিসে অসম বনদপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য বনপাল সোনালী ঘোষ ও কচুগাঁও বন বিভাগের ডিএফও মোস্তাফা আলি আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা কুমার বিমল ও বক্সার পূর্ব ডিভিশনের উপক্ষেত্র অধিকর্তা দেবাশিস শর্মা। 

Advertisement

বৈঠকের পর বনমন্ত্রী বলেন, বক্সার বাঘিনিটি অসমের নারায়ণপুর বনবস্তির কাছে অবস্থান করছে। সামনেই কালীপুজো ও দীপাবলি। লোকালয়ে থাকার কারণে বাজির শব্দে বাঘিনিটি বিরক্ত হয়ে গেলে বড় রকমের দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। সেজন্য পশ্চিমবঙ্গ ও অসম দুই বনদপ্তর কোনওরকম ঝুঁকি নিতে নারাজ। তাই কালীপুজোর আগেই বাঘিনিটিকে ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু অথবা নেটিং করে ফের বক্সায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেজন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মাধ্যমে ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটির (এনটিসিএ) অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অসম বনদপ্তরও একই অনুমতি চেয়েছে। আশা করছি শনিবার রাতের মধ্যেই এনটিসিএ’র অনুমতি চলে আসবে। অনুমতি এলেই রবিবার থেকে বাঘিনিটিকে ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। বনমন্ত্রী আরও বলেন, বাঘিনিটিকে আপাতত বক্সার ২৫ মাইল টাওয়ারের জঙ্গলে নির্দিষ্ট ঘেরাটোপেই রাখা হবে।
অসম বনদপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য বনপাল সোনালী ঘোষ বলেন, বক্সার জঙ্গল ছেড়ে পূর্ব দিকে সংকোশ নদীর চৌধুরীঘাট দিয়ে পার হয়ে বাঘিনিটি রায়মোনার জঙ্গলে ঢুকেছিল। সেটি ১১০ কিমি পথ রেইকি করে রায়মোনার জঙ্গল ছেড়ে সংলগ্ন রাজেন্দ্রপুর বনবস্তিতে আস্তানা নেয়। সেখান থেকে আরও ২০ কিমি দূরে হাতিগড় বনবস্তিতে আস্তানা নেয়। তারপরে বাঘিনিটি ফের রায়মোনার নর্দান জোনের জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে ৭ কিমি দূরে শ্যাডো জোন ছাড়িয়ে নারায়ণপুর বনবস্তিতে চলে যায়। 
বাঘিনিটি ফের রায়মোনার জঙ্গল ছেড়ে কেন বনবস্তি এলাকায় চলে গেল? এই প্রশ্নের উত্তরে অসমের অতিরিক্ত মুখ্য বনপাল বলেন, রায়মোনার জঙ্গলে বর্তমানে ছ’টি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আছে। বেশিরভাগই বাঘিনি। বক্সার বাঘিনিটির বয়স মাত্র তিন বছর। অনুমান করা হচ্ছে রায়মোনার বাঘিনির তাড়া খেয়ে বক্সার বাঘিনিটি নারায়ণপুর বনবস্তিতে চলে গিয়েছে। 
এদিকে, বক্সার বাঘিনিটিকে ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু করার জন্য রায়মোনায় ‘ঐরাবত’ গাড়ি, থার্মাল ড্রোন ক্যামেরা, ট্রাঙ্কুলাইজ গান, ট্রাঙ্কুলাইজ করার পর দেহ ঠান্ডা করার জন্য জলের স্প্রে মেশিন ও জার্মানের তৈরি রেডিওকলার নিয়ে আসা হয়েছে রায়মোনার জঙ্গলে।