নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে জঙ্গলমহলের অন্যতম জেলা বাঁকুড়ার নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা রুখে দিতে বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে বাঁকুড়া জেলা পুলিশের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। জেলা পুলিশের পাশাপাশি জিআরপি ও আরপিএফ তিনদিন আগে থেকেই বিশেষ চেকিং শুরু করে। বাঁকুড়া স্টেশন চত্বরকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে বলে রেলপুলিশের কর্তারা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে ঝাড়খণ্ডে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে বেশ কয়েকজন মাওবাদীর মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে এরাজ্যের জঙ্গলমহলের সীমানা বেশি দূর নয়। তাছাড়া গত লোকসভা নির্বাচনের আগে জঙ্গলমহলে মাওবাদীদের আনাগোনার খবর পাওয়া গিয়েছিল। জঙ্গলমহলের মেলাগুলিতে ভিন রাজ্যের ‘সন্দেহজনক’ লোকজনের গতিবিধির ‘ইনপুট’ গোয়েন্দাদের কাছে রয়েছে। পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ার সীমানা ঘেঁষা গভীর জঙ্গলে মাওবাদী গতিবিধি টের পেতেই পুলিশ সজাগ হয়। পুলিশি সক্রিয়তার বিষয়টি জানতে পেরে সন্দেহভাজন আগন্তুকরা গা ঢাকা দেয়। ফলে সাধারণতন্ত্র দিবসে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে পুলিশ নারাজ। বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, বাঁকুড়ার মাটিকে ব্যবহার করে কেউ যাতে নাশকতামূলক বা দেশবিরোধী কোনও কাজ করতে না পারে, তারজন্য আমরা সতর্ক রয়েছি। সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে জেলাজুড়ে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। রেলপুলিশের এক আধিকারিক বলেন, শনিবার থেকেই স্টেশন, প্ল্যাটফর্ম, বুকিং অফিস ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। স্টেশন চত্বরে আসা গাড়ির ডিকি খুলে পরীক্ষা করা হচ্ছে। কুকুর নিয়ে রেল লাইন পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, রাজ্যের জঙ্গলমহলে ফের জমি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে মাওবাদীরা। সুযোগ পেলেই অতি বাম নেতাকর্মীরা জঙ্গলমহলে ঘাঁটি গাড়বে বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরছেন। লোকসভা ভোটের আগে থেকেই বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের সীমানা ঘেঁষা দুর্গম এলাকাগুলিতে মাওবাদীদের আনাগোনা শুরু হয়। কয়েকমাস আগে মাও তালডাংরা, ওন্দা সহ অন্যান্য থানা এলাকায় মাওবাদী নামাঙ্কিত পোস্টার পড়ে।



