অপু রায়, নকশালবাড়ি: প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল অগ্নিগর্ভ। বুধবার সীমান্ত পরিস্থিতি দেখতে পানিট্যাঙ্কিতে আসেন রাজ্যপাল, মন্ত্রীসহ পুলিস কর্তারা। সকাল থেকে সীমান্তের নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করে এসএসবি। দু’দেশের নিরাপত্তার খাতিরে শুধু যেসমস্ত ভারতীয় হেঁটে এদেশে আসতে চেয়েছেন কিংবা যেসব নেপালের নাগরিক দেশে ফিরতে চেয়েছেন তাঁদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এছাড়া চিকিৎসাজনিত কারণে নেপালের একটি পরিবারকে ভারতে প্রবেশের ছাড় দেয় এসএসবি।
সকালে এসএসবি’র ডিআইজি মঞ্জিত সিং সীমান্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আসেন। বেলা ১২টা নাগাদ দার্জিলিংয়ের পুলিশ সুপার প্রবীণ প্রকাশকে নিয়ে পৌঁছন রাজ্য পুলিশের এডিজি অজয় নন্দ। এসএসবি আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের এডিজি বলেন, সীমান্তে আমরা নজর রেখেছি। জেলা পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে কথা হচ্ছে। তবে ওই দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা কিছু বলতে পারব না। সীমান্তের পুরো বিষয়টি এসএসবি নজরে রাখছে।
এদিকে, একসময় ডিআইজি এসএসবি’র কমান্ড্যান্ট যোগেশ সিংকে সঙ্গে নিয়ে মেচি নদী সংলগ্ন এলাকায় টহল দেন। ওই সময় একটি অ্যাম্বুলেন্স হুটার বাজিয়ে সেতুর উপর এলে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালান ডিআইজি। নেপালের রূপনগরের বাসিন্দা মহম্মদ ফারুক তাঁর স্ত্রী সিতারা খাতুন ও দু’বছরের পুত্রসন্তানকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে ভারতে আসার চেষ্টা করেন। ফারুকের কথায়, তাঁদের গ্রামে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও রাস্তায় কিছু জায়গায় ঝামেলা চলছে। ছেলের কিডনির সমস্যা। চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরু যেতে হবে। পরবর্তীতে অ্যাম্বুলেন্স ঘুরিয়ে দিলেও পরিবারটিকে হেঁটে সেতু অতিক্রম করার অনুমতি দেওয়া হয়।
এদিকে, দুপুর আড়াইটে নাগাদ এসএসবি নেপালের আর্মড পুলিস ফোর্সের সঙ্গে ফ্ল্যাগ মিটিং করে। সীমান্তে যৌথ বাহিনী রুটমার্চ চালায়। বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ আসেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি বলেন, ভারতের যাঁরা নেপালে আটকে আছেন তাঁদের ফেরাতে আমাদের বিদেশমন্ত্রনালয় যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ সীমান্তে আসেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ, শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব, মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ। তাঁরা সীমান্ত পরিদর্শন করেন।