Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নির্বিঘ্নে মিটল হুগলির রথযাত্রা, মাসির বাড়িতে জগন্নাথদেব, বিপুল ভক্ত সমাগম মাহেশ ও গুপ্তিপাড়ায়

হুগলির মাহেশ ও গুপ্তিপাড়ায় রথযাত্রা অনুষ্ঠানে বিপুল ভক্ত সমাগম। শুক্রবার সকাল থেকে শতাব্দী প্রাচীন দুই অনুষ্ঠানে ভক্তরা আসা শুরু করেন।

কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নির্বিঘ্নে মিটল হুগলির রথযাত্রা, মাসির বাড়িতে জগন্নাথদেব, বিপুল ভক্ত সমাগম মাহেশ ও গুপ্তিপাড়ায়
  • ২৮ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলির মাহেশ ও গুপ্তিপাড়ায় রথযাত্রা অনুষ্ঠানে বিপুল ভক্ত সমাগম। শুক্রবার সকাল থেকে শতাব্দী প্রাচীন দুই অনুষ্ঠানে ভক্তরা আসা শুরু করেন। এদিন দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে। দুপুরে বেড়েছিল বৃষ্টি। কিন্তু তাতে ভক্তদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। বিপুল ভিড়ের ইঙ্গিত ছিল বলে বৃহস্পতিবার রাত থেকে পুলিস নজরদারি বৃদ্ধি করেছিল। কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে ফেলা হয়েছিল দুই এলাকা। শুক্রবার বিকেলে রথের চাকা রাজপথে গড়ায়। আর লাখো কণ্ঠে ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনিতে মুখর হয় আকাশবাতাস।

Advertisement

চন্দননগর কমিশনারেট ও গ্রামীণ পুলিসের আধিকারিকরা জানান, বলাগড়ের গুপ্তিপাড়া আর শ্রীরামপুরের মাহেশের রথযাত্রা দেখতে বিপুল ভিড় হয়েছিল। ঐতিহ্যবাহী উৎসব নির্বিঘ্নে পালিত হয়েছে। পাশাপাশি মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েত পিয়াল অধিকারী বলেন, ‘পুষ্পসজ্জায় সজ্জিত জগৎপ্রভু এদিন মাসির বাড়ি গিয়েছেন। মাহেশের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রায় প্রতিবছরই লাফিয়ে লাফিয়ে ভক্ত সংখ্যা বাড়ছে। আগামী দিনগুলি জগৎপ্রভু মাসির বাড়িতে লীলা করবেন। উল্টোরথে তাঁকে মন্দিরে ফিরিয়ে আনব।’ গুপ্তিপাড়া রথযাত্রা আয়োজক কমিটির অন্যতম কর্তা বিশ্বজিৎ নাগ বলেন, ‘জল-স্থলপথে প্রচুর মানুষ শতাব্দী প্রাচীন রথযাত্রায় সামিল হন। অতিরিক্ত একটি ট্রেন দেওয়ার কারণে বাইরে থেকেও বহু মানুষ এসেছিলেন। সাতদিন পর উল্টোরথ। এর পাশাপাশি গুপ্তিপাড়ার ঐতিহ্যমণ্ডিত অনুষ্ঠান হল ভাণ্ডার লুট। তার জন্য এদিন থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।’
আগাম ইঙ্গিত ছাপিয়ে এদিন ভিড় জমেছিল মাহেশের স্নানপিঁড়ি মাঠে। সকাল থেকে শুরু হয় জগন্নাথ মন্দিরে পুজো অর্চনা পর্ব। তার মধ্যে ভক্তদের আসা যাওয়া লেগেছিল। মাহেশের রথযাত্রা এ বছর ৬২৯ বছরে পা দিয়েছে। সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র থেকে পরমহংস বিভিন্ন সময় মাহেশের রথযাত্রার কথা উল্লেখ করেছেন। এদিন চলচ্চিত্রশিল্পী থেকে শুরু করে বহু বিশিষ্ট মানুষের ভিড় হয়েছিল মাহেশে। বিকেলে যাত্রা শুরুর আগে স্নানপিঁড়ি মাঠ থেকে জিটি রোড ধরে মাসির বাড়ি পর্যন্ত বহু মানুষ পথের দু’ধারে দাঁড়িয়ে ছিল। ভিড় সামলাতে ছিল কড়া নিরাপত্তা। ড্রোন, ওয়াচ টাওয়ার, সাদা পোশাকের পুলিস মোতায়েন ছিল। জলপথেও নজরদারি চালানো হয়েছে। জলপথ ঘেরা গুপ্তিপাড়ার বৃন্দাবন জিউ মন্দিরেও এদিন রথযাত্রাকে সামনে রেখে বিপুল ভক্ত সমাগম হয়। এই রথ এ বছর ২৮৬ বর্ষে পা দিয়েছে। হুগলির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাকে ঘিরে বসেছিল বিরাট মেলা। রাত পর্যন্ত সেখানে ছিল জমাট ভিড়। শিশুরা রথ কিনে বাড়ি ফিরেছে। এ দিনের সঙ্গে মিশে রয়েছে পাঁপড় ভাজা আর জিলিপি। তা দেদার বিক্রি হয়েছে। মাহেশ থেকে গুপ্তিপাড়া, রীতি পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগদানে ছিল সবার দেদার আগ্রহ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ