সংবাদদাতা, বারুইপুর: শুক্রবার, স্বাধীনতা দিবসের সকালে সুন্দরবনের বনি ক্যাম্পের কাছ থেকে উদ্ধার হল একটি পূর্ণ বয়স্ক বাঘের মৃতদেহ। বনকর্মীরা ওই বাঘটিকে একটি মিষ্টি জলের পুকুরের কাছে দীর্ঘক্ষণ শুয়ে থাকতে দেখেন। সে নড়াচড়া না করায় সন্দেহ হয়েছিল তাঁদের। কাছে গিয়ে তাঁরা দেখেন, বাঘটি মারা গিয়েছে। এরপর তার দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পশু চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বার্ধক্যজনিত কারণেই মৃত্যু হয়েছে এই পুরুষ বাঘটির। তার আনুমানিক বয়স ১৫ বছর। সাধারণত, এই বয়সকে বাঘের বার্ধক্যের শেষের দিক বলেই ধরা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তা পর্যালোচনা করলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঘটি একেবারে রুগ্ন হয়ে পড়েছিল। হাড় জিরজিরে শরীর। বনবিভাগের আধিকারিকদের ধারণা, বয়সজনিত কারণেই সে আর শিকার করার মতো অবস্থায় ছিল না। ফলে খাবার না পাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল। দেহে আঘাতের কোনও চিহ্ন মেলেনি। সেসব বিবেচনা করেই বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুর উপরই সিলমোহর দিচ্ছেন তাঁরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিএফও নিশা গোস্বামীও এই তত্ত্বের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন। তবে বাঘের মৃত্যু নিয়ে বনকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে নজরদারির অভাবের অভিযোগ উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, বনি ক্যাম্প লাগোয়া জঙ্গলে এই বাঘটিকে প্রায়শই দেখা যেত। সে যে বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ, তা কেন নজরে এল না কারও? তাহলে তাকে উদ্ধার করে অন্তত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেত। সূত্রের খবর, অতি সম্প্রতি জঙ্গলে বাঘের মৃত্যুর খবর সেভাবে আসেনি। শেষ কবে জঙ্গল থেকে বাঘের দেহ উদ্ধার হয়েছে, তা হলফ করে বলতে পারছেন না বনকর্মীরাও।