সংবাদদাতা, তেহট্ট: তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে দালালচক্রের অভিযোগ উঠল। হাসপাতালে ঢুকে রোগীর ইসিজি করে গিয়েছে বেসরকারি প্যাথ ল্যাবের কর্মী। যার জন্য রোগীর আত্মীয়কে টাকা দিতে হয়েছে। এনিয়ে তিনি হাসপাতাল সুপারের কাছে অভিযোগ করতেই দু’জন নার্স ও দুই নিরাপত্তারক্ষীকে শোকজ করা হল। হাসপাতালের সুপার বাপ্পাদিত্য ঢালী তাঁদের শোকজ করেন। কেন বহিরাগত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ঢুকে রোগীর ইসিজি করতে দেওয়া হল-একদিনের মধ্যে তার উত্তর দিতে বলা হয়েছে। তবে শোকজ হওয়া ওই চারজনের দাবি, রোগীর আত্মীয়রাই বাইরে থেকে প্যাথ ল্যাবের লোক ডেকেছিলেন। যদিও তা সম্পূর্ণ মিথ্যে বলে দাবি করেছেন রোগীর আত্মীয়।
Advertisement
৪ ফেব্রুয়ারি তেহট্ট হাসপাতালে একজন রোগী ভর্তি হয়। সেই রোগীকে দেখে চিকিৎসক ইসিজি করাতে বলেন। হাসপাতালে ইসিজি যন্ত্র ও টেকনিশিয়ান আছে। তবে সেদিন টেকনিশিয়ান ছিলেন না। তাহলেও নার্সদেরই ইসিজি করার কথা। কোনও অবস্থাতেই বেসরকারি প্যাথ ল্যাবের কারও হাসপাতালে ঢোকার কথা নয়। কিন্তু অভিযোগ, সেদিন একটি বেসরকারি প্যাথ ল্যাব থেকে একজন ওই রোগীর ইসিজি করতে যন্ত্র নিয়ে যান। টাকা নিয়ে ইসিজি করান। হাসপাতালে ইসিজি যন্ত্র ও টেকনিশিয়ান থাকা সত্ত্বেও কেন বাইরে থেকে লোক আনা হল-সেই প্রশ্ন তোলেন রোগীর আত্মীয়। তিনি সুপারের কাছে অভিযোগ জানালে বাপ্পাদিত্যবাবু খোঁজ নেন, সেদিন ঘটনার সময় কারা ডিউটিতে ছিল। এরপরই চারজনকে শোকজ করা হয়।
এবিষয়ে হাসপাতাল সুপার বলেন, ওই চারজন শোকজের উত্তর দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, রোগীর বাড়ির লোক বাইরে থেকে ইসিজি করাতে লোক এনেছিলেন। সেটা তাঁরা দেখতে পাননি। সেকারণে তাঁরা ক্ষমা চেয়েছেন। রক্ত পরীক্ষা বা ইসিজি-সংক্রান্ত বিষয়ে বাইরের কাউকে ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া যাবে না।
ওই রোগীর আত্মীয় চায়না মণ্ডল বলেন, রোগীকে ভর্তি করার পর ডাক্তারবাবু ইসিজি করাতে বলেন। যেখানে ইসিজি হয়, সেখানে গিয়ে দেখি একজন সিস্টার আছেন। তিনি ইসিজি করতে পারবেন না বলে জানান। তখন কেউ একজন বাইরের একজনকে ডাকে। হাসপাতালে এসেও আমাদের কেন বাইরে থেকে টাকা দিয়ে ইসিজি করাতে হবে? সেজন্য আমি প্রতিবাদ করে সুপারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি।এবিষয়ে হাসপাতাল সুপার বলেন, ওই চারজন শোকজের উত্তর দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, রোগীর বাড়ির লোক বাইরে থেকে ইসিজি করাতে লোক এনেছিলেন। সেটা তাঁরা দেখতে পাননি। সেকারণে তাঁরা ক্ষমা চেয়েছেন। রক্ত পরীক্ষা বা ইসিজি-সংক্রান্ত বিষয়ে বাইরের কাউকে ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া যাবে না।
হাসপাতালের ভিতরে বেসরকারি ল্যাবের কেউ রক্ত পরীক্ষা করতে পারে না। রোগীর রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হলে হাসপাতালেই সেসব করা হয়। কোনও পরীক্ষা হাসপাতালে না হলে রোগীর রক্ত নিয়ে আত্মীয়কে দেওয়া হয়। তিনি বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনেন। একইভাবে ইসিজিও হাসপাতালেই হওয়ার কথা। টেকনিশিয়ান না থাকলে যাঁরা ডিউটিতে থাকবেন, তাঁদেরই সেটা করতে হবে। কিন্তু নিয়ম ভেঙে বেসরকারি ল্যাবের কর্মী ডাকা ঘিরে সরগরম তেহট্ট।



