Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘রাস্তায় ময়লা ফেলা! বাড়িতে ফেরত দিয়ে আসব’, ক্যামেরায় নজরদারি, উদাসীন নাগরিকদের হুঁশ ফেরাতে হুমকি বাসিন্দাদেরই

কোনও ব্যক্তি রাস্তায় আবর্জনা ফেললে মুখে কিছু বলা হবে না। সেই জঞ্জাল নিয়ে গিয়ে ফের তাঁর বাড়িতে ফেলে আসবেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

‘রাস্তায় ময়লা ফেলা! বাড়িতে ফেরত দিয়ে আসব’, ক্যামেরায় নজরদারি, উদাসীন নাগরিকদের হুঁশ ফেরাতে হুমকি বাসিন্দাদেরই
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: কোনও ব্যক্তি রাস্তায় আবর্জনা ফেললে মুখে কিছু বলা হবে না। সেই জঞ্জাল নিয়ে গিয়ে ফের তাঁর বাড়িতে ফেলে আসবেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিভিন্ন এলাকায় ফ্লেক্স টাঙিয়ে এই রিটার্ন গিফট পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুর নাগরিকরা। কিছুদিন আগে গ্রেটার বেঙ্গালুরু অথরিটি (জিবিএ) এই পদক্ষেপ নিয়েছিল। সেটি সরকারি পদক্ষেপ। এবার বেসরকারি তরফে একই পদক্ষেপ নিল দমদমের বাসিন্দাদের একাংশ।

Advertisement

‘ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র ফেলিবেন না।’ বেশ কয়েকমাস আগে দক্ষিণ দমদম পুরসভা বোর্ড ও ফ্লেক্স দিয়ে প্রচার করেছিল। বাস্তবে দেখা গিয়েছে, সেই বোর্ডের পাশেই দেদার আবর্জনা ফেলে যান এক শ্রেণির নাগরিক। মূলত রাতে এ কাজ করেন তাঁরা। কারণ এই অংশের বেশিরভাগই বেলায় ঘুম থেকে ওঠেন। উঠেই কর্পোরেট অফিসে দৌড়ন। সিসিটিভি’তে এরকম কয়েকজনকে শনাক্তও করা হয়। এই ঘটনায় তিতিবিরক্ত দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় বৃহস্পতিবার নতুন ফ্লেক্স লাগিয়েছেন। কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে তাতে লিখেছেন, ‘এই এলাকায় সিসি ক্যামেরা রয়েছে। কেউ ময়লা ফেললে তা কুড়িয়ে ফের তাঁর বাড়িতে ফেলে আসা হবে।’ 
দক্ষিণ দমদম পুর এলাকায় হুইসল বাজিয়ে প্রতি সকালে বাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করেন পুরকর্মীরা। কিন্তু দেখা গিয়েছে, রাতের অন্ধকারে ফাঁকা জায়গায় বা রাস্তার ধারে বা ড্রেন ও বাগজোলা খালে আবর্জনা ফেলে চলেছেন অনেকে। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের জ’পুর খালধার, মটর মেশিনারি, কালিন্দী ক্রসিং সহ বিভিন্ন জায়গায় এই সমস্যা মারাত্মক চেহারা নিয়েছে। বারবার আবেদন জানিয়েও ফল হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গায় ২০টিরও বেশি ফ্লেক্স দেখা গিয়েছে। বোর্ডে লেখা, ‘ইটের বদলে পাটকেল। যাঁরা ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষণ করছেন তাঁরা প্রত্যেকে সিসিটিভি ক্যামেরায় চিহ্নিত। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে সমস্ত আবর্জনা আপনাদের বাড়িতে ফেলে দিয়ে আসতে বাধ্য হব।’ ফ্লেক্সের নীচে লেখা, ‘১৮ নম্বর ওয়ার্ড পরিবেশ সচেতন নাগরিকবৃন্দ।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ‘যাঁরা ময়লা ফেলেন তাঁরা অশিক্ষিত কোনও মানুষ নন। কর্পোরেট জগতে ভালো পদে চাকরি করেন। কেউ সকালে অফিস চলে যান। কেউ বেলায় ঘুম থেকে উঠে অফিস দৌড়ন। সকালে পুরসভার ঠেলাগাড়িতে ময়লা ফেলার কষ্ট কেউ করতে চান না। তাঁদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের জন্য ভুগতে হয় আমজনতাকে।’ এলাকার কাউন্সিলার ও পুরসভার সিআইসি (স্বাস্থ্য) সঞ্জয় দাস বলেন, ‘বাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহের জন্য সকাল সাতটা থেকে ১০টা পর্যন্ত পুরসভার কর্মীরা প্রতিটি গলিতে হুইসল বাজিয়ে ঘোরেন। ঘণ্টাখানেক বাদে ফের ওখানে যান। তারপরও যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। নাগরিকরা ক্ষিপ্ত। তাঁরা আমার কাছে নিয়মিত অভিযোগ জানান। আমরা মানুষকে সচেতন করি। নাগরিকরাই ক্ষুব্ধ হয়ে হয়ত এই বোর্ড লাগিয়েছেন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ