সায়ন চট্টোপাধ্যায়, শিলিগুড়ি: ঘড়ির কাঁটায় ৩টে। অন্যদিনের তুলনায় দুপুরটা মোটামুটি ফাঁকাই। হালকা মিঠে রোদ আছড়ে পড়ছে বইমেলা চত্বরে। কিছু স্টলে বইয়ের খোঁজ করছেন হাতেগোনা পাঠক। তখনও যেন জেগে ওঠেনি ‘বই উত্সব’। তবে সন্ধ্যা গড়াতেই চিত্রটা বদলে গেল পুরোটাই। শুক্রবারের শহর বইমেলামুখো। দল বেঁধে আসা যুবক যুবতীরা স্টলে ঢুকে হাতড়ে চলেছে একের পর এক থ্রিলার। অন্যদিকে, স্কুল পড়ুয়াদের আকর্ষণ অ্যাডভেঞ্চার নিয়ে। কেউ উঁকি দিয়েছেন পুরনো বইয়ের স্টলে। কেউ বা চাকরির পরীক্ষা সংক্রান্ত বইয়ের জন্য হন্যে হয়ে এসেছেন স্টেডিয়ামের মেলা চত্বরে। কারও সবচেয়ে পছন্দ লিটল ম্যাগের স্টল। রবিবার মেলা শেষ। তারআগে ক্রমেই জমে উঠছে ৪২তম উত্তরবঙ্গ বইমেলা।
Advertisement
স্টলের প্রতিনিধিদের গলায় এবার এক সুর। বাজিমাত করেছে থ্রিলার। একটি প্রকাশনা সংস্থার স্টলের প্রতিনিধি প্রিয়ব্রত ঘোষের এই মেলায় আসার অভিজ্ঞতা প্রায় ২৫ বছরের। তিনি বলেন, ‘স্মরণজিতের ঝাল লজেন্স’ বইটি আটদিনে বেশিরভাগই শেষ। শিলিগুড়ির পাঠকদের মধ্যে পুরনো বইয়েরও ভালো চাহিদা রয়েছে। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বোমকেশ, পাশাপাশি বিভিন্ন ঐতিহাসিক কাহিনী, সত্যজিত্ রায়ের ফেলুদা সমগ্র, সমরেশ মজুমদারের অর্জুন সমগ্রের এবারও চাহিদা দেখেছি। টিনটিনের প্রচুর বই বিক্রি হয়েছে।
আরএকটি প্রকাশনা সংস্থার পক্ষে ভোলা দত্ত প্রতিবার এই মেলায় আসেন। তাঁর অভিজ্ঞতা, ১৮-৩৫ বছরের ছেলে মেয়েরা থ্রিলারের বই কিনতে আসছেন। হিমাদ্রী কিশোরের ভয় ভয়ঙ্কর এবার ভালো বিক্রি হয়েছে। প্রবীণরা উপন্যাসে হাত দিচ্ছেন। এর পাশাপাশি ভূত-গোয়েন্দা তো আছেই। ভারতের মহিলা গোয়েন্দাদের নিয়ে বই এবার আমাদের চমক। তবে শুধুই কি কেনা বেচা! বইমেলা নতুন বই-পত্রিকার প্রকাশের মাধ্যমও বটে। সারা বছরের প্রস্তুতি এই সন্ধ্যাগুলির জন্যই। ‘উত্তরের কবিমন’ পত্রিকার ১৯তম সংখ্যা শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে। তাতে সন্দীপন দত্ত, শ্রেয়সী চট্টোপাধ্যায়, অঙ্কুশ বর্মনের মতো নতুন প্রজন্মের কবিদের কবিতা রয়েছে। সম্পাদক পঙ্কজ ঘোষ ও শুভ্রদীপ রায় বলেন, লেখা কাউকে শেখানো যায় না। আমরা বিশ্বাস করি, লেখা যাঁর থাকে তিনি আসল। তাঁর প্রতিভা তুলে ধরাই আমাদের কাজ ও দায়িত্ব। শিলিগুড়ির পাশাপাশি কলকাতার বহু তরুণ কবির লেখাও এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
মেলা কমিটির আহ্বায়ক মধুসূদন সেন বলেন, শনিবার স্থানীয় কবিরা স্বরচিত কবিতা পাঠ করবেন। ১০০ জনের নাম নথিভুক্ত হয়েছে। দুপুর ২টো থেকে বসে আঁকো প্রতিযোগিতা রয়েছে। বিকেলে উত্তরবঙ্গ বইমেলা স্মারকসম্মান দেওয়া হবে দু’জন সাহিত্যিককে। পাশাপাশি বইমেলা মঞ্চ থেকেই ‘টক টু মেয়র’ অনুষ্ঠান করবেন গৌতম দেব। সব মিলিয়ে স্লগওভারে তুফান ব্যাটিং করছে উত্তরবঙ্গ বইমেলা, তা হলফ করে বলাই যায়।আরএকটি প্রকাশনা সংস্থার পক্ষে ভোলা দত্ত প্রতিবার এই মেলায় আসেন। তাঁর অভিজ্ঞতা, ১৮-৩৫ বছরের ছেলে মেয়েরা থ্রিলারের বই কিনতে আসছেন। হিমাদ্রী কিশোরের ভয় ভয়ঙ্কর এবার ভালো বিক্রি হয়েছে। প্রবীণরা উপন্যাসে হাত দিচ্ছেন। এর পাশাপাশি ভূত-গোয়েন্দা তো আছেই। ভারতের মহিলা গোয়েন্দাদের নিয়ে বই এবার আমাদের চমক। তবে শুধুই কি কেনা বেচা! বইমেলা নতুন বই-পত্রিকার প্রকাশের মাধ্যমও বটে। সারা বছরের প্রস্তুতি এই সন্ধ্যাগুলির জন্যই। ‘উত্তরের কবিমন’ পত্রিকার ১৯তম সংখ্যা শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে। তাতে সন্দীপন দত্ত, শ্রেয়সী চট্টোপাধ্যায়, অঙ্কুশ বর্মনের মতো নতুন প্রজন্মের কবিদের কবিতা রয়েছে। সম্পাদক পঙ্কজ ঘোষ ও শুভ্রদীপ রায় বলেন, লেখা কাউকে শেখানো যায় না। আমরা বিশ্বাস করি, লেখা যাঁর থাকে তিনি আসল। তাঁর প্রতিভা তুলে ধরাই আমাদের কাজ ও দায়িত্ব। শিলিগুড়ির পাশাপাশি কলকাতার বহু তরুণ কবির লেখাও এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।



