নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মধ্যপ্রাচ্যে নির্মাণের কাজে শ্রমিকের প্রয়োজন। কাজের খোঁজ দেবে কলকাতার এক ব্যক্তি। এমনই টোপ দিয়ে বিহারের তিন বাসিন্দাকে নিয়ে আসা হয়েছিল হাওড়ায়। এরপর তাঁদের মধ্যে একজনকে কলকাতার গড়িয়ার কাছে একটি হোটেলে বন্দি করে মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। মঙ্গলবার ভোরে সেই হোটেলে অভিযান চালিয়ে অপহৃত যুবক অমৃত রাজকে উদ্ধার করেছে হাওড়ার গোলাবাড়ি থানার পুলিস। গ্রেপ্তার করা হয়েছে চার অপহরণকারীকেও। ধৃতদের নাম বিমলেশ কুমার, মনজুর আলম, জিয়ারুল রহমান লস্কর ও দীপজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিস জানিয়েছে, মূল অপহরণকারী বিমলেশ কুমার দিল্লির বাসিন্দা এবং দীপজয় কলকাতা পুলিসের অস্থায়ী গাড়িচালক। চারজনকে এদিন হাওড়া জেলা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক আটদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহারের বেগুসরাইয়ের তিন বাসিন্দা অমৃত রাজ, রবিশ কুমার ও বিট্টু কুমার কাজের সন্ধানে গত রবিবার হাওড়া স্টেশনে আসেন। এক পরিচিতের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পেরেছিলেন, দুবাইয়ে নির্মাণ কাজের জন্য ভালো বেতনের বিনিময়ে শ্রমিক নেওয়া হচ্ছে। বিমলেশ কুমার নামের এক ব্যক্তি এ বিষয়ে মধ্যস্থতা করছে। ট্রেন থেকে নামার পর হাওড়া স্টেশনের কাছে একটি হোটেলে ওঠেন অমৃতরা। সোমবার সেই হোটেলে এসে বিহারের তিন বাসিন্দার সঙ্গে দেখা করে বিমলেশ। পুলিস জানিয়েছে, অপহরণকাণ্ডের মূল পান্ডা বিমলেশ আগে থেকেই জানত যে, তিনজনের মধ্যে অমৃতের আর্থিক অবস্থা কিছুটা ভালো। তাই শুধু তাঁকেই অপহরণের পরিকল্পনা করে বিমলেশ। এরপর অমৃতকে বিভিন্ন অজুহাতে মেট্রোয় করে গড়িয়ায় নিয়ে যায় সে। গড়িয়া মেট্রো স্টেশনের কাছেই অপেক্ষা করছিল বিমলেশের গ্যাংয়ের চার সদস্য। গড়িয়ার একটি হোটেলে খাওয়া-দাওয়া সারে তারা। এরপর অমৃতকে বলা হয়, কাজের ব্যাপারে আলোচনার জন্য স্থানীয় একটি হোটেলে যেতে হবে। সেইমতো তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় পঞ্চসায়রের কাছে একটি হোটেলে। সেখানে একটি ঘরে আটকে অমৃতকে মারধর করে বিমলেশ ও তার গ্যাংয়ের লোকজন। এরপর মুক্তিপণ বাবদ চাওয়া হয় এক লক্ষ টাকা। না দিলে খুনের হুমকি দেয় অপহরণকারীরা। এরপর অমৃতকে ফোনে যোগাযোগ করানো হয় তাঁর পরিবারের সঙ্গে। অপহৃত যুবকের পরিবারের সদস্যরা হাওড়ার হোটেলে থাকা তাঁর দুই সঙ্গীকে বিষয়টি জানান। সোমবার রাতেই তাঁরা গোলাবাড়ি থানার দ্বারস্থ হয়ে অমৃতকে অপহরণের অভিযোগ জানান।
পুলিস তড়িঘড়ি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও মোবাইলের টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে তল্লাশি শুরু করে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই জানা যায়, পঞ্চসায়র থানা এলাকার একটি হোটেলে আটকে রাখা হয়েছে অমৃতকে। সেই মতো পুলিসের একটি দল ভোরে হানা দেয় ওই হোটেলে। উদ্ধার করা হয় অপহৃতকে। পাশাপাশি চার অপহরণকারীকেও ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। হাওড়া সিটি পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ‘মূল অপহরণকারী বিমলেশ দিল্লি থেকে প্রায়ই কলকাতায় এসে গ্যাংয়ের সদস্যদের নিয়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটাত। অভিযুক্তদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে।’
এদিকে, ধৃত দীপজয় বন্দ্যোপাধ্যায় মাঝেমধ্যে কলকাতা পুলিসের গাড়ি চালায় বলে জানতে পেরেছে পুলিস। এই দিকটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অমৃত রাজকে বাকি দুই সঙ্গীর সঙ্গে বিহারে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে পুলিস।