শ্যামলেন্দু গোস্বামী, গাইঘাটা: রাত ২ টো ৪০ মিনিট। পরপর তিনটি শব্দ শুনে চমকে উঠেছিলেন কল্পনা মণ্ডল। প্রথমে ভেবেছিলেন, বাজি ফাটছে। কিন্তু বাইরে বেরিয়ে আকাশে ধোঁয়া দেখতে পাননি। কিছুক্ষণের মধ্যেই চোখে পড়ে পুলিশের গাড়ি। লোকজনের ছোটাছুটি। কয়েকটি বাইককেও দ্রুতগতিতে চলে যেতে দেখেছেন। পরে, পুলিশের গাড়িকেও থানার দিকে চলে যেতে দেখেন। তখনও বুঝতে পারেননি, কী ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে জানতে পারেন— কিশোরী ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের এনকাউন্টারে। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির সামনে বসে আগের রাতের সেই অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন কল্পনা।
গাইঘাটার শিমূলপুরের বৈদ্যপাড়ায় পিচ রাস্তার ধারে যেখানে এনকাউন্টার হয়েছে, সেখান থেকে তাঁর বাড়ি ১০০ মিটারের মধ্যে। এত কাছাকাছি এমন ঘটনা ঘটলেও প্রথমে কিছু টের পাননি কল্পনা। তাঁর স্বামীর ফুলের ব্যবসা। ব্যবসার জন্য গভীর রাতে তাঁকে বেরতে হয়। তার আগে রাত পর্যন্ত ফুলের মালা গেঁথে তৈরি করতে হয়। সোমবার রাতে সেই কাজ চলছিল বাড়িতে। রাত ২টো ২০ মিনিট নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান কল্পনার স্বামী। তার ঠিক ২০ মিনিট বাদে পরপর তিনটি গুলির শব্দ শুনতে পান তিনি। কল্পনার কথায়, এত বড়ো ঘটনা ঘটেছে বুঝতে পারিনি, সকালে জানলাম। তবে যে ঘটনা ঘটেছে, তা ন্যক্কারজনক। দোষীর ঠিক সাজা হয়েছে। এদিন সকালে কল্পনার বাড়ির সামনের রাস্তাটি থমথম করছিল। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল, পুলিশের গাড়ির ভাঙা কাচের টুকরো চারদিকে পড়ে রয়েছে। দিনভর সেখানে পুলিশ মোতায়েন ছিল।



