সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: সোমবার রাতে ঝড়বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মাথাভাঙা-১ ব্লকের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শতাধিক টিনের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইসঙ্গে প্রচুর গাছপালা উপড়ে পড়েছে। বেশকয়েক জায়গায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়েছে। রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বেশিরভাগ এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে।
ব্লক প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পচাগড়, কুর্শামারি ও জোরপাটকি গ্রাম পরিদর্শন করতে টিম পাঠানো হয়েছে। দুর্গতরা যাতে প্রয়োজনীয় ত্রাণ পান সেব্যবস্থাও করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরিমাপ করার কাজ শুরু করা হয়েছে। রাতে মাথাভাঙা-শীতলকুচি রাজ্য সড়কের জটামারিতে একটি বড় গাছ রাস্তার উপর উপড়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল। যদিও প্রশাসনিক ও পুলিসের তৎপরতায় রাতেই গাছটি কেটে রাস্তা পরিষ্কার করা হয়।
কুর্শামারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সাতগ্রামের বাসিন্দা জলিল মিয়াঁ বলেন, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ঝড় শুরু হয়। বিদ্যুতের ঘনঘন ঝলকানি সহ প্রবল বৃষ্টিতে শোবার ঘরের টিনের চাল উড়ে যায়। একটি ঘরের উপর গাছ পড়ে টিনের চাল ভেঙে পড়ে। পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা সম্পা বর্মন, অর্চনা বর্মন বলেন, রাতের ঝড়বৃষ্টিতে গোটা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরের কয়েকটি টিন উড়ে গিয়েছে। গাছ উপড়ে পড়ে ঘর ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির রাতে ছোট সন্তান নিয়ে কোনওক্রমে ঘর থেকে বেরিয়ে আসি।
পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান কল্যাণী রায় বলেন, ঝড়ে আমাদের গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিপুল ক্ষতি হয়েছে। আমরা নিজেরা কিছু ত্রাণ বিলি করেছি। ব্লক প্রশাসনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
মাথাভাঙা-১ এর বিডিও শুভজিৎ মণ্ডল বলেন, সকাল থেকে আমাদের আধিকারিকরা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কোথায় কেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার হিসেব করা হচ্ছে। একইসঙ্গে দুর্গতদের ত্রাণ দেওয়া চলছে।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেও পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাইশগুড়ি সহ বেশকিছু এলাকায় ব্যাপক ঝড় হয়েছিল। ওই সময়ে ঘরবাড়ি সহ ভুট্টা খেতেরও ক্ষতি হয়েছিল ব্যাপক। এরমধ্যে আবারও ঝড়বৃষ্টি হওয়ায় বিপাকে পড়েছে এলাকার মানুষ। গাছ ভেঙে প্রচুর বাড়ির ক্ষতি হয়েছে। এদিন সকাল থেকে বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করে বিদ্যুৎ দপ্তর। মাথাভাঙার বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির তরফে জানানো হয়েছে প্রতিটি এলাকার বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজ জোরকদমে চলছে।