Bartaman Logo
৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ত্রিস্তর পঞ্চায়েত, পুরসভা সচল রাখতেই হবে, নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

পঞ্চায়েত ও পুরসভায় নাগরিক পরিষেবার কাজ বন্ধ রাখা যাবে না। দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে এমনই কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

ত্রিস্তর পঞ্চায়েত, পুরসভা সচল রাখতেই হবে, নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
  • ২২ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, দুর্গাপুর: পঞ্চায়েত ও পুরসভায় নাগরিক পরিষেবার কাজ বন্ধ রাখা যাবে না। দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে এমনই কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে সৃজনী হলে মন্ত্রীসভার সহকর্মী অগ্নিমিত্রা পাল, দিলীপ ঘোষ সহ পুলিশ-প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের কাছে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিরা না এলে যাবতীয় কাজ দেখভাল করবেন সচিব। একইভাবে পঞ্চায়েত সমিতির কাজ দেখবেন বিডিও। পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের না আসার কারণও ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন,  আমরা জোর দিয়েছি উন্নয়নে। অধিকাংশ গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পুরসভার লোকেরা পালিয়ে গিয়েছেন। কেউ তাঁদের তাড়িয়ে দেয়নি। ওঁদের মধ্যে দুটো গ্লানি কাজ করছে। প্রথমত ছাপ্পা মেরে জিতেছেন। দ্বিতীয়ত আবাস যোজনা থেকে শুরু করে ঠিকাদারদের কাছ থেকে প্রচুর টাকা অগ্রিম নিয়ে রেখেছেন। রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর টাকা ফেরত দিতে হবে। সেই কারণেও  পালিয়েছেন। ফলে, পঞ্চায়েত, পুরসভাগুলিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তার জেরে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হচ্ছে। আমরা  বলে দিলাম, পঞ্চায়েতের সচিব রয়েছেন। তিনি কাজ করবেন। পঞ্চায়েত অফিসকে অচল করে রাখার অধিকার কোনো ব্যক্তি বা কোনো দলের নেই। পঞ্চায়েত সমিতিতে এক্সিকিউটিভ অফিসার বিডিও রয়েছেন। তিনি কাজ করবেন। আমাদের সমস্ত স্কিম চালু করতে হবে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত স্কিমে যুক্ত হয়ে গিয়েছি আমরা। তার সুফল যাতে আগামী জুলাই মাস থেকে জনগণ পায়, তার জন্য প্রাথমিক কাজ শুরু করে দিতে হবে। যেমন, আয়ুষ্মান ভারতের পোর্টাল, বিশ্বকর্মা যোজনার এমএসএমই  ডিপার্টমেন্টের কমিটি তৈরি করে ট্রেনিংয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে। আরও নতুন ১৫ লক্ষ মা-বোন-দিদিকে উজলা গ্যাস যোজনার সুযোগ দিতে হবে। 

Advertisement

এদিন, পূর্বতন তৃণমূল সরকারকেও তীব্র কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, পাঁচ জেলার ৫৭ জন বিধায়ককে বৈঠকে ডাকা হয়েছিল তার মধ্যে আমাদের ৫০ জন বিধায়কই এসেছিলেন। তৃণমূলের সাতজন বিধায়ককেও ডাকা হয়েছিল। মুরারইয়ের বিধায়ক আমাকে মেসেজ করেছিলেন তিনি আসবেন বলে। আগের ৫ বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের ডাকতেন না। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী ওঁদের ডেকেছেন। আগে বিজেপি এমপিদের ফোন ধরতেন না বিডিওরা। ডিএম তো অনেক দূরের কথা। আমাদের দুই এমপিকে মঞ্চে বসিয়ে প্রশাসনিক কাজে তাঁদের যুক্ত করেছি। দিল্লি থেকে টাকা নিয়ে আসবেন।এনএইচআই প্রকল্প, রেল প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে হবে। ডবল ইঞ্জিনের সুফল যে কোনও মূল্যে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।  
সামনেই বর্ষা। ডিভিসির জল ছাড়া নিয়ে অতীতে কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে রাজ্য। সেটা আর হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই ডিভিসির সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে কো-অর্ডিনেশন (নিবিড় সমন্বয়) মিটিং হয়ে গিয়েছে। রাজ্যকে পাঁচটি জনে ভাগ করা হয়েছে—নিম্ন দামোদর, ঘাটাল, কান্দি, মালদা ও উত্তরবঙ্গ। তিনি বলেন, ১০০ শতাংশ সমস্যার সমাধান এখনই করতে পারব না। আমাদের হাতে সময় খুব কম। কিন্তু পাহাড়ে মানুষ ভেসে যাবে, আর সরকার মেলা করবে, এমনটা আর ঘটবে না। 
বৃহস্পতিবার ফলতার ভোট নিয়েও দুর্গাপুরে মুখ খোলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ফলতার মানুষ দশ বছর ভোটদানে বঞ্চিত ছিলেন। ভারতীয় জনতা পার্টির শাসনকালে এই প্রথম নির্বাচনে গণতন্ত্রের মহোৎসব হচ্ছে। সকালটা দেখলেই বোঝা যায়, সারাদিন কেমন যাবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ