ফিরদৌস হাসান, পুলওয়ামা: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফের অপারেশন জম্মু ও কাশ্মীরে। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিকে নিকেশ তিন জয়েশ-ই-মুহম্মদ জঙ্গি। তাদের নাম আসিফ আহমেদ শেখ, আমির নাজির ওয়ানি ও ইয়াওয়ার আহমেদ ভাট। প্রত্যেকের বাড়ি পুলওয়ামা জেলায়।
ফিরদৌস হাসান, পুলওয়ামা: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফের অপারেশন জম্মু ও কাশ্মীরে। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিকে নিকেশ তিন জয়েশ-ই-মুহম্মদ জঙ্গি। তাদের নাম আসিফ আহমেদ শেখ, আমির নাজির ওয়ানি ও ইয়াওয়ার আহমেদ ভাট। প্রত্যেকের বাড়ি পুলওয়ামা জেলায়।
অপারেশন সিন্দুরে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে একের পর এক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারত। এরমধ্যেই পহেলগাঁওতে জঙ্গি হানায় যুক্তদের খোঁজে উপত্যকাজুড়ে চিরুনি তল্লাশি চলছে। মঙ্গলবারই সোপিয়ানে লস্কর-ই-তোইবার ঘাঁটিতে ‘অপারেশন কেলার’ চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয় তিন জঙ্গির। সেই অভিযানের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘অপারেশন নাদের’ শুরু করে ভারতীয় সেনা, জম্মু-কাশ্মীর পুলিস ও সিআরপিএফের যৌথ বাহিনী। পুলিসের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পুলওয়ামায় অবন্তীপুরার ত্রাল তেহশিলের নাদের গ্রামে বেশ কয়েকজন জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে বলে খবর মেলে। সেইমতো গোটা এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। একটি বাড়িতে লুকিয়ে জঙ্গি জঙ্গিরা। এলাকা ঘিরে প্রথমে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। তাতে সাড়া দেয়নি সন্ত্রাসবাদীরা। বরং বাহিনীকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা জবাব দেয় সেনা-জওয়ানরা। দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল গুলির লড়াই শুরু হয়। তাতে তিন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে।
ইতিমধ্যেই তিন জঙ্গির পরিচয় জানতে পেরেছে প্রশাসন। জানা গিয়েছে, আসিফ অবন্তীপুরায় জয়েশের জেলা কমান্ডারের দায়িত্বে ছিল। ২০২২ সাল থেকে একাধিক নাশকতামূলক কাজে তার নাম জড়িয়েছিল। এদিন এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে আমির নাজির ওয়ানিরও। পুলওয়ামার বাসিন্দা এই জঙ্গি গতবছর থেকে জয়েশের সঙ্গে যুক্ত হয়। ইয়াওয়ারও ২০২৪-এ একই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে নাম লেখায়।
এদিন এনকাউন্টারের সময়ের একটি ড্রোন ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে গুলির লড়াইয়ের মধ্যে হামাগুড়ি দিয়ে একটি কংক্রিটের পিলারের আড়ালে আশ্রয় নিতে দেখা গিয়েছে এক জঙ্গিকে। অন্য একটি ভিডিওতে সেনার গুলি থেকে বাঁচতে জঙ্গিদের একটি ভেঙে পড়া শেডে আশ্রয় নিতে দেখা যায়।
এরমধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের রিয়াসি জেলার ঘন জঙ্গলে তল্লাশি শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। প্রশাসন সূত্রে খবর, বুধবার রাতে বাঘা এলাকায় দু’জন সন্দেহভাজনকে দেখতে পান এক মহিলা। ওই তথ্যের ভিত্তিতে যৌথবাহিনী তল্লাশি শুরু করেছে। ড্রোনেরও সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।