সংবাদদাতা, বনগাঁ: বনগাঁয় তৃণমূলের দু’পক্ষের মারামারিতে উত্তেজনা। থানায় অভিযোগ, পালটা অভিযোগ। এই ঘটনায় তিনজনকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে বনগাঁ থানার কলঘাট এলাকায়। যদিও তৃণমূলের দাবি, এই ঘটনায় দলের কোনো যোগ নেই। এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের বিবাদ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ হয়েছে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার সকালে। জানা গিয়েছে, এদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন বনগাঁ শহর তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি প্রমিত ঘোষ। অভিযোগ, সেই সময় বনগাঁ শহর যুব তৃণমূলের সম্পাদক প্রশান্ত দত্ত দলবল নিয়ে তাঁর উপর চড়াও হয়। বাঁশ, লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় প্রমিতকে। এরপর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন টিএমসিপির ওই নেতা। বিষয়টি থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়ানোয় অভিযুক্তরা ফের চড়াও হয় প্রমিত ও তাঁর সমর্থকদের উপর। ব্যাপক মারধর করা হয় তাঁদের। সভাপতি সহ তিনজনকে উদ্ধার করে বনগাঁ হাসপাতালে ভরতি করা হয়। পরবর্তীকালে ছাত্রনেতার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে। প্রমিত ঘোষ বলেন, ‘এলাকায় খেলার মাঠে দীর্ঘদিন ধরেই অসামাজিক কাজ চলছে। আমি তার প্রতিবাদ করেছিলাম। সেকারণে প্রশান্ত দত্ত দলবল নিয়ে আমার উপর চড়াও হয়।’ যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শহর যুব তৃণমূলের সম্পাদক প্রশান্ত দত্ত। উলটে তাঁর অভিযোগ, ‘এলাকার পার্কে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অসামাজিক কাজে মদত দিয়ে আসছে প্রমিত ও তাঁর দলবল। এলাকার মানুষ পুরসভায় অভিযোগ করায় পুর কর্তৃপক্ষ পার্কটি বন্ধ করে দেয়। সেই আক্রোশেই ওরা আমার উপর চড়াও হয়।’ এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এ নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বিজেপির দাবি, এলাকা দখল নিয়ে দুই গোষ্ঠীর বিবাদের জেরেই এই ঘটনা। বনগাঁ জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, দু’পক্ষের মধ্যে ঝামেলা থেকেই মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে দলের কোনো যোগ নেই।