Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

টার্গেটে ছিল টিটাগড়ের বাহুবলি কাউন্সিলার সহ তিনজন! জেরায় উঠে আসছে তথ্য

শুধু তাই নয়, এই ষড়যন্ত্রের পিছনে শিল্পাঞ্চলের কোনও প্রভাবশালীর যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

টার্গেটে ছিল টিটাগড়ের বাহুবলি কাউন্সিলার সহ তিনজন! জেরায় উঠে আসছে তথ্য
  • ২১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ‘টার্গেট’ ফিনিশ করতেই কি ডানলপ মোড়ে জড়ো হয়েছিল টিটাগড়ের কুখ্যাত দুষ্কৃতীরা? নাকি অপারেশনের আগে রেকি করতে এসেছিল? তাদের নিশানায় শুধুই কি এক কাউন্সিলার, নাকি তিনজন প্রভাবশালীর নাম? শুক্রবার রাতে ডানলপ মোড়ে ধৃত পাঁচ দুষ্কৃতীকে জেরা করে এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিস। শুধু তাই নয়, এই ষড়যন্ত্রের পিছনে শিল্পাঞ্চলের কোনও প্রভাবশালীর যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পুলিস জানতে পেরেছে, ধৃতদের টার্গেট ছিল কমপক্ষে তিনজন। পুলিস কমিশনার মুরলীধর শর্মা বলেন, ধৃত পাঁচ দুষ্কৃতীকে জেরা করে তাদের ‘টার্গেট’  জানার চেষ্টা চলছে। বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে কোনও অপরাধ বরদাস্ত করা হবে না।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে বি টি রোডের উপর ডানলপ মোড় থেকে পুলিস পাঁচ দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছিল। ধৃতদের নাম আহমেদ আলি ওরফে চুনুয়া, শেখ সাদ্দাম হোসেন, মহম্মদ মনসুর ওরফে ভুকাও, মহম্মদ আলি ওরফে মুন্না ও মহম্মদ আহতাশাম ওরফে খুররম খান। ধৃতরা সকলেই টিটাগড়ের বাসিন্দা। বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা খুনে গ্রেপ্তার হয়েছিল খুররম। বর্তমানে সে জামিনে রয়েছে। অন্যদিকে, বেলঘরিয়ার ব্যবসায়ী অজয় মণ্ডলের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল চুনুয়ার। সে দীর্ঘদিন ফেরার ছিল। পুলিস জেনেছে, ওই পর্বে সে হাওড়ায় একটি গোপন আস্তানায় ছিল। সেই চুনুয়া বহুমূল্য গাড়ি নিয়ে এসেছিল ডানলপ মোড়ে। তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল খুররম সহ চারজন। সোর্স মারফত পুলিস আগেই জানতে পারে, চুনুয়া ও খুররম মুখোমুখি হতে চলেছে। সেইমতো অভিযান চালিয়ে এই কুখ্যাতদের জালে তুলতে সক্ষম হয় কমিশনারেটের পুলিস।
শুক্রবার রাতেই তাদের ‘টার্গেট’ পূরণের উদ্দেশ্য ছিল, নাকি রেকি করার পাশাপাশি অপারেশনের দিনক্ষণ স্থির করতে ডানলপ মোড়ে জড়ো হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, এলাকা দখলের লড়াই থেকেই তারা ‘টার্গেট’ স্থির করেছিল। সেই তালিকায় টিটাগড়ের এক বাহুবলী কাউন্সিলার সহ দু’জন ছিল। নিশানায় থাকা তৃতীয়জন রহড়ার। প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জেনেছে, ওই বাহুবলী কাউন্সিলারের দলবলের হাতে একবার আক্রান্ত হয়েছিল চুনুয়া। শুধুমাত্র ওই কারণেই কি বদলার ছক কষা হচ্ছিল, নাকি পিছনে বড় মাথার খেলা রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিস। তবে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে দুষ্কৃতীদের অন্যতম ডেরা হল টিটাগড়। প্রোমোটারি, সিন্ডিকেট, কারখানা থেকে তোলাবাজি— কোটি কোটি টাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাম জমানা থেকেই বিভিন্ন দুষ্কৃতী গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ