নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: এখনও ১০০ জনের মধ্যে তিনজন প্রসূতির সন্তান প্রসব হচ্ছে বাড়িতে। বর্তমানে মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের সংখ্যা ৯৭ শতাংশ হলেও এখনও উদ্বেগ কমছে না মুর্শিদাবাদে। জেলায় প্রচার ও সচেতনতায় আরও জোর দিয়ে বাড়িতে সন্তান প্রসব বন্ধ করতে উঠেপড়ে নামছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর। বুধবার বহরমপুর সার্কিট হাউসে বিধানসভার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান নির্মল মাজির নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের সমস্ত আধিকারিক ও স্বাস্থ্যকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে বাড়িতে সন্তান প্রসব আটকানোর জন্য সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
নির্মলবাবু বলেন, আমরা চাইছি ১০০ শতাংশ ইন্সটিটিউশনাল ডেলিভারি করতে। বর্তমানে মুর্শিদাবাদ জেলায় ৯৭ শতাংশ ইন্সটিটিউশনাল ডেলিভারি হচ্ছে। এটা আগামীতে বাড়ানোর জন্য আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকরা এটা বাড়াতে সদর্থক ভূমিকা নিচ্ছেন। কিছু কিছু জায়গায় যেখানে ইন্সটিটিউশনাল ডেলিভারির সংখ্যা কম সেখানে মহিলাদের সচেতন করা হবে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্তারা সেখানে জনসংযোগ করবেন। মানুষকে সব রকমভাবে সচেতন করবে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব না হলে বাচ্চা ও মায়ের ঝুঁকি থাকে। সেটা করা যাবে না। মানুষকে তা বোঝাতে হবে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক সন্দীপ সান্যাল বলেন, আগের তুলনায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব অনেক বেড়েছে। অধিকাংশ প্রসূতির হাসপাতালেই প্রসব হচ্ছে। আগামীতে এই পরিসংখ্যান আরও বাড়বে।
মঙ্গলবার দিনভর জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শনের পর সন্ধ্যায় মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন বিধানসভার স্বাস্থ্য বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা। ওইদিন সন্ধ্যায় হাসপাতালের মেল সার্জিকাল ওয়ার্ড, ট্রমা কেয়ার সেন্টার সহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। কথা বলেন রোগীর পরিজনদের সঙ্গেও। পাশাপাশি তাঁরা রোগীদের খাবার তৈরির রান্নাঘরও ঘুরে দেখেন। সেখানে খাবারের গুণগত মান যাচাই করেন। ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানে গিয়ে কী কী ওষুধ মিলছে এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ থাকছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখেন।
নির্মলবাবু বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা যাতে ভালোভাবে কাজ করেন সেজন্য তাঁদের সরকারি সমস্ত সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। রুরাল হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজে পর্যাপ্ত সিসিটিভি লাগানো হয়েছে। পানীয় জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। হাসপাতালে মহিলা কর্মীদের শৌচাগার এবং তাঁদের সুরক্ষিত পোশাক পাল্টানোর ঘর তৈরি করা হয়েছে। ন্যায্য মূল্যের দোকানে আমরা গিয়ে পরীক্ষা করেছি। মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ যাতে না থাকে সেগুলো আমরা ভিজিট করে সবাইকে সতর্ক করছি। বিভিন্ন ওষুধের পর্যাপ্ত স্টক রয়েছে প্রতিটি ন্যায্য মূল্যের দোকানে। হাসপাতালে ওষুধ মজুত থাকা সত্ত্বেও অনেক রোগীর পরিজনকে বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হচ্ছে। সেটা আমরা হতে দেব না। কঠোরভাবে তা বন্ধ করা হবে।