Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অশোকনগরে কিডনি পাচারচক্রে গ্রেপ্তার স্বাস্থ্যকর্মী সহ আরও তিন

অশোকনগরে কিডনি পাচারচক্রে গ্রেপ্তার আরও তিন। এই ঘটনায় সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ধৃতের সংখ্যা হল নয়।

অশোকনগরে কিডনি পাচারচক্রে  গ্রেপ্তার স্বাস্থ্যকর্মী সহ আরও তিন
  • ১৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অশোকনগরে কিডনি পাচারচক্রে গ্রেপ্তার আরও তিন। এই ঘটনায় সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ধৃতের সংখ্যা হল নয়। শুক্রবার রাতে অশোকনগর থেকে ধৃত তিনজন হল শিশির কর্মকার, সুরজিৎ ঘোষ ও  কালাচাঁদ দাস। ধৃত শিশির গত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে অশোকনগর পুরসভার ন’নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন।

Advertisement

অশোকনগরে কিডনি পাচারকাণ্ডের তদন্তে নেমে মূল পান্ডা বিকাশ ঘোষ ওরফে সুদখোর শীতল সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তাঁদের জেরা করে আলিপুর আদালতের আইনজীবী প্রদীপকুমার বরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। তাঁর ফোন থেকেই উদ্ধার হয় অশোকনগরের তৃণমূল নেতা শিশির কর্মকারের নাম। তিনি অশোকনগর পুরসভা পরিচালিত হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী। একদিকে স্বাস্থ্যকর্মী আর অন্যদিকে শাসকদলের নেতা হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গোটা চক্রকে মসৃণভাবে চালাতেন তিনি।
সূত্রের দাবি, অসহায় ঋণগ্রস্ত মানুষদের কাছে গিয়ে তিনি বলতেন, টাকা শোধ করতে না পারলে একটা কিডনি দিয়ে দাও। আমি স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে বলছি, এতে শরীরে কিছুই ক্ষতি হবে না। তাঁর কথা শুনে কিডনিচক্রের ফাঁদে পড়েছেন অনেকেই। ধৃত কালাচাঁদ ও সুরজিৎ শীতল ঘোষের সাগরেদ হিসেবে কাজ করতেন। পুলিসের আরও একটি সূত্র বলছে, শিশির সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাজ করতেন। সেই সুযোগে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের ‘রেকমেন্ডেশন’ বা সুপারিশ এবং ‘ভেরিফিকেশন’-এর ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ ভূমিকা থাকতে পারে। সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আগে কিডনি পাচার নিয়ে একটি অভিযোগ হয়েছিল। সেই ঘটনায় ছ’জন গ্রেপ্তার হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে আরও একটি কিডনি বিক্রির অভিযোগ জমা পড়ে অশোকনগর থানায়। সেখানে পুলিস জানতে পারে, জেলা স্বাস্থ্যবিভাগের ‘নট রেকমেন্ডেড’ হওয়া সত্ত্বেও কিডনি বিক্রির প্রস্তুতি চলছে শেষ পর্যায়ে। জেলা থেকে ছাড়পত্র না পেয়েও রাজ্য থেকে ছাড়পত্র জোগাড় করেছেন কিডনিদাতা। তারপরেই তড়িঘড়ি সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমে গিয়ে অশোকনগর থানার পুলিস তা রুখে দেয়। আর সেই ঘটনাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে শিশির, কালাচাঁদ ও সুরজিৎকে। এরা প্রত্যেকেই শীতলের গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য।
এই বিষয়ে বারাসত পুলিস জেলার সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খাড়িয়া বলেন, কিডনি পাচারের ঘটনায় পৃথক দু’টি কেস হয়েছে। প্রথমটিতে শীতলদের গ্যাং গ্রেপ্তার হয়েছে। দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে কেবল দাতা আলাদা। বাকি চিকিৎসক থেকে গোটা গ্যাং একই। এ ক্ষেত্রে ‘ব্রোকার’ হিসেবে কাজ করেছেন শিশির। ধৃতদের তিনদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।  
এদিকে, কিডনি পাচারের ঘটনায় তৃণমূল নেতার নাম জড়ানো প্রসঙ্গে অশোকনগর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকার বলেন, ধৃত শিশির আমাদের দলের কেউ নন। অন্যদিকে, বিজেপি ও সিপিএমের টিপ্পনি, গোটা ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত হলে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ