অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: তিন জায়গার মহকুমা শাসক একজনই! তাও আবার একই সময়ে। তার মধ্যে একটি মহকুমার আবার কোনও অস্তিত্বই নেই বাংলাতে। অথচ সেই ‘ভুয়ো’ মহকুমার দায়িত্বপ্রাপ্ত শাসকের তরফ থেকে জাতিগত শংসাপত্র ইস্যুও হয়েছে। রয়েছে আধিকারিকের ডিজিটাল সিগনেচারও। জাল শংসাপত্র ইস্যু কাণ্ডে বাজেয়াপ্ত হওয়া কাস্ট সার্টিফিকেট থেকে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল ধুবুলিয়া থানার পুলিস। যা দেখে হতবাক তদন্তকারী অফিসাররাও। বলার অপেক্ষা রাখে না, বাজেয়াপ্ত হওয়া কাস্ট সার্টিফিকেটগুলো সবকটিই নকল। কিন্তু সেই জাতিগত শংসাপত্রে সরকারি আধিকারিকের ডিজিটাল সিগনেচার নকল করে ইস্যু করা হয়েছে। এমনই বেশ কিছু সার্টিফিকেট হাতে পেয়েছেন গোয়েন্দারা। সেইসঙ্গে আর কোন কোন শংসাপত্র জালিয়াতি করে তৈরি করা হয়েছে তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ধুবুলিয়া থানার পুলিস সোনডাঙা এলাকা থেকে মুসারফ শেখ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। ধৃত যুবক দীর্ঘদিন ধরে সাইবার ক্যাফে চালায় ওই এলাকায়। ধৃতের কাছ থেকে তিনটি ভুয়ো স্বাস্থ্যসাথী কার্ড, চারটি জাতিগত শংসাপত্র, বেশ কয়েকটি ল্যাপটপ, আধার পোর্টালে ঢোকার জন্য অজ্ঞাত এক ব্যক্তির রেটিনার স্ক্যান ছবি সহ বিভিন্ন জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয়। বাজেয়াপ্ত হওয়া জাতিগত শংসাপত্র দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় পুলিসের। দেখা যায়, ওই চারটি সার্টিফিকেটই ২০২৩ সালের ১৪ এপ্রিল তারিখে ইস্যু করা হয়েছে। তার মধ্যে তিনটি সার্টিফিকেটে সরকারি আধিকারিক চিত্রদীপ সেনের ডিজিটাল সিগনেচার রয়েছে। একটি সার্টিফিকেটে চিত্রদীপ সেনকে কৃষ্ণনগর সদরের মহকুমা শাসক হিসেবে দেখানো হয়েছে। আবার ওই একই দিনে ইস্যু হওয়া অপর একটি জাতিগত শংসাপত্রে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে রানাঘাটের মহকুমা শাসক হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, ওইদিনই ইস্যু হওয়া তৃতীয় শংসাপত্রে দেখা যাচ্ছে সরকারি আধিকারিক চিত্রদীপ সেন আবার মধ্যমগ্রাম মহকুমারও এসডিও। যদিও পশ্চিমবঙ্গে মধ্যমগ্রাম নামে কোনও মহকুমা নেই। মধ্যমগ্রাম উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসত সদর মহকুমার অন্তর্গত একটি অঞ্চল। বাজেয়াপ্ত হওয়া চতুর্থ জাতিগত শংসাপত্রে কোনও মহকুমা শাসকের ডিজিটাল সিগনেচার নেই। তবে সংশ্লিষ্ট সার্টিফিকেটগুলো এতটাই নিখুঁতভাবে তৈরি যে একনজরে দেখলে বোঝার উপায় থাকে না যে তা নকল। যদিও সংশ্লিষ্ট আধিকারিক চিত্রদীপ সেন বাস্তবেই কৃষ্ণনগর সদরের মহকুমা শাসকের দায়িত্ব ছিলেন ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। পুলিসের দাবি, অভিযুক্ত মুশারফ শেখ ফটোশপের মাধ্যমে কোনও আসল শংসাপত্র থেকে আধিকারিকের ডিজিটাল সিগনেচারের অংশটুকু কেটে নেয়। তারপর ভুয়ো শংসাপত্রে মহকুমার নাম নাম বদল করে, আধিকারিকের ডিজিটাল সিগনেচারের অংশটুকু বসিয়ে দেয়। এইভাবেই দীর্ঘদিন ধরে ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র ইস্যু করছিল মুশারফ। সেই সমস্ত শংসাপত্র দিয়েই টাকার বিনিময়ে আধার কার্ড বানাত ধৃত। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এক আধিকারিক বলেন, ‘যে সমস্ত জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলোর ডিজিটাল সিগনেচার জালিয়াতি হয়েছে। সেই সমস্ত সার্টিফিকেট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতকে পুলিসি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’