নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ট্রাফিক গার্ডের হয়ে টাকা তোলার ঘটনায় এবার ডাক পড়ল কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক গার্ডের তিন ওসির। চলতি সপ্তাহে রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার অফিসে (এসিবি) তাঁদের ডাকা হয়েছে বলে খবর। জেরায় সংশ্লিষ্ট সার্জেন্টরা ওই ওসিদের নাম উল্লেখ করায় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
কলকাতা, বিধাননগর, হাওড়া, বারুইপুরে নো-এন্ট্রি এবং ওয়ানওয়েতে টাকার বিনিময়ে ছাড় দেওয়া হতো বিভিন্ন গাড়িকে। এর পিছনে রয়েছে সিন্ডিকেট। সেই পর্দা ফাঁস করেছে এসিবি। তদন্তে উঠে এসেছে, ট্রাফিক গার্ডের হয়ে অপারেটররা এই কাজগুলি করত। ইতিমধ্যেই ধরা পড়েছে অপারেটরদের অন্যতম মাথা সঞ্জীব নন্দী। সূত্রের খবর, তার মোবাইল ঘেঁটে কলকাতা, হাওড়া, বিধাননগর সহ একাধিক ট্রাফিক গার্ডের পুলিশ কর্মীদের নাম পাওয়া গিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছেন সার্জেন্ট ও ওসি। জানা গিয়েছে, সঞ্জীব অনলাইনে টাকা পাঠাত কলকাতা পুলিশের বেশ কয়েকজন ট্রাফিক সার্জেন্টকে। সেই সার্জেন্টদের ডেকে পাঠানো হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অফিসাররা জানতে পারেন, শুধু তাঁরা নয়, ওই টাকা গিয়েছে ট্রাফিক গার্ডের ওসিদের একাংশের কাছেও। ধৃত সঞ্জীবের মোবাইল ঘেঁটে জানা গিয়েছে, তিনটি ট্রাফিক গার্ডের ওসির সঙ্গে নিয়মিত কথা হত তার। সঞ্জীব এই সমস্ত ট্রাফিক গার্ডের অফিসে প্রায়ই যেত। নো এন্ট্রি বা ওয়ানওয়ে রাস্তায় যাতে টাকার বিনিময়ে ট্রাক ও লরিকে ছাড় দেওয়া যায়, তার প্রস্তাব দিত সে। সঞ্জীব যেসব গাড়ি থেকে মাসোহারা নিত, তাদের ছাড় দিতেও তদবির করত সে। সবের পিছনেই ছিল টাকার লেনদেন।
যেসব সার্জেন্টের বয়ান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, তা যাচাই করার জন্যই তিন ওসিকে ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। ট্রাফিকের ওই ওসিরা গত পাঁচ বছরে কত টাকা আয়কর জমা দিয়েছেন, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তাঁদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেনের অঙ্কও যাচাই করা হবে বলে খবর।