শিবাজী চক্রবর্তী ও সঞ্জয় সরকার, কলকাতা:
শিবাজী চক্রবর্তী ও সঞ্জয় সরকার, কলকাতা:
কলকাতা থেকে ফাতোরদার দূরত্ব প্রায় দু’হাজার কিলোমিটার। তবে শুক্রবার রাতে এক লহমায় তা মিটিয়ে দিল ইস্ট বেঙ্গল। সুপার কাপ ডার্বিতে গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করল অস্কার ব্রুজোঁ ব্রিগেড। আর ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই গ্যালারিতে হাজির হাতে গোনা সমর্থকদের চিৎকারে তখন গমগম করছে গোটা স্টেডিয়ামে। চলতি মরশুমের মর্যাদার লড়াইয়ে মোলিনার দলের চোখে চোখ রেখে খেলেছে ইস্ট বেঙ্গল। অর্থের নিরিখে দু’দলের মধ্যে পার্থক্য আকাশ-পাতালের। তবে মাঠের লড়াইয়ে তা অনেকটাই মিটিয়ে দিয়েছেন সাউল-মিগুয়েলরা। বরং শুক্রবার ফাতোরদায় মোহন বাগানের বিরুদ্ধে ভাগ্য সহায় থাকলে ম্যাচটা জিততেও পারতেন মহেশরা। সেই আক্ষেপ শোনা গেল কোচ অস্কারের গলাতে। বললেন, ‘গত তিন মাসের কঠোর পরিশ্রমের ফসল এই পারফরম্যান্স। ডুরান্ড কাপ, আইএফএ শিল্ডের পর সুপার কাপ। প্রতিটি টুর্নামেন্টেই দল পরিকল্পিত পারফরম্যান্স মেলে ধরেছে। মোহন বাগানের বিরুদ্ধে লড়াইটা সব সময় কঠিন। সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচটা জিততেও পারতাম। তবে সেই নিয়ে আর ভাবতে চাই না। এবার সেমি-ফাইনালের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।’
এবারের ইস্ট বেঙ্গলের মাঝমাঠ সোনায় বাঁধানো। মিগুয়েল, রশিদ, ক্রেসপো— এই ত্রিফলা প্রতি ম্যাচেই দলকে ভরসা জোগাচ্ছে। শুক্রবার মর্যাদার লড়াইয়েও এই বিভাগেই মোলিনা-ব্রিগেডকে টেক্কা দিল তারা। কোচ অস্কারও প্রশংসার ভরালেন। বললেন, ‘গত মরশুম পর্যন্ত আমাদের কাউন্টার-অ্যাটাক ফুটবলে ভরসা রাখতে হতো। তবে এবার অনেক বেশি ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ রেখে খেলছে ছেলেরা। তবে এখনও কিছু ভুলত্রুটি রয়েছে। তা শুধরাতে হবে।’
অন্যদিকে, মরশুমের শুরু থেকেই ফুটবলারদের ফিটনস ইস্যুতে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে হোসে মোলিনাকে। সুপার কাপে প্রথম একাদশে ছয় বিদেশি খেলানোর সুযোগ থাকলেও, প্রতি ম্যাচেই তিনজন করে ব্যবহার করেন তিনি। গোটা ম্যাচে মাত্র একবার প্রতিপক্ষের তিনকাঠিতে বল রাখতে সফল মোহন বাগান অ্যাটাকাররা। এরপরই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কোটি কোটি টাকা দিয়ে দিমিত্রি-কামিংসদের বয়ে বেড়ানোর মানে কী? কোচ মোলিনাও মেনে নিলেন, স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতায় ডুবতে হল। বললেন, ‘ম্যাচ জয়ের জন্য প্রয়োজন গোল। তবে শেষ দু’টি ম্যাচে আমরা তা করতে ব্যর্থ। এর দায় আমাকেই নিতে হবে। আর ফুটবলার সই করানোর ব্যাপারে আমি পরামর্শ দিতে পারি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় ম্যানেজমেন্ট।’ এদিনের পর আরও একবার প্রকাশ্যে কোচ ও ম্যানেজমেন্টের মত পার্থক্য।
গত মরশুমে মোহন বাগানের আইএসএল লিগ-শিল্ড ও ট্রফি জয়ের পিছনে অন্যতম কারিগর ছিলেন গ্রেগ স্টুয়ার্ট। তবে অজ্ঞাত কারণে এই স্কটিশ মিডিওকে ছেড়ে দেয় টিম ম্যানেজমেন্ট। তাঁর পরিবর্তে রবসনকে জামাই আদর করে দলে আনেন কর্তারা। কিন্তু এখনও সেভাবে ভরসা জোগাতে ব্যর্থ এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার।
এদিকে, ডার্বিতে আরও একবার রেফারি হিসেবে হরিশ কুণ্ডুকে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন লাল-হলুদ শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। তিনি বলেন, ‘এই রেফারির বিরুদ্ধে অতীতে আমরা আটবার চিঠি দিয়েছি ফেডারেশনকে। তা সত্ত্বেও কেন তাঁকে ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়া হল? এদিনও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বিপক্ষে গিয়েছে। তবে দলকে অভিনন্দন। এবার সুপার কাপ জিততে হবে।’ সূত্রের খবর, নক-আউট পর্ব গোয়া থেকে সরিয়ে অন্য রাজ্যে দেওয়া হতে পারে।