Bartaman Logo
৫ আগস্ট, ২০২৬

এনডিএ’র সঙ্গ এড়াচ্ছেন তিন সংখ্যালঘু বিধায়ক ,শুভেন্দুর সঙ্গে লাঞ্চ-বৈঠকে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা

‘ধরি মাছ, না ছুঁই পানি’ অবস্থানেই ২০২৯ পর্যন্ত কাটাতে চান বিদ্রোহী তৃণমূলের তিন সংখ্যালঘু সাংসদ। গত দু’ সপ্তাহে দুটি বৈঠক বাতিলের পর অবশেষে মঙ্গলবার ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূলিদের সঙ্গে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এনডিএ’র সঙ্গ এড়াচ্ছেন তিন সংখ্যালঘু বিধায়ক ,শুভেন্দুর সঙ্গে লাঞ্চ-বৈঠকে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা
  • ৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: ‘ধরি মাছ, না ছুঁই পানি’ অবস্থানেই ২০২৯ পর্যন্ত কাটাতে চান বিদ্রোহী তৃণমূলের তিন সংখ্যালঘু সাংসদ। গত দু’ সপ্তাহে দুটি বৈঠক বাতিলের পর অবশেষে মঙ্গলবার ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূলিদের সঙ্গে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যদিও নয়াদিল্লির বঙ্গভবনে ইলিশ, গলদা চিংড়ি, রসগোল্লা সহযোগে লাঞ্চ বৈঠকে বিজেপির প্রতি যে তাঁদের প্রবল অ্যালার্জি রয়েছে, তা রাখঢাক করেননি আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান। 

Advertisement

ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকায় আসেননি দেব। সকালে সংসদে-স্বীকৃতিহীন নতুন দল ‘এনসিপিআই’য়ের নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যসচেতক কাকলি ঘোষদস্তিদার, উপদলনেত্রী শতাব্দী রায়দের মতো অনেকেই এনডিএ’র মঙ্গল মিলন বৈঠকে যোগ দেন।যাননি ওই তিন সংখ্যালঘু সাংসদ। গত মঙ্গলবারও তাঁরা একই অবস্থান নিয়েছিলেন। 
শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকে চাষিরা পাটের দাম না পাওয়ার পাশাপাশি  মুর্শিদাবাদের এক ডজন ইস্যুতে সরব হন আবু তাহের। লিখিতভাবে দাবিপত্রও মুখ্যমন্ত্রীর হাতে জমা দেন। বৈঠকে পর আবু তাহের স্পষ্টভাষায় বলেন, ‘এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিয়েছি ঠিকই। তবে যতই এনসিপিআই করি না কেন, কখনই কোনো এনডিএ বৈঠকে যোগ দেব না। যাব না বিজেপির কোনো কর্মসূচিতে। এমনকি সংসদে সংখ্যালঘু বিরোধী কোনো 
বিল এলে তা সমর্থন করব না।’ এদিন শুভেন্দুর সঙ্গে এনসিপিআইয়ের বৈঠকে বঙ্গভবনে হাজির ছিলেন অমিত শাহর আস্থাভাজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। 
এনসিপিআই প্রসঙ্গে শুভেন্দুর মন্তব্য, ‘সংখ্যালঘু তিনজনের কোনো সমস্যা নেই। এই তো একসঙ্গে ইলিশ সহযোগে লাঞ্চ করে এলাম।’ রহস্যজনকভাবে মমতাপন্থী তৃণমূলের চিন্তা বাড়াতে শুভেন্দু এও বলেন, ‘এখন তো দেখছেন ২০ জন। আরও দুজন আসবে। দেখতে থাকুন। ইয়ে তো স্রেফ ঝাঁকি হ্যায়। পিকচার আভি বাকি হ্যায়।’ যদিও তাঁরা কারা খোলসা করেননি। শুভেন্দু বলেন, ‘বাংলায় বিজেপির ১২ সাংসদ। এনসিপিআইয়ের ২০। বিয়াল্লিশে ৩২। আর কী চাই।’  এনসিপিআই সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে শুভেন্দু আশ্বাস দিয়েছেন, এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্প জমা দিন। অগ্রাধিকার দেব। বলেছেন, যোগ্য হলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দেওয়া হবে। সংসদে ভবনে এক প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু বলেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার না পাওয়া নিয়ে সংবাদমাধ্যম বিভ্রান্তকর খবর ছড়াচ্ছে। যোগ্যরা সবাই পাবে, সামান্য সময় লাগবে। একইসঙ্গে জানান, ২৭ লক্ষ ভোটারের রেশন কার্ড বাদ যাওয়া নিয়েও যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তারা কি জানেন, ভোটার তালিকায় নাম বাতিলের মধ্যে মাত্র ৭ লক্ষ লোক ফের নাম তুলতে আবেদন করেছেন। ২০ লক্ষ তো আবেদনই করেনি। তাহলে তাদের ফ্রি রেশন দেব কেন? 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ