নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে এনডিএ জোটের মধ্যে প্রবল মতান্তর। কারণ রাজ্য বিভাজনের ইস্যু ফের মাথাচাড়া দিয়েছে। সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টি উত্তরপ্রদেশে বিজেপির অন্যতম জোটসঙ্গী। এই দলের সুপ্রিমো এবং উত্তরপ্রদেশে যোগী সরকারের অন্যতম মন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভড় বলেছেন, উত্তরপ্রদেশে আজ নয় কাল রাজ্য ভাগ করতেই হবে। সুতরাং সেই প্রক্রিয়া এখন থেকেই শুরু করা উচিত। তিনি বলেছেন, পূর্বাঞ্চল পৃথক রাজ্য হওয়া দরকার। এই দাবি বহুদিনের। এর আগে যখন বিজেপি ক্ষমতাসীন হয়নি, তখন বিজেপিও এই দাবির সপক্ষে ছিল। কিন্তু সরকারে আসার পর থেকে আর বিজেপি কোনও উচ্চবাচ্য করছে না। রাজভড়ের দাবি, পূর্বাঞ্চলে রাজভড় সম্প্রদায়ের সংখ্যা সবথেকে বেশি। অথচ তাদের জন্য কোনও বিশেষ সুরাহা পাওয়া যায় না। এই কারণে পৃথক পূর্বাঞ্চল রাজ্যের দরকার। এতে রাজভড় সমাজের একজন মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন। পূর্বাঞ্চলের রাজধানী হবে বারাণসী।
ওমপ্রকাশ রাজভড়ের এই দাবির মধ্যে একঝাঁক রাজনৈতিক কৌশল লুকিয়ে আছে। তিনি পূর্বাঞ্চলের দাবি তুলে পূর্বাঞ্চলের মানুষের এতদিনের আকাঙ্ক্ষাকে ঠিক ভোটের আগে উসকে দিলেন। আবার রাজভড় সমাজের একজন মুখ্যমন্ত্রী পূর্বাঞ্চল রাজ্যে চাই দাবি করে পরোক্ষে নিজেকেই সেই পদের জন্য প্রজেক্ট করে রাখলেন। আপাতভাবে ক্ষুদ্র আঞ্চলিক দল হলেও এই দলের প্রভাব রয়েছে রাজভড় সমাজের উপর। সেই কারণে একাধিকবার নানা ইস্যুতে অস্বস্তিতে ফেললেও এই জোটসঙ্গীকে একেবারে নস্যাৎ করতে পারে না বিজেপি নেতৃত্ব। ওমপ্রকাশ রাজভড়কে এই কারণে মন্ত্রীও করা হয়েছে উত্তরপ্রদেশে। কিন্তু তিনি ভোটের দিকে তাকিয়ে আসলে বিজেপির সঙ্গে দর কষাকষির রাস্তাই খুলে রাখলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাদের বক্তব্য, আসন নিয়ে টানাটানি করবেন এই ইস্যুতে। কিছু বেশি আসন দাবি করবেন। এরপরই বিদ্রোহ সমাপ্ত হবে। যে কোনও রাজ্যে বৃহৎ পার্টির ছোট শরিক এই কৌশলই নিয়ে থাকে।
বিজেপি অবশ্য রাজভড়ের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। যোগী সরকারের মন্ত্রী দীনেশ প্রতাপ সিং বলেছেন, মোদিজি ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশনের স্লোগান দিয়েছেন। তিনি দেশের ঐক্য বজায় রাখার পক্ষে। রাজ্যকে ভেঙে টুকরো করার কোনও নীতি বিজেপির নেই। এদিকে বিজেপি নিজেই ২০০০ সাল থেকে একের পর এক রাজ্যকে ভেঙে টুকরো করেছে। বস্তুত বিজেপি নীতিগতভাবে ছোট রাজ্যের পক্ষে। উত্তরাখণ্ড, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড সবই বিজেপির আমলে হয়েছে। তেলেঙ্গানা রাজ্যের পক্ষেই ছিল বিজেপি। এখন হঠাৎ উলটো সুর কেন? এই প্রশ্ন উঠছে।