আমেদাবাদ: আরিয়ান রাজপুত, জয়প্রকাশ চৌধুরী ও মানব ভাদু। তিনজনের বাড়ি তিন জায়গায়। আমেদাবাদের বি জে মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়তে এসে পরিচয়। ক্রমেই হয়ে ওঠেন হরিহর আত্মা! সব সময় একসঙ্গে। বৃহস্পতিবার দুপুরে খেতেও বসেছিলেন একইসঙ্গে। রোজকার মতো একই টেবিলে। আচমকাই মেস বিল্ডিংয়ের ছাদে ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার সেই ড্রিমলাইনার বিমান। মুহূর্তে সব শেষ। ডাক্তারি পড়ুয়া এই তিন বন্ধুর মৃত্যুও হল একইসঙ্গে।
আরিয়ান রাজপুতের বাড়ি মধ্যপ্রদেশে। গোয়ালিয়রের জিগসোলি গ্রামে। গত বছর নিট পরীক্ষায় ৬৯৫ নম্বর পেয়ে পড়তে এসেছিলেন আমেদাবাদের বি জে মেডিক্যাল কলেজে। মানব ভাদুর বাড়ি রাজস্থানের হনুমানগড়ে। রাজপুতের মতো তিনিও প্রথম বর্ষের ছাত্র। আর রাজস্থানের বোরিচরণ গ্রাম থেকে পড়তে আসা জয়প্রকাশ চৌধুরী ছিলেন দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। এই বি জে মেডিক্যাল কলেজে পড়তে এসেই তাঁদের পরিচয় ও বন্ধুত্ব। হরিহর আত্মা তিন বন্ধুর এইভাবে একই খাবার টেবিলে একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে আমেদাবাদের এই মেডিক্যাল কলেজের অন্দরে।
এই তিনজনের মতোই বৃহস্পতিবার দুপুরে খাওয়ার সময় মেস বিল্ডিংয়ে বিমান ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে আরও এক ডাক্তারি পড়ুয়ার। দ্বিতীয় বর্ষের সেই ছাত্রের নাম রাকেশ দিয়োরা। বাড়ি গুজরাতের ভাবনগরে। তাঁর শ্যালক অল্পেশ চৌহান বলেন, ঘটনার আগের দিন পর্যন্ত রাকেশ আমেদাবাদে আমার বাড়িতেই ছিল। ১৬ জুন থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। বইপত্র সব হস্টেলে ছিল বলে ফিরে গেল। বিমান দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফোনে ওর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু প্রতিবারই ফোন বেজে গেল। ধরল না। পরে জানতে পারলাম সব শেষ!
এই চার ডাক্তারি পড়ুয়ার মৃত্যু হলেও সৌভগ্যবশত প্রাণে বেঁচে যান এমডি মেডিসিনের প্রথম বর্ষের চিকিৎসক বৈশালী লালওয়ানি। বিমান ভেঙে পড়া ওই মেস বিল্ডিংয়েই রোজকার মতো খেতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু খাওয়ার ইচ্ছা না থাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে আর খেতে যাননি বৈশালী। আর তাতেই প্রাণরক্ষা। বৈশালীর বাবা গোধরায় ব্যাঙ্কে চাকরি করেন। তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমাদের গোটা পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। বিমানটা যে জায়গায় ভেঙে পড়েছে, মেয়ে তো রোজ ওখানেই দুপুরে খেতে যায়! বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও ওর ফোন বেজে যাচ্ছে দেখে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর মেয়ে ফোন ধরল। ধড়ে প্রাণ ফিরল আমাদের।’