Bartaman Logo
৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দলীয় নেতৃত্বের উপর হামলায় তিন নেতা-নেত্রীকে বহিষ্কার

বরানগরে বিজেপির তিন নেতা-নেত্রীকে দলীয় কোন্দলের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল। বিস্তারিত পড়ুন।

দলীয় নেতৃত্বের উপর হামলায় তিন নেতা-নেত্রীকে বহিষ্কার
  • ৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ভোটের ফলাফল বেরতে না বেরতেই দলের বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর নেতা-কর্মীদের বেড়ধক মারধরের অভিযোগ উঠেছিল বিজেপির কয়েকজন নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় নিউ বারাকপুরের তিন নেতা-নেত্রীকে দল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করল বিজেপি। রবিবার বিকালে দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির এই নির্দেশ সামনে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। কারণ, ভোটের আগে মার খাওয়া নেতা-নেত্রীরা থানার দ্বারস্থ হলেও দল কোনো পদক্ষেপ করেনি আজও। তাহলে এক্ষেত্রে এত কড়া পদক্ষেপে কেন করল দল? এই সিদ্ধান্তের পিছনে কাদের কলকাঠি রয়েছে? এমন নানা প্রশ্নে দমদম উত্তর বিধানসভা এলাকায় গেরুয়া শিবিরের অন্দরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দমদম উত্তর বিধানসভা তৈরি হয়েছে নিউ বারাকপুর ও উত্তর দমদম পুরসভা এলাকা নিয়ে। সাংগঠনিকভাবে এই দুই পুরসভায় বিজেপির মোট তিনটি মণ্ডল রয়েছে। নিউ বারাকপুর পুরসভা এলাকাকে নিয়ে ১ নম্বর মণ্ডল, উত্তর দমদমের নিমতা এলাকার জন্য ২ নম্বর মণ্ডল ও বিরাটি এলাকায় ৩ নম্বর মণ্ডল। ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি তিতু সরকার। ওই মণ্ডলের সহসভাপতি পদে রয়েছেন তীর্থ মিত্র। এছাড়া ওই মণ্ডল এলাকার বাসিন্দা তথা উত্তর শহরতলি জেলার সম্পাদক হিসাবে রয়েছেন নিত্য মিত্র। এই তিন নেতাকে চিঠি দিয়ে বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন, হুমকি, দলীয় কর্মীকে নির্মমভাবে প্রহার সহ দলবিরোধী নানা অভিযোগ উঠেছে। যা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দলীয় সংবিধান বিরোধী। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সুপারিশ ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশে এমন অমানবিক আচরণ ও দলবিরোধী কার্যকলাপের জন্য আপনাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বহিষ্কার করা হল।’ তিন নেতাকেই এই বয়ানে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে দলের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে বিস্তর বিতর্ক। গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর, দমদম উত্তর বিধানসভা এলাকায় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভোটের আগেই বিজেপি নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল। এই বিধানসভা এলাকার ২ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি পিঙ্কি পাল সহ বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা আক্রান্ত হয়েছিলেন। অভিযোগ,  বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর লোকেরা মণ্ডল অফিসে ঢুকে বেধড়ক মারধর ও শ্লীলতাহানি করে তাঁর। নিমতা থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। কিন্তু তখন দল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ করেনি। শুধু মণ্ডল নয়, শক্তিকেন্দ্রেও একাধিক গোষ্ঠী। প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার ঝড়ে তৃণমূল উড়ে যাওয়ার পর গেরুয়া শিবিরের ঘরের লড়াই আরও বেড়েছে। কে বড়ো নেতা, কারা আসল বিজেপি, তা প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছেন কেউ কেউ। এই আবহে তিন নেতাকে বহষ্কোরের সিদ্ধান্ত হইচই ফেলে দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এ বিষয়ে বিধায়ক সৌরভ শিকদার বলেন, ‘এটা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত। আমি বিষয়টি শুনেছি। এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে জেলা বা রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। রাজ্য সভাপতির সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানার চেষ্টা করব।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ