সংবাদদাতা, লালবাগ: রবিবার সকালে লালগোলা থানার যশইতলা পঞ্চায়েতের ঠাকুরপাড়া উপর ফতেপুরে তিনটি বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। আগুনে তিনটি বাড়ির আসবাবপত্র, জামাকাপড়, প্রয়োজনীয় নথি সহ সমস্ত জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। গ্রামবাসীরা বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ভগবানগোলার এসডিপিও উত্তম গড়াই বলেন, তিনটি বাড়িতে আগুন লাগে। প্রাথমিকভাবে অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছিল।
আগুন লাগার ঘটনায় লালগোলায় দমকল কেন্দ্রের দাবিতে সরব হয়েছে সর্বস্তরের মানুষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ঠাকুরপাড়া উপর ফতেপুরে সাবিনা খাতুনের বাড়ি থেকে ধোঁয়া বেরতে দেখেন প্রতিবেশীরা। সেই সময় সাবিনা খাতুন গ্রামের এক অনুষ্ঠান বাড়িতে ছিলেন। ঘরে তাঁর অসুস্থ জামাই শুয়ে ছিলেন। প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং ওই যুবককে ঘর থেকে বের করে বাইরে নিয়ে আসেন। মুহূর্তেই আগুন সাবিনা খাতুনের বাড়ি থেকে পাশের সামসের শেখ ও জামাল শেখের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বালতি করে জল এনে এবং পাম্প চালিয়ে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। ঘণ্টা খানেকের চেষ্টায় আগুন নেভানো গেলেও তিনটি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
সাবিনা বলেন, গ্রামের একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে ছিলাম। খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখি সব শেষ হয়ে গিয়েছে। প্রতিবেশীরা অসুস্থ জামাইকে ঘর থেকে বের করে না আনলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যেত। ঘরে রাখা টাকাপয়সা, গয়না, কাগজপত্র সহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। অবশিষ্ট বলে আর কিছু নেই। সামসের শেখ বলেন, পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছু নেই। পঞ্চায়েত ও প্রশাসন সাহায্যের হাত না বাড়ালে পথে এসে দাঁড়াতে হবে।
জামাল শেখ বলেন, লালগোলায় একটা দমকল কেন্দ্রের প্রয়োজন। লালবাগ বা জঙ্গিপুর থেকে দমকলের ইঞ্জিন এসে পৌঁছনোর আগেই সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এখানে দমকল কেন্দ্র থাকলে ক্ষতিটা হয়তো অনেকটাই এড়ানো যেত। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান রাফিনা খাতুন বলেন, পঞ্চায়েতের তরফে টিন, খাদ্যসামগ্রী ও জামাকাপড় দিয়ে প্রাথমিকভাবে তিনটি পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হয়েছে।